০৬:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইউক্রেনে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পাঠানো শুরু ন্যাটোর

⮞ ইরানকে ন্যাটো নেতাদের হুঁশিয়ারি
⮞ পশ্চিমাদের ‘ভণ্ডামি’ ছাড়তে বললেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী

সামরিক জোট ন্যাটো ঘোষণা দিয়েছে, ইউক্রেনের জন্য এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পাঠানো শুরু করেছে তারা। গত বুধবার ন্যাটোর ৭৫তম সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ইউক্রেনকে ন্যাটোতে সদস্যপদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও জোরদার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনের কনভেনশন সেন্টারে ন্যাটোর সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী আনুষ্ঠানিক কর্তৃপক্ষ নর্থ আটলান্টিক কাউন্সিলে বক্তব্য দেন বাইডেন। তিনি বলেন, ন্যাটোর আওতাভুক্ত এলাকার প্রতি ইঞ্চির সুরক্ষা আমরা দিতে পারি এবং পারব। আর একসঙ্গেই আমরা তা করব। ইউক্রেনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পাঠানো শুরু করেছে ডেনমার্ক ও নেদারল্যান্ডস। গত বছর ইউক্রেনকে ন্যাটো যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেটিই বাস্তবায়নের ইঙ্গিত এটি। এর আগে বাইডেন ইউক্রেনের জন্য নতুন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ঘোষণা করেন। তিনি বলেছেন, জার্মানিতে নিয়মিত বিরতিতে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে। রাশিয়ার সামরিক উৎপাদনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলার জন্য ন্যাটোর নেতাদের আহ্বান জানিয়েছেন বাইডেন। এদিকে বুধবার সন্ধ্যায় ন্যাটোর নেতাদের জন্য নৈশভোজের আয়োজন করেন বাইডেন। তবে মেঘলা আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত ফ্লাইপাস্ট বাতিল করা হয়।

ইরানকে ন্যাটো নেতাদের হুঁশিয়ারি
ইরানকে কড়া হুঁশিয়ার বার্তা দিলেন মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমাদের সামরিক জোট ন্যাটোর নেতারা। রাশিয়াকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের বিরুদ্ধে সামরিক এই জোট গত বুধবার ইরানকে সতর্ক করেছে। ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ইরান ইন্টারন্যাশনালের খবরে বলা হয়েছে, রাশিয়াকে শত শত কামিকাজে ড্রোন সরবরাহ করেছে ইরান। বিভিন্ন রিপোর্টে আরও বলা হয়, ইরান রাশিয়াকে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ বাড়ানোর কথা ভাবছে।
ন্যাটোর নেতারা অভিযোগ করেন, সরাসরি সামরিক সহায়তার মাধ্যমে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার আগ্রাসনের যুদ্ধে ইন্ধন জোগাচ্ছে ইরান। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে জানায়, ইরান রাশিয়াকে বিপুলসংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে। তবে ইরান বরাবরই অস্বীকার করে আসছে যে, তারা রাশিয়ায় কোনো অস্ত্র সরবরাহ করছে না। এরই মধ্যে ন্যাটো নেতাদের পক্ষ থেকে এমন বার্তা এলো।

পশ্চিমাদের ‘ভণ্ডামি’ ছাড়তে বললেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী
এবারের ন্যাটো সম্মেলনে ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য রাশিয়ার তীব্র সমালোচনা করে কিয়েভকে একঝাঁক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে পশ্চিমারা। কিন্তু ফিলিস্তিন ইস্যুতে বরাবরের মতোই চুপ তারা। ব্যতিক্রম কেবল স্পেন। গত বুধবার ওয়াশিংটনে ৭৫তম ন্যাটো সম্মেলনে ঝাঁঝাল বক্তব্য রেখেছেন স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। ইউক্রেন ইস্যুতে সোচ্চার, আর ফিলিস্তিন ইস্যুতে চুপ থাকায় ন্যাটো নেতাদের ‘ভণ্ড’ বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি। কিছুদিন আগেই ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়েছে স্পেন। গাজায় নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ চালানোয় ইসরায়েলি সরকারের কঠোর সমালোচনাও করেছে তারা।
ন্যাটো সম্মেলনে পশ্চিমা নেতাদের উদ্দেশে স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি জনগণকে বলি, আন্তর্জাতিক আইন রক্ষার জন্য আমরা ইউক্রেনকে সমর্থন করছি, তাহলে গাজার প্রতিও আমাদের করণীয় একই। আমাদের একটি ‘সামঞ্জস্যপূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থানে’ থাকা উচিত, যেখানে কোনো ‘দ্বিচারিতা’ থাকবে না। ফিলিস্তিনিদের ‘এই ভয়ানক মানবিক সংকট বন্ধ করতে’ বিশ্বকে চাপ দেওয়া দরকার। আমাদের অবিলম্বে এবং জরুরিভিত্তিতে যুদ্ধবিরতির জন্য শর্ত তৈরি করতে হবে। লেবাননে সংঘাত বৃদ্ধির ‘সত্যিকারের ঝুঁকি’ রয়েছে। ‘গণতন্ত্র, স্বাধীনতা এবং ইউক্রেনের মতো একটি দেশের অস্তিত্বের অধিকারকেও সমর্থন করেন’ তিনি। ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের জন্য একটি আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনের আহ্বান জানান তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

৫ মাসেও উদ্ধার হয়নি পুলিশের সেই ‘হ্যান্ডকাফ’

ইউক্রেনে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পাঠানো শুরু ন্যাটোর

আপডেট সময় : ০৮:২৬:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই ২০২৪

⮞ ইরানকে ন্যাটো নেতাদের হুঁশিয়ারি
⮞ পশ্চিমাদের ‘ভণ্ডামি’ ছাড়তে বললেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী

সামরিক জোট ন্যাটো ঘোষণা দিয়েছে, ইউক্রেনের জন্য এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পাঠানো শুরু করেছে তারা। গত বুধবার ন্যাটোর ৭৫তম সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ইউক্রেনকে ন্যাটোতে সদস্যপদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও জোরদার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনের কনভেনশন সেন্টারে ন্যাটোর সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী আনুষ্ঠানিক কর্তৃপক্ষ নর্থ আটলান্টিক কাউন্সিলে বক্তব্য দেন বাইডেন। তিনি বলেন, ন্যাটোর আওতাভুক্ত এলাকার প্রতি ইঞ্চির সুরক্ষা আমরা দিতে পারি এবং পারব। আর একসঙ্গেই আমরা তা করব। ইউক্রেনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পাঠানো শুরু করেছে ডেনমার্ক ও নেদারল্যান্ডস। গত বছর ইউক্রেনকে ন্যাটো যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেটিই বাস্তবায়নের ইঙ্গিত এটি। এর আগে বাইডেন ইউক্রেনের জন্য নতুন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ঘোষণা করেন। তিনি বলেছেন, জার্মানিতে নিয়মিত বিরতিতে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে। রাশিয়ার সামরিক উৎপাদনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলার জন্য ন্যাটোর নেতাদের আহ্বান জানিয়েছেন বাইডেন। এদিকে বুধবার সন্ধ্যায় ন্যাটোর নেতাদের জন্য নৈশভোজের আয়োজন করেন বাইডেন। তবে মেঘলা আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত ফ্লাইপাস্ট বাতিল করা হয়।

ইরানকে ন্যাটো নেতাদের হুঁশিয়ারি
ইরানকে কড়া হুঁশিয়ার বার্তা দিলেন মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমাদের সামরিক জোট ন্যাটোর নেতারা। রাশিয়াকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের বিরুদ্ধে সামরিক এই জোট গত বুধবার ইরানকে সতর্ক করেছে। ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ইরান ইন্টারন্যাশনালের খবরে বলা হয়েছে, রাশিয়াকে শত শত কামিকাজে ড্রোন সরবরাহ করেছে ইরান। বিভিন্ন রিপোর্টে আরও বলা হয়, ইরান রাশিয়াকে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ বাড়ানোর কথা ভাবছে।
ন্যাটোর নেতারা অভিযোগ করেন, সরাসরি সামরিক সহায়তার মাধ্যমে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার আগ্রাসনের যুদ্ধে ইন্ধন জোগাচ্ছে ইরান। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে জানায়, ইরান রাশিয়াকে বিপুলসংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে। তবে ইরান বরাবরই অস্বীকার করে আসছে যে, তারা রাশিয়ায় কোনো অস্ত্র সরবরাহ করছে না। এরই মধ্যে ন্যাটো নেতাদের পক্ষ থেকে এমন বার্তা এলো।

পশ্চিমাদের ‘ভণ্ডামি’ ছাড়তে বললেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী
এবারের ন্যাটো সম্মেলনে ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য রাশিয়ার তীব্র সমালোচনা করে কিয়েভকে একঝাঁক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে পশ্চিমারা। কিন্তু ফিলিস্তিন ইস্যুতে বরাবরের মতোই চুপ তারা। ব্যতিক্রম কেবল স্পেন। গত বুধবার ওয়াশিংটনে ৭৫তম ন্যাটো সম্মেলনে ঝাঁঝাল বক্তব্য রেখেছেন স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। ইউক্রেন ইস্যুতে সোচ্চার, আর ফিলিস্তিন ইস্যুতে চুপ থাকায় ন্যাটো নেতাদের ‘ভণ্ড’ বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি। কিছুদিন আগেই ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়েছে স্পেন। গাজায় নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ চালানোয় ইসরায়েলি সরকারের কঠোর সমালোচনাও করেছে তারা।
ন্যাটো সম্মেলনে পশ্চিমা নেতাদের উদ্দেশে স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি জনগণকে বলি, আন্তর্জাতিক আইন রক্ষার জন্য আমরা ইউক্রেনকে সমর্থন করছি, তাহলে গাজার প্রতিও আমাদের করণীয় একই। আমাদের একটি ‘সামঞ্জস্যপূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থানে’ থাকা উচিত, যেখানে কোনো ‘দ্বিচারিতা’ থাকবে না। ফিলিস্তিনিদের ‘এই ভয়ানক মানবিক সংকট বন্ধ করতে’ বিশ্বকে চাপ দেওয়া দরকার। আমাদের অবিলম্বে এবং জরুরিভিত্তিতে যুদ্ধবিরতির জন্য শর্ত তৈরি করতে হবে। লেবাননে সংঘাত বৃদ্ধির ‘সত্যিকারের ঝুঁকি’ রয়েছে। ‘গণতন্ত্র, স্বাধীনতা এবং ইউক্রেনের মতো একটি দেশের অস্তিত্বের অধিকারকেও সমর্থন করেন’ তিনি। ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের জন্য একটি আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনের আহ্বান জানান তিনি।