০৩:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বর্জ্য থেকে বিদ্যুতের নতুন সম্ভাবনা

❖ ব্যর্জ থেকে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাবে
❖ প্রতিদিন ৩ হাজার টন বর্জ্য সরবরাহ করতে হবে
❖ ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে উৎপাদন প্ল্যান্ট
❖ পুরোানো প্রকল্প বাতিলের পর কাজ চালাচ্ছে চীনা প্রতিষ্ঠান সিএমইসি

➤ নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের ক্ষেত্রে নতুন দ্বার উন্মোচন করবে➺ নসরুল হামিদ, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী
➤ পরিবেশগত দিক থেকে এটি ক্ষতিকর➺ ড. ইজাজ হোসেন, সাবেক অধ্যাপক, বুয়েট
➤ আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কাজ শুরু হবে➺ নীরদ চন্দ্র মন্ডল, যুগ্ম সচিব, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিভাগ

ঢাকা মহানগরীর বর্জ্য থেকে হবে বিদ্যুৎ উৎপাদন। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে একেবারেই নতুন। তবে বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে যেসব দেশ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় মুনশিয়ানা দেখিয়েছে, তাদের জ্বালানির একটি বড় উৎসই এই বর্জ্য। এবার সেই পথে হাঁটছে ঢাকা উত্তর সিটি। আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্ল্যান্ট নির্মিত হতে যাচ্ছে। বর্জ্য পুড়িয়ে এখানেই তৈরি হবে জ্বালানি। এতে যেমন কম দামে মিলবে বিদ্যুৎ তেমনি নগরবাসী মুক্তি পাবে যত্রতত্র আবর্জনার স্তূপ থেকে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্মার্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হবে। বর্জ্য রূপান্তরিত হবে সম্পদে। সেই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়ে উঠবে। এই প্রকল্প হবে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব। রাজধানীর প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে সারা দেশে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এমন পরিকল্পনা গ্রহণের লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
দেশে প্রচুর বর্জ্য হচ্ছে কিন্তু সেগুলো ব্যবহার হচ্ছে না। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে ২০২১ সালে চায়না মেশিনারিজ ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের সঙ্গে স্থানীয় সরকার বিভাগ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের চুক্তি হয়। ওই চুক্তির আওতায় চীনা ওই কোম্পানিকে আমিন বাজারে ৩০ একর জমি দেওয়া হবে। সেজন্য ৩৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে আমিন বাজারে ৩০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ওই সময় বলা হয়, শুধু আমিনবাজারেই নয়, দেশজুড়ে এ রকম অন্তত আরও ৪টি বর্জ্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এরই ধারাবাহিকতায় শুরু হয় নারায়ণগঞ্জের জালকুড়িতে একই রকম আরেকটি প্রকল্পের কাজ। কিন্তু নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান চীনের কনসোর্টিয়াম অব ইউডি এনভায়রনমেন্টাল ইকুইপমেন্ট টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেড কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে প্রকল্পটি বাতিল করা হয়েছে। এই কেন্দ্রের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশে এটিই প্রথম এ ধরনের প্রকল্প। ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণকাজ করবে চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (সিএমইসি)। এর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৩২৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, যা ২০২০ সালের ১২ নভেম্বর সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত কমিটিতে চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।
জানা যায়, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং প্রক্রিয়াকরণ কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাইভেট সেক্টর পাওয়ার জেনারেশন পলিসির আওতায় বিওও ভিত্তিতে আইপিপি হিসেবে চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (সিএমইসি) ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার বর্জ্য বিদ্যুৎকেন্দ্রে ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট’ এর ভিত্তিতে ইনসিনারেশন পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে, যা আর্থিক সমাপনী হিসাবের চূড়ান্তকরণের দিন থেকে ২৪ মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। ২৫ বছর মেয়াদি এ চুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে স্পন্সর কোম্পানি নিজ ঝুঁকিতে প্লান্ট স্থাপন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বহন এবং বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিক্রির মাধ্যমে তাদের ব্যয় নির্বাহ করবে। এতে সিটি করপোরেশন প্লান্ট স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জমির সংস্থান এবং নিয়মিত বর্জ্য সরবরাহ করবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, প্লান্টটি চালু হলে সেখানে প্রতিদিন ৩ হাজার টন বর্জ্য সরবরাহ করতে হবে। এ পরিমাণ বর্জ্য সরবরাহ করতে না পারলে উত্তর সিটি করপোরেশনকে প্রতি টন ঘাটতি বর্জ্যরে জন্য ১ হাজার টাকা হারে স্পন্সর কোম্পানিকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। যেহেতু প্রতিদিন ৩ হাজার টন বর্জ্য প্রয়োজন হবে তাই এ পরিমাণ বর্র্জ্য সংগ্রহ করতে হলে আর যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকবে না। এ প্রক্রিয়ায় বর্জ্য প্রায় সম্পূর্ণরূপে দহন করে বর্জ্যরে আয়তন প্রায় ৯০ শতাংশ হ্রাস করা সম্ভব এবং এর ফলে বর্র্জ্য ফেলার জমির চাহিদাও হ্রাস পাবে।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির সম্ভাবনার বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী, উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম প্রকল্পের বিষয়ে সেসময় বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় এ রকম প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ঢাকা শহরের অন্যতম সমস্যা বর্র্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ গ্রহণ করি। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দফায় দফায় সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক সভা করেছি। এই প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়ন হলে দেশের সব সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং জেলা পর্যায়ে ইনসিনারেশন পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে সরকার।
এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুতের জন্য নতুন দ্বার উন্মোচন হবে বলে দাবি করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, বর্তমানে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে তা যথেষ্ট নয়। জল, সৌর, তাপ ও বায়ু থেকে এরইমধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। আর এবার বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। এতে করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য থেকে চীনা কোম্পানি নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের ক্ষেত্রে নতুন দ্বার উন্মোচন করবে বলে আমি মনে করি।
এ বিষয়ে জনাতে চাইলে বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, আমাদের দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মারাত্মক দুর্বল। যার ফলে এটি আমাদের জন্য ভালো। পরিবেশগত দিক থেকে দেখলে এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। যেহেতু এটি পুড়িয়ে করা উৎপাদন করতে হবে। জৈব পদার্থগুলোকে যদি আমরা এই পদ্ধতিতে না গিয়ে কম্পোস সার উৎপাদন করতে পারতাম তাহলে এটি আমাদের জন্য আরও উপকার হতো। আমাদের দেশে জৈব সারের অভাব। এগুলো যদি আমরা সার বানাতাম তাহলে আমাদের সার ইম্পোর্ট কম করতে হতো। বর্তমানে উন্নত বিশ^গুলো এখন বর্জ্যকে না পুড়িয়ে বিকল্প পদ্ধতিতে কাজ করছে। কিন্তু আমাদের এখানে পুড়িয়ে উৎপাদনের দিকে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ আমাদের মূল বিষয় না, বিষয়টি হচ্ছে বর্জ্যরে অব্যবস্থাপনা থেকে মুক্ত হবে। এটি পোড়াতে হলে প্রাকৃতিক গ্যাস দিয়ে পুড়াতে হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব নীরদ চন্দ্র মন্ডল বলেন, প্রকল্পটি নিয়ে আমরা আশাবাদী। সরকার পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষায় যেসব প্রকল্প এটি তার একটি। এর আদলে সারা দেশের পৌরসভা ও গ্রামে এই কাজ করার পরিকল্পনা। আমিনবাজারের বর্জ্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ইতোমধ্যে জমি হস্তান্তর হয়ে গেছে। আশা করছি, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কাজ শুরু হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বর্জ্য থেকে বিদ্যুতের নতুন সম্ভাবনা

আপডেট সময় : ০৩:৪২:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪

❖ ব্যর্জ থেকে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাবে
❖ প্রতিদিন ৩ হাজার টন বর্জ্য সরবরাহ করতে হবে
❖ ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে উৎপাদন প্ল্যান্ট
❖ পুরোানো প্রকল্প বাতিলের পর কাজ চালাচ্ছে চীনা প্রতিষ্ঠান সিএমইসি

➤ নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের ক্ষেত্রে নতুন দ্বার উন্মোচন করবে➺ নসরুল হামিদ, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী
➤ পরিবেশগত দিক থেকে এটি ক্ষতিকর➺ ড. ইজাজ হোসেন, সাবেক অধ্যাপক, বুয়েট
➤ আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কাজ শুরু হবে➺ নীরদ চন্দ্র মন্ডল, যুগ্ম সচিব, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিভাগ

ঢাকা মহানগরীর বর্জ্য থেকে হবে বিদ্যুৎ উৎপাদন। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে একেবারেই নতুন। তবে বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে যেসব দেশ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় মুনশিয়ানা দেখিয়েছে, তাদের জ্বালানির একটি বড় উৎসই এই বর্জ্য। এবার সেই পথে হাঁটছে ঢাকা উত্তর সিটি। আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্ল্যান্ট নির্মিত হতে যাচ্ছে। বর্জ্য পুড়িয়ে এখানেই তৈরি হবে জ্বালানি। এতে যেমন কম দামে মিলবে বিদ্যুৎ তেমনি নগরবাসী মুক্তি পাবে যত্রতত্র আবর্জনার স্তূপ থেকে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্মার্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হবে। বর্জ্য রূপান্তরিত হবে সম্পদে। সেই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়ে উঠবে। এই প্রকল্প হবে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব। রাজধানীর প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে সারা দেশে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এমন পরিকল্পনা গ্রহণের লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
দেশে প্রচুর বর্জ্য হচ্ছে কিন্তু সেগুলো ব্যবহার হচ্ছে না। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে ২০২১ সালে চায়না মেশিনারিজ ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের সঙ্গে স্থানীয় সরকার বিভাগ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের চুক্তি হয়। ওই চুক্তির আওতায় চীনা ওই কোম্পানিকে আমিন বাজারে ৩০ একর জমি দেওয়া হবে। সেজন্য ৩৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে আমিন বাজারে ৩০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ওই সময় বলা হয়, শুধু আমিনবাজারেই নয়, দেশজুড়ে এ রকম অন্তত আরও ৪টি বর্জ্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এরই ধারাবাহিকতায় শুরু হয় নারায়ণগঞ্জের জালকুড়িতে একই রকম আরেকটি প্রকল্পের কাজ। কিন্তু নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান চীনের কনসোর্টিয়াম অব ইউডি এনভায়রনমেন্টাল ইকুইপমেন্ট টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেড কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে প্রকল্পটি বাতিল করা হয়েছে। এই কেন্দ্রের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশে এটিই প্রথম এ ধরনের প্রকল্প। ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণকাজ করবে চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (সিএমইসি)। এর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৩২৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, যা ২০২০ সালের ১২ নভেম্বর সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত কমিটিতে চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।
জানা যায়, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং প্রক্রিয়াকরণ কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাইভেট সেক্টর পাওয়ার জেনারেশন পলিসির আওতায় বিওও ভিত্তিতে আইপিপি হিসেবে চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (সিএমইসি) ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার বর্জ্য বিদ্যুৎকেন্দ্রে ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট’ এর ভিত্তিতে ইনসিনারেশন পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে, যা আর্থিক সমাপনী হিসাবের চূড়ান্তকরণের দিন থেকে ২৪ মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। ২৫ বছর মেয়াদি এ চুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে স্পন্সর কোম্পানি নিজ ঝুঁকিতে প্লান্ট স্থাপন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বহন এবং বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিক্রির মাধ্যমে তাদের ব্যয় নির্বাহ করবে। এতে সিটি করপোরেশন প্লান্ট স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জমির সংস্থান এবং নিয়মিত বর্জ্য সরবরাহ করবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, প্লান্টটি চালু হলে সেখানে প্রতিদিন ৩ হাজার টন বর্জ্য সরবরাহ করতে হবে। এ পরিমাণ বর্জ্য সরবরাহ করতে না পারলে উত্তর সিটি করপোরেশনকে প্রতি টন ঘাটতি বর্জ্যরে জন্য ১ হাজার টাকা হারে স্পন্সর কোম্পানিকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। যেহেতু প্রতিদিন ৩ হাজার টন বর্জ্য প্রয়োজন হবে তাই এ পরিমাণ বর্র্জ্য সংগ্রহ করতে হলে আর যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকবে না। এ প্রক্রিয়ায় বর্জ্য প্রায় সম্পূর্ণরূপে দহন করে বর্জ্যরে আয়তন প্রায় ৯০ শতাংশ হ্রাস করা সম্ভব এবং এর ফলে বর্র্জ্য ফেলার জমির চাহিদাও হ্রাস পাবে।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির সম্ভাবনার বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী, উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম প্রকল্পের বিষয়ে সেসময় বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় এ রকম প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ঢাকা শহরের অন্যতম সমস্যা বর্র্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ গ্রহণ করি। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দফায় দফায় সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক সভা করেছি। এই প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়ন হলে দেশের সব সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং জেলা পর্যায়ে ইনসিনারেশন পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে সরকার।
এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুতের জন্য নতুন দ্বার উন্মোচন হবে বলে দাবি করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, বর্তমানে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে তা যথেষ্ট নয়। জল, সৌর, তাপ ও বায়ু থেকে এরইমধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। আর এবার বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। এতে করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য থেকে চীনা কোম্পানি নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের ক্ষেত্রে নতুন দ্বার উন্মোচন করবে বলে আমি মনে করি।
এ বিষয়ে জনাতে চাইলে বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, আমাদের দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মারাত্মক দুর্বল। যার ফলে এটি আমাদের জন্য ভালো। পরিবেশগত দিক থেকে দেখলে এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। যেহেতু এটি পুড়িয়ে করা উৎপাদন করতে হবে। জৈব পদার্থগুলোকে যদি আমরা এই পদ্ধতিতে না গিয়ে কম্পোস সার উৎপাদন করতে পারতাম তাহলে এটি আমাদের জন্য আরও উপকার হতো। আমাদের দেশে জৈব সারের অভাব। এগুলো যদি আমরা সার বানাতাম তাহলে আমাদের সার ইম্পোর্ট কম করতে হতো। বর্তমানে উন্নত বিশ^গুলো এখন বর্জ্যকে না পুড়িয়ে বিকল্প পদ্ধতিতে কাজ করছে। কিন্তু আমাদের এখানে পুড়িয়ে উৎপাদনের দিকে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ আমাদের মূল বিষয় না, বিষয়টি হচ্ছে বর্জ্যরে অব্যবস্থাপনা থেকে মুক্ত হবে। এটি পোড়াতে হলে প্রাকৃতিক গ্যাস দিয়ে পুড়াতে হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব নীরদ চন্দ্র মন্ডল বলেন, প্রকল্পটি নিয়ে আমরা আশাবাদী। সরকার পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষায় যেসব প্রকল্প এটি তার একটি। এর আদলে সারা দেশের পৌরসভা ও গ্রামে এই কাজ করার পরিকল্পনা। আমিনবাজারের বর্জ্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ইতোমধ্যে জমি হস্তান্তর হয়ে গেছে। আশা করছি, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কাজ শুরু হবে।