০৫:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বেশিদিন বাঁচতে চাইলে হাঁটতে হবে

➤ পৃথিবীতে মানুষ দিনে গড়ে চার হাজার ৯৬১ কদম হাঁটে
➤ সবচেয়ে বেশি হাঁটে হংকংয়ের মানুষ
➤ সবচেয়ে কম হাঁটে ইন্দোনেশিয়ার মানুষ
➤ মাত্র ৩০ মিনিট হাঁটলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে
➤ দেশে শুধু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখ

বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগে মৃত্যুর হার দিন দিন বাড়ছে। আর এই অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে হাঁটাকে গুরুত্ব দেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, দেশের মানুষের মধ্যে হাঁটার প্রবণতা বাড়লে কমবে অসংক্রামক রোগের মাত্রা। বাংলাদেশের গবেষক, সাংবাদিক আফসান চৌধুরী নিয়মিত হাঁটেন। হাঁটার পথের দূরত্বে নিজ ক্যাম্পাসে যান, বাজার করেন। আবার শরীর সুস্থ রাখতে সকাল বিকাল হাঁটেন।

যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসক মিচেল রইজেনের বয়স ৭৮ বছর। কিন্তু তাকে দেখতে লাগে ৫৮। কারণ আর কিছুই নয়, ওহাইও রাজ্যের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকে চিফ ওয়েলনেস কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত মিচেল নিজের সুস্থতার জন্য প্রতি সপ্তাহে অন্তত তিনবার ৪৮ মিনিট সময় ব্যয় করেন। মূলত এই সময়টিতে তিনি ট্রেডমিল কিংবা সাইক্লিং করে সময় কাটান। পাশাপাশি তিনি প্রতিদিন ১০ হাজার কদম ফেলার চেষ্টা করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফরেস্ট গাম্প অনেকের কাছেই পরিচিত। সে তার প্রেমিকা জেনির চলে যাওয়ার পর নিজের কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে রাস্তায় হাঁটা শুরু করে। সেই হাঁটার কারণে একসময় সে বিখ্যাত হয়ে ওঠে।

এমনি হাঁটাপ্রিয় মানুষের সংখ্যা নেহায়েত কম নয় পৃথিবী জুড়ে। তবে, এই হাঁটাপাগল মানুষদের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা’র তথ্যানুযায়ী, বর্তমান বিশে^র প্রতি ৩ জনের একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি এবং ৮০ শতাংশ কিশোর-কিশোরী প্রয়োজনীয় শারীরিক পরিশ্রম করেননা। আর বাংলাদেশে যে এই সংখ্যাটা কমছে তার প্রমাণ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ২০২৩ সালে প্রকাশিত ডায়াবেটিস চিকিৎসার জাতীয় নির্দেশিকায় দেয়া তথ্য। এতে বলা হয়েছে, ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে অষ্টম। বাংলাদেশে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখ। সেন্টার ফর গ্লোবাল হেলথ রিসার্চ, বিএডিএএস এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ এর তথ্যানুযায়ী, যারা দিনে ৩০ মিনিটের বেশি হাঁটেন না এবং স্থূলতা নিয়ন্ত্রণ করেন না, তাদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেশি। তবে, দেশে হওয়া ৭০ শতাংশ ডায়াবেটিস প্রতিরোধযোগ্য।

বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বিশে^র মধ্যে সবচেয়ে বেশি হাঁটে হংকং এর নাগরিকেরা। তারা প্রতিদিন গড়ে ছয় হাজার ৮৮০ কদম হাঁটেন। আর সবচেয়ে কম হাঁটেন ইন্দোনেশিয়ার বাসিন্দারা। প্রতিদিন তারা গড়ে তিন হাজার ৫১৩ কদম হাঁটেন। এই গবেষণায় বলা হয়েছেন, পৃথিবীতে মানুষ দিনে গড়ে চার হাজার ৯৬১ কদম হাঁটে। জিরো সায়েন্স প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটার কারণে হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখা, টাইপ-টু ডায়াবেটিস থেকে দূরে থাকা, মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখা ও আয়ু বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ৩০ মিনিট করে হাঁটলে শরীরের স্নায়ু পদ্ধতি উন্নত হয়। সেই সঙ্গে রাগ, ক্ষোভ- এই ধরনের অনুভূতি কমাতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত ক্যালরি কমে। ওজন নিয়ন্ত্রণ করে। হজম শক্তি বাড়ায়। কৌষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। পায়ের পেশি মজবুত করে। উচ্চ রক্তচাপ কমায়। হৃদযন্ত্র ভাল রাখে। এছাড়া প্রতিবেশী, বন্ধু কিংবা সঙ্গীর সঙ্গে নিয়মিত হাঁটলে সম্পর্ক উন্নত হয়। ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জার্নাল অফ এক্সপেরিমেন্টাল সাইকোলজি’তে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে দেখা গেছে, বসে থাকার তুলনায় যারা নিয়মিত হাঁটেন তারা অন্যদের তুলনায় বেশি সৃষ্টিশীল হন।

রাজধানী ঢাকায় যারা পায়ে হেঁটে চলাচল করেন, তাদের বিভিন্ন ধরণের বিরুপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। হাঁটার উপযোগী পরিবেশ না থাকা এর মধ্যে অন্যতম একটি কারণ। বেশিরভাগ মানুষই মনে করে যারা পায়ে হেঁেট চলাচল করেন তারা দরিদ্র। তবে, দারিদ্রতার সঙ্গে নয়, হাঁটার সঙ্গে সুস্বাস্থ্যের সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করেন পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ভাল রাখার জন্য আমাদের অবশ্যই হাঁটা প্রয়োজন। আর নগরবাসী যেন সুন্দরভাবে রাস্তায় হাঁটতে পারে সেজন্য পরিবেশ সৃষ্টি করার দায়িত্ব নগর কর্তৃপক্ষের।
তবে, নগরীতে হাঁটার তেমন পরিবেশ নেই মনে করেন সাংবাদিক মোহাম্মদ ইমরান হাসান। তিনি দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, রাজধানীতে হাঁটার যায়গাটা খুব কম। এত বেশি ভবনগুলো হয়েছে এবং এত বেশি ডেভেলপার এবং বিল্ডিংগুলো এগুলো ভরাট হয়ে হাঁটার যায়গাটা অনেক বেশি সংকুচিত হয়ে গেছে। এ কারণে মানুষের হাঁটার প্রতি আগ্রহটা কম। এছাড়া মানুষের হাঁটার প্রতি আগ্রহ কমের আরেকটা কারণ দেখছি, মোবাইল ডিভাইসগুলো। ছেলেমেয়ে, শিক্ষিত-অশিক্ষিত সবার হাতেই এখন এন্ড্রয়েড মোবাইল এবং সবার হাতেই এখন ইন্টারনেট। একটা গান বা ক্লিপ পেলেই তারা ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দেয় যে কারণে হাঁটার প্রবণতাটা মানুষের কমে গেছে। আগ্রহটা নাই। সিনিয়র সাংবাদিক আফসান চৌধুরী বলেন, আমাকে একজন রিকশাচালক বলেছে আপনার মতো কয়েকজন মানুষ আছে যারা হাঁটে। এই কথাটায় বোঝা যায়, এই শহরে হেঁটে পথচলা মানুষের সংখ্যা অনেক কম।

নিজের সুস্থতার জন্য হাঁটাকে গুরুত্ব দেন সাংবাদিক মোহাম্মদ ইমরান হাসান। তিনি দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, আমার হাঁটার কারণ হচ্ছে এক ধরণের চাপে পড়ে। কারণ আমার শরীরে গত এক বছর ধরে দেখছি কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়েছে এবং আমার শরীরে মেদ বেড়েছে। স্বাস্থ্যটা একটু তুলনামূলক বাড়তি। যে কারণে আমি আধা ঘন্টা থেকে চল্লিশ মিনিট হাঁটি। বিশেষ করে বিকেল পাঁচটার পরে হাঁটি এবং সপ্তাহে দুই-তিনদিন আমি ক্রিকেট খেলি। ছোটদের সাথে, বড়দের সাথে যাদের যেখানে পাই মাঠে, আমার কাজ হচ্ছে ঘাম ঝরানো। আমার ঘাম ঝরানোর একটা চ্যালেঞ্জ নিয়ে আমি নেমেছি, যে কারণে প্রতিদিন আমি বিকেল বেলা ক্রিকেট খেলি। বিকেল পাঁচটার পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমি ঘাম ঝরানোর জন্য হাঁটি এবং ক্রিকেট খেলি। আর একটা ব্যাপার আমার হয়েছে, কম হাঁটার কারণে আমার বডিতে লিভার ফ্যাট জমে গেছে। লিভার ফ্যাট জমে যাওয়াতে ৩০-৪০ মিনিট আপনি হাঁটবেন। দ্রুত গতিতে হাঁটবেন যেন আপনার শরীর দিয়ে কিছুটা হলেও ঘাম বের হয়। ওরকম হাঁটা। আমি এখন এটাই প্র্যাকটিস করছি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বেশিদিন বাঁচতে চাইলে হাঁটতে হবে

আপডেট সময় : ০২:২১:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুলাই ২০২৪

➤ পৃথিবীতে মানুষ দিনে গড়ে চার হাজার ৯৬১ কদম হাঁটে
➤ সবচেয়ে বেশি হাঁটে হংকংয়ের মানুষ
➤ সবচেয়ে কম হাঁটে ইন্দোনেশিয়ার মানুষ
➤ মাত্র ৩০ মিনিট হাঁটলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে
➤ দেশে শুধু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখ

বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগে মৃত্যুর হার দিন দিন বাড়ছে। আর এই অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে হাঁটাকে গুরুত্ব দেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, দেশের মানুষের মধ্যে হাঁটার প্রবণতা বাড়লে কমবে অসংক্রামক রোগের মাত্রা। বাংলাদেশের গবেষক, সাংবাদিক আফসান চৌধুরী নিয়মিত হাঁটেন। হাঁটার পথের দূরত্বে নিজ ক্যাম্পাসে যান, বাজার করেন। আবার শরীর সুস্থ রাখতে সকাল বিকাল হাঁটেন।

যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসক মিচেল রইজেনের বয়স ৭৮ বছর। কিন্তু তাকে দেখতে লাগে ৫৮। কারণ আর কিছুই নয়, ওহাইও রাজ্যের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকে চিফ ওয়েলনেস কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত মিচেল নিজের সুস্থতার জন্য প্রতি সপ্তাহে অন্তত তিনবার ৪৮ মিনিট সময় ব্যয় করেন। মূলত এই সময়টিতে তিনি ট্রেডমিল কিংবা সাইক্লিং করে সময় কাটান। পাশাপাশি তিনি প্রতিদিন ১০ হাজার কদম ফেলার চেষ্টা করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফরেস্ট গাম্প অনেকের কাছেই পরিচিত। সে তার প্রেমিকা জেনির চলে যাওয়ার পর নিজের কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে রাস্তায় হাঁটা শুরু করে। সেই হাঁটার কারণে একসময় সে বিখ্যাত হয়ে ওঠে।

এমনি হাঁটাপ্রিয় মানুষের সংখ্যা নেহায়েত কম নয় পৃথিবী জুড়ে। তবে, এই হাঁটাপাগল মানুষদের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা’র তথ্যানুযায়ী, বর্তমান বিশে^র প্রতি ৩ জনের একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি এবং ৮০ শতাংশ কিশোর-কিশোরী প্রয়োজনীয় শারীরিক পরিশ্রম করেননা। আর বাংলাদেশে যে এই সংখ্যাটা কমছে তার প্রমাণ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ২০২৩ সালে প্রকাশিত ডায়াবেটিস চিকিৎসার জাতীয় নির্দেশিকায় দেয়া তথ্য। এতে বলা হয়েছে, ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে অষ্টম। বাংলাদেশে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখ। সেন্টার ফর গ্লোবাল হেলথ রিসার্চ, বিএডিএএস এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ এর তথ্যানুযায়ী, যারা দিনে ৩০ মিনিটের বেশি হাঁটেন না এবং স্থূলতা নিয়ন্ত্রণ করেন না, তাদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেশি। তবে, দেশে হওয়া ৭০ শতাংশ ডায়াবেটিস প্রতিরোধযোগ্য।

বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বিশে^র মধ্যে সবচেয়ে বেশি হাঁটে হংকং এর নাগরিকেরা। তারা প্রতিদিন গড়ে ছয় হাজার ৮৮০ কদম হাঁটেন। আর সবচেয়ে কম হাঁটেন ইন্দোনেশিয়ার বাসিন্দারা। প্রতিদিন তারা গড়ে তিন হাজার ৫১৩ কদম হাঁটেন। এই গবেষণায় বলা হয়েছেন, পৃথিবীতে মানুষ দিনে গড়ে চার হাজার ৯৬১ কদম হাঁটে। জিরো সায়েন্স প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটার কারণে হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখা, টাইপ-টু ডায়াবেটিস থেকে দূরে থাকা, মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখা ও আয়ু বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ৩০ মিনিট করে হাঁটলে শরীরের স্নায়ু পদ্ধতি উন্নত হয়। সেই সঙ্গে রাগ, ক্ষোভ- এই ধরনের অনুভূতি কমাতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত ক্যালরি কমে। ওজন নিয়ন্ত্রণ করে। হজম শক্তি বাড়ায়। কৌষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। পায়ের পেশি মজবুত করে। উচ্চ রক্তচাপ কমায়। হৃদযন্ত্র ভাল রাখে। এছাড়া প্রতিবেশী, বন্ধু কিংবা সঙ্গীর সঙ্গে নিয়মিত হাঁটলে সম্পর্ক উন্নত হয়। ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জার্নাল অফ এক্সপেরিমেন্টাল সাইকোলজি’তে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে দেখা গেছে, বসে থাকার তুলনায় যারা নিয়মিত হাঁটেন তারা অন্যদের তুলনায় বেশি সৃষ্টিশীল হন।

রাজধানী ঢাকায় যারা পায়ে হেঁটে চলাচল করেন, তাদের বিভিন্ন ধরণের বিরুপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। হাঁটার উপযোগী পরিবেশ না থাকা এর মধ্যে অন্যতম একটি কারণ। বেশিরভাগ মানুষই মনে করে যারা পায়ে হেঁেট চলাচল করেন তারা দরিদ্র। তবে, দারিদ্রতার সঙ্গে নয়, হাঁটার সঙ্গে সুস্বাস্থ্যের সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করেন পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ভাল রাখার জন্য আমাদের অবশ্যই হাঁটা প্রয়োজন। আর নগরবাসী যেন সুন্দরভাবে রাস্তায় হাঁটতে পারে সেজন্য পরিবেশ সৃষ্টি করার দায়িত্ব নগর কর্তৃপক্ষের।
তবে, নগরীতে হাঁটার তেমন পরিবেশ নেই মনে করেন সাংবাদিক মোহাম্মদ ইমরান হাসান। তিনি দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, রাজধানীতে হাঁটার যায়গাটা খুব কম। এত বেশি ভবনগুলো হয়েছে এবং এত বেশি ডেভেলপার এবং বিল্ডিংগুলো এগুলো ভরাট হয়ে হাঁটার যায়গাটা অনেক বেশি সংকুচিত হয়ে গেছে। এ কারণে মানুষের হাঁটার প্রতি আগ্রহটা কম। এছাড়া মানুষের হাঁটার প্রতি আগ্রহ কমের আরেকটা কারণ দেখছি, মোবাইল ডিভাইসগুলো। ছেলেমেয়ে, শিক্ষিত-অশিক্ষিত সবার হাতেই এখন এন্ড্রয়েড মোবাইল এবং সবার হাতেই এখন ইন্টারনেট। একটা গান বা ক্লিপ পেলেই তারা ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দেয় যে কারণে হাঁটার প্রবণতাটা মানুষের কমে গেছে। আগ্রহটা নাই। সিনিয়র সাংবাদিক আফসান চৌধুরী বলেন, আমাকে একজন রিকশাচালক বলেছে আপনার মতো কয়েকজন মানুষ আছে যারা হাঁটে। এই কথাটায় বোঝা যায়, এই শহরে হেঁটে পথচলা মানুষের সংখ্যা অনেক কম।

নিজের সুস্থতার জন্য হাঁটাকে গুরুত্ব দেন সাংবাদিক মোহাম্মদ ইমরান হাসান। তিনি দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, আমার হাঁটার কারণ হচ্ছে এক ধরণের চাপে পড়ে। কারণ আমার শরীরে গত এক বছর ধরে দেখছি কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়েছে এবং আমার শরীরে মেদ বেড়েছে। স্বাস্থ্যটা একটু তুলনামূলক বাড়তি। যে কারণে আমি আধা ঘন্টা থেকে চল্লিশ মিনিট হাঁটি। বিশেষ করে বিকেল পাঁচটার পরে হাঁটি এবং সপ্তাহে দুই-তিনদিন আমি ক্রিকেট খেলি। ছোটদের সাথে, বড়দের সাথে যাদের যেখানে পাই মাঠে, আমার কাজ হচ্ছে ঘাম ঝরানো। আমার ঘাম ঝরানোর একটা চ্যালেঞ্জ নিয়ে আমি নেমেছি, যে কারণে প্রতিদিন আমি বিকেল বেলা ক্রিকেট খেলি। বিকেল পাঁচটার পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমি ঘাম ঝরানোর জন্য হাঁটি এবং ক্রিকেট খেলি। আর একটা ব্যাপার আমার হয়েছে, কম হাঁটার কারণে আমার বডিতে লিভার ফ্যাট জমে গেছে। লিভার ফ্যাট জমে যাওয়াতে ৩০-৪০ মিনিট আপনি হাঁটবেন। দ্রুত গতিতে হাঁটবেন যেন আপনার শরীর দিয়ে কিছুটা হলেও ঘাম বের হয়। ওরকম হাঁটা। আমি এখন এটাই প্র্যাকটিস করছি।