কোটা সংস্কার আন্দোলনে রংপুরে পুলিশের প্রকাশ্য গুলিতে নিহত, তাজহাট থানা ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ, বিভিন্ন অফিসে হামলা ও লুটপাটে ঘটনার মামলায় কারাগারে থাকা এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ ১০ শিক্ষার্থী জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। গত ২ আগস্ট শুক্রবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে কারাগার থেকে ৮ জন মুক্ত হয়েছেন। বাকি ২ জন আজ শনিবার ছাড়া পাবেন। শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে রংপুর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতের বিচারক আহসানুল হক রানা শুনানি শেষে তাদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। এর আগে আদালতের পরিদর্শক পৃথিশ রায় অভিভাবকদের মোবাইল ফোনে কল করে আদালতে আনেন। সরকারের বিশেষ আদেশ প্রতিপালনে লিগ্যাল এইড বাংলাদেশ ব্লাস্ট রংপুর শাখার প্যানেল আইনজীবী শামিম-আল মামুন তাঁদের জামিন শুনানি করেন। রংপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনায় মহানগর ও জেলার বিভিন্ন থানায় দায়ের করা মামলায় শিক্ষার্থীরা গ্রেফতার হয়েছিলেন। শিক্ষার্থীদের পক্ষে জামিন শুনানি করা আইনজীবী শামীম আল মামুন বলেন, জামিননামা কারাগারে পৌঁছেলে ৮ জন শিক্ষার্থী কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। আশা করা হচ্ছে বাকি দুজন শনিবার কারামুক্ত হবেন। জামিনে মুক্তি পাওয়া এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা হলেন রংপুর সরকারি কলেজের তৌফিক ওমর ধ্রব, জাফরগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী আমির হামজা, শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়ের, মো. মহিন, পাভেল মিয়া, আল মারজান, নিয়াজ আহমেদ রকি ও সৌরভ মিয়া। জামিন পেয়ে শুক্রবার রাতে মাওবিন হাসান মুহিন, রাকিব হোসাইন কারাগার থেকে ছাড় পাননি। শনিবার কারামুক্ত হবেন। রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বনিক বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সাপেক্ষে কারাগার থেকে শুক্রবার রাত ১১টার পর আটজনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। পুলিশ তাঁদের বয়স ১৯ থেকে ২০ বছর দেখিয়ে আবু সাঈদ হত্যা মামলা, অটোচালক মানিক হত্যা, তাজহাট থানায় আগুন ও ভাংচুরের মামলাসহ বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখান। ১৯ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। অভিভাবকেরা বলেন, জামিন দেওয়া হলেও স্কুল-কলেজ পড়ুয়া সন্তানের বিরুদ্ধে মামলা অব্যাহতি পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি। আইনজীবী শামীম আল মামুন বলেন,সরকারি উদ্যোগে সরকারি লিগ্যাল এইডের সহযোগিতায় শুক্রবার রাতে বিশেষ আদালতে ১০ শিক্ষার্থীর জামিন মঞ্জুর হয়েছে। তাঁদের চলমান এইচএসসি পরীক্ষা ও শিক্ষার্থী বিবেচনায় জামিন দিয়েছেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী জোবায়দুল ইসলাম বুলেট বলেন, শিক্ষার্থীদের এভাবে কারাগারে পাঠানো বেআইনি হয়েছে। জামিন হলেও অব্যাহতি পাওয়া নিয়েও শঙ্কা আছে। কারণ, পুলিশই মামলা দিয়েছে। তারাই তদন্ত করছে। তাঁদের অব্যাহতি দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
























