১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে চলছে নাটকীয়তা

◉থমথমে বঙ্গভবন এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা
◉পদত্যাগের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি : প্রেস সচিব
◉আন্দোলনের প্রয়োজন নেই, যৌক্তিক সময়ে সিদ্ধান্তÑ নাহিদ
◉সাংবিধানিক সংকট না হতে বিএনপির সতর্কতা
◉বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ-মিছিল অব্যাহত

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে নাটকীয়তা বেড়েই চলেছে। যেকোনো মুহূর্তে হতে পারে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ। তবুও কোথাও যেন একটা কিন্তু রয়ে গেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের দেওয়া আল্টিমেটামের আর ২৪ ঘণ্টা বাকি। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ কিংবা অপসারণ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছেন, পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনও আসেনি। আর তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, আন্দোলনের প্রয়োজন নেই, যৌক্তিক সময়ে সিদ্ধান্ত আসবে। আবার রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানও বিভক্ত। বিএনপির পক্ষ থেকে সাংবিধানিক সংকট না হতে সতর্কতা জানানো হয়েছে। এছাড়া জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশসহ অন্যদলগুলো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ বা অপসারণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিয়ে মন্তব্যের জেরে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে গত মঙ্গলবার দুপুরে বঙ্গভবনের সামনে অবস্থান নেন বিক্ষোভকারীরা। সেদিন বিক্ষোভ থেকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা। গতকালও বঙ্গভবনের সামনে বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল। এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এঘটনায় ২৫ পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে ডিএমপি। এ ঘটনার পর বঙ্গভবন এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। নিরাপত্তা জোরদারে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবির যৌথ বাহিনী বঙ্গভবনের সামনের এলাকাসহ আশপাশে মোতায়েন রয়েছে এপিসি ও জলকামান। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বঙ্গভবনের আশপাশের কয়েকটি সড়কের যান চলাচল। সব মিলিয়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে বঙ্গভবন এলাকায়। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে গতকালও বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। তবে এদিন আন্দোলনকারীদের ঘিরে উৎসুক জনতার ভিড় দেখা গেছে। বুধবার সকাল থেকে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। সকাল থেকে বঙ্গবভনের রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন মোজাম্মেল মিয়াজি নামে এক শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন মিথ্যাচার করছেন। তাছাড়া তিনি খুনি হাসিনার দালাল। হাসিনা যখন গণহত্যা চালিয়েছে, তখন তিনি কোনও শিক্ষার্থীকে দেখতে যাননি। শিক্ষার্থীদের পক্ষও নেননি। এই রাষ্ট্রপতি থাকলে দেশের মানুষের রক্ত চুষে খাবে। তাই তার পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আমরা বঙ্গবভন ছেড়ে যাবো না।

এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ বঙ্গভবনের সামনের ব্যারিকেড (প্রতিবন্ধক) ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিপেটা করে ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। রাত পৌনে ২টার দিকে বিক্ষোভকারীরা বঙ্গভবন এলাকা ছেড়ে যান।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে বঙ্গভবনের সামনে আসেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম। তারা বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে দুই দিনের সময় চেয়ে নিয়ে আশ্বস্ত করেন যে আগামী দুই দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হবে।
এসময় সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ষড়যন্ত্রকারী মো. সাহাবুদ্দিনকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে। কিন্তু পরবর্তী রাষ্ট্রপতি চূড়ান্ত হওয়ার আগে যদি এই রাষ্ট্রকে রাষ্ট্রপতিহীন করে ফেলা হয় তাহলে বিদেশি শক্তিরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। আমরা তা হতে দেব না। তাই আগামী দুই দিন বুধবার ও বৃহস্পতিবার সবার সঙ্গে কথা বলে এমন একজনকে রাষ্ট্রপতি করা হবে যাকে নিয়ে কোনো বির্তক থাকবে না। তারপর সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে। এ জন্য আমাদের দুই দিন সময় দিন।
সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, গত দুই দিনে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বক্তব্য এবং শিক্ষার্থীদের ব্যাপক বিক্ষোভে রাষ্ট্রপতির বিদায়ের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়ে গেছে। রাষ্ট্রপতি নিজে থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলে ভালো। না হলে সরকারের পক্ষ থেকে এ সপ্তাহের মধ্যেই একটা অবস্থান পরিষ্কার করা হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকার পতনের পর থেকেই শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রপতিকে বহাল রাখার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু সাংবিধানিক নানা বাধ্যবাধকতার কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহল এ বিষয়ে তাড়াহুড়ো না করার পক্ষে অবস্থান নেয়। কিন্তু শেখ হাসিনার পদত্যাগের দালিলিক প্রমাণ নেই, এমন মন্তব্য করার পর রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে সরকার ও শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কারও কারও সন্দেহ, হঠাৎ রাষ্ট্রপতির এ ধরনের বক্তব্য অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে নতুন কোনো ষড়যন্ত্রও হতে পারে।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল গত সোমবার সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতি যে বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র পাননি, এটা হচ্ছে মিথ্যাচার এবং এটা হচ্ছে ওনার শপথ লঙ্ঘনের শামিল। আর মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয় রাষ্ট্রপতি প্রসঙ্গে আইন উপদেষ্টার মতামতের সঙ্গে সরকার একমত।
এদিকে গতকাল দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের অবস্থান আপনারা দেখেছেন, আমরা বলেছি তারা (বিক্ষোভকারীরা) যেন বঙ্গভবনের পাশ থেকে সরে যান। গতকাল থেকে বঙ্গভবনের আশপাশে নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ আছে কি না এমন প্রশ্নে শফিকুল আলম বলেন, আমরা বলছি কোনো অগ্রগতি হলে আপনারা জানবেন।
সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তার স্বার্থে সে সময় (৮ আগস্ট) আমরা সরকার গঠন করেছিলাম। কিন্তু জনগণ যদি মনে করে এই সেটআপের পরিবর্তন প্রয়োজন, সেটা নিশ্চয়ই সরকার দেখবে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। এটা আইনি সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। যৌক্তিক সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয় সিদ্ধান্ত হবে। রাজনৈতিক সমঝোতা এবং জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে শিগগিরই একটি সিদ্ধান্ত আসবে। কারণ এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু এখন দেশের স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা জরুরি। কেউ যেন এটাতে ব্যাঘাত না ঘটায় তা দেখছে সরকার।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে কেউ যাতে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে, সে ব্যাপারে জনগণকে আহ্বান জানাচ্ছি। জনগণকে এ নিয়ে আর বঙ্গভবনের সামনে সমাবেশ করার প্রয়োজন নেই। জনগণের মেসেজ সরকার পেয়ে গেছে যে তারা এই রাষ্ট্রপতিকে আর চায় না। যৌক্তিক সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। দেশের জনগণই আর চায় না এই রাষ্ট্রপতিকে। জনগণের মেসেজ সরকার বুঝতে পেরেছে। জনগণকে এ নিয়ে আর বঙ্গভবনের সামনে সমাবেশ করার প্রয়োজন নেই।
এদিকে গতকাল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে যমুনায় এক বৈঠকে দেশে নতুন করে যাতে কোনো সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে বিএনপি নেতারা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বিএনপির তিন নেতা নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাউদ্দিন আহমেদ।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে চলছে নাটকীয়তা

আপডেট সময় : ০৭:০০:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৪

◉থমথমে বঙ্গভবন এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা
◉পদত্যাগের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি : প্রেস সচিব
◉আন্দোলনের প্রয়োজন নেই, যৌক্তিক সময়ে সিদ্ধান্তÑ নাহিদ
◉সাংবিধানিক সংকট না হতে বিএনপির সতর্কতা
◉বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ-মিছিল অব্যাহত

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে নাটকীয়তা বেড়েই চলেছে। যেকোনো মুহূর্তে হতে পারে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ। তবুও কোথাও যেন একটা কিন্তু রয়ে গেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের দেওয়া আল্টিমেটামের আর ২৪ ঘণ্টা বাকি। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ কিংবা অপসারণ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছেন, পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনও আসেনি। আর তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, আন্দোলনের প্রয়োজন নেই, যৌক্তিক সময়ে সিদ্ধান্ত আসবে। আবার রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানও বিভক্ত। বিএনপির পক্ষ থেকে সাংবিধানিক সংকট না হতে সতর্কতা জানানো হয়েছে। এছাড়া জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশসহ অন্যদলগুলো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ বা অপসারণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিয়ে মন্তব্যের জেরে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে গত মঙ্গলবার দুপুরে বঙ্গভবনের সামনে অবস্থান নেন বিক্ষোভকারীরা। সেদিন বিক্ষোভ থেকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা। গতকালও বঙ্গভবনের সামনে বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল। এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এঘটনায় ২৫ পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে ডিএমপি। এ ঘটনার পর বঙ্গভবন এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। নিরাপত্তা জোরদারে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবির যৌথ বাহিনী বঙ্গভবনের সামনের এলাকাসহ আশপাশে মোতায়েন রয়েছে এপিসি ও জলকামান। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বঙ্গভবনের আশপাশের কয়েকটি সড়কের যান চলাচল। সব মিলিয়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে বঙ্গভবন এলাকায়। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে গতকালও বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। তবে এদিন আন্দোলনকারীদের ঘিরে উৎসুক জনতার ভিড় দেখা গেছে। বুধবার সকাল থেকে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। সকাল থেকে বঙ্গবভনের রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন মোজাম্মেল মিয়াজি নামে এক শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন মিথ্যাচার করছেন। তাছাড়া তিনি খুনি হাসিনার দালাল। হাসিনা যখন গণহত্যা চালিয়েছে, তখন তিনি কোনও শিক্ষার্থীকে দেখতে যাননি। শিক্ষার্থীদের পক্ষও নেননি। এই রাষ্ট্রপতি থাকলে দেশের মানুষের রক্ত চুষে খাবে। তাই তার পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আমরা বঙ্গবভন ছেড়ে যাবো না।

এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ বঙ্গভবনের সামনের ব্যারিকেড (প্রতিবন্ধক) ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিপেটা করে ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। রাত পৌনে ২টার দিকে বিক্ষোভকারীরা বঙ্গভবন এলাকা ছেড়ে যান।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে বঙ্গভবনের সামনে আসেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম। তারা বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে দুই দিনের সময় চেয়ে নিয়ে আশ্বস্ত করেন যে আগামী দুই দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হবে।
এসময় সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ষড়যন্ত্রকারী মো. সাহাবুদ্দিনকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে। কিন্তু পরবর্তী রাষ্ট্রপতি চূড়ান্ত হওয়ার আগে যদি এই রাষ্ট্রকে রাষ্ট্রপতিহীন করে ফেলা হয় তাহলে বিদেশি শক্তিরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। আমরা তা হতে দেব না। তাই আগামী দুই দিন বুধবার ও বৃহস্পতিবার সবার সঙ্গে কথা বলে এমন একজনকে রাষ্ট্রপতি করা হবে যাকে নিয়ে কোনো বির্তক থাকবে না। তারপর সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে। এ জন্য আমাদের দুই দিন সময় দিন।
সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, গত দুই দিনে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বক্তব্য এবং শিক্ষার্থীদের ব্যাপক বিক্ষোভে রাষ্ট্রপতির বিদায়ের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়ে গেছে। রাষ্ট্রপতি নিজে থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলে ভালো। না হলে সরকারের পক্ষ থেকে এ সপ্তাহের মধ্যেই একটা অবস্থান পরিষ্কার করা হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকার পতনের পর থেকেই শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রপতিকে বহাল রাখার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু সাংবিধানিক নানা বাধ্যবাধকতার কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহল এ বিষয়ে তাড়াহুড়ো না করার পক্ষে অবস্থান নেয়। কিন্তু শেখ হাসিনার পদত্যাগের দালিলিক প্রমাণ নেই, এমন মন্তব্য করার পর রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে সরকার ও শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কারও কারও সন্দেহ, হঠাৎ রাষ্ট্রপতির এ ধরনের বক্তব্য অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে নতুন কোনো ষড়যন্ত্রও হতে পারে।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল গত সোমবার সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতি যে বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র পাননি, এটা হচ্ছে মিথ্যাচার এবং এটা হচ্ছে ওনার শপথ লঙ্ঘনের শামিল। আর মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয় রাষ্ট্রপতি প্রসঙ্গে আইন উপদেষ্টার মতামতের সঙ্গে সরকার একমত।
এদিকে গতকাল দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের অবস্থান আপনারা দেখেছেন, আমরা বলেছি তারা (বিক্ষোভকারীরা) যেন বঙ্গভবনের পাশ থেকে সরে যান। গতকাল থেকে বঙ্গভবনের আশপাশে নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ আছে কি না এমন প্রশ্নে শফিকুল আলম বলেন, আমরা বলছি কোনো অগ্রগতি হলে আপনারা জানবেন।
সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তার স্বার্থে সে সময় (৮ আগস্ট) আমরা সরকার গঠন করেছিলাম। কিন্তু জনগণ যদি মনে করে এই সেটআপের পরিবর্তন প্রয়োজন, সেটা নিশ্চয়ই সরকার দেখবে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। এটা আইনি সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। যৌক্তিক সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয় সিদ্ধান্ত হবে। রাজনৈতিক সমঝোতা এবং জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে শিগগিরই একটি সিদ্ধান্ত আসবে। কারণ এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু এখন দেশের স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা জরুরি। কেউ যেন এটাতে ব্যাঘাত না ঘটায় তা দেখছে সরকার।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে কেউ যাতে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে, সে ব্যাপারে জনগণকে আহ্বান জানাচ্ছি। জনগণকে এ নিয়ে আর বঙ্গভবনের সামনে সমাবেশ করার প্রয়োজন নেই। জনগণের মেসেজ সরকার পেয়ে গেছে যে তারা এই রাষ্ট্রপতিকে আর চায় না। যৌক্তিক সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। দেশের জনগণই আর চায় না এই রাষ্ট্রপতিকে। জনগণের মেসেজ সরকার বুঝতে পেরেছে। জনগণকে এ নিয়ে আর বঙ্গভবনের সামনে সমাবেশ করার প্রয়োজন নেই।
এদিকে গতকাল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে যমুনায় এক বৈঠকে দেশে নতুন করে যাতে কোনো সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে বিএনপি নেতারা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বিএনপির তিন নেতা নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাউদ্দিন আহমেদ।