০৫:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খাবারের উচ্চ মূল্যে ও অতিরিক্ত সীট ভাড়া নাজেহাল শিক্ষার্থীরা

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদের আবাসিক হল দুটিতে নেই কোনো ভর্তুকি।অতিরিক্ত সীট ভাড়া ও উচ্চমূল্যের খাবারে নাজেহাল শিক্ষার্থীরা।খাবারের দাম বেশি হলেও মানে খারাপ।
সংস্থাপন ফির নামে প্রতি সেমিস্টারে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। যা হিসেব করলে দেখা যায় এক বছরের শুধু প্রতিমাসে ভাড়া (২৫০) আর সেমিস্টার ফি মিলে আদায় হয় ৪০০০ হাজার টাকা।একই সঙ্গে বিলম্ব সিট ভাড়া জরিমানা দিতে বাধ্য হচ্ছেন দুই হলের শতাধিক আবাসিক শিক্ষার্থী।যদিও জুলাই আগষ্টের বিপ্লবের পর জরিমানা এবং ২ মাসের আবাসিক ভাড়া মওকুফ করে দিয়েছে নতুন ভিসি।অন্যদিকে হলের ডাইনিং এর খাবার রেস্টুরেন্টের দামের মতো নিচ্ছে। যেখানে মেস গুলোতে মিল রেট ৬০-৭০ (প্রতিদিন) টাকা তিনবেলা।সেখানে মুখতার ইলাহী হলের একবারের খাবার প্রায় ৫৩ টাকা।যদিও তাদের বেধে দেওয়া ৪০ টাকায় খাবার খাওয়া সম্ভব হয় না।খেতে গেলে নিম্ন পক্ষে ৫০ টাকা খরচ হয়।এ হিসেব করলে দুইবারে ১০০ টাকা। এ যেন আকাশ ছোঁয়া মূল্য হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের কাছে। আবার শিক্ষার্থীরা হিটারে রান্না করলে আবাসিকতা বাতিল করে দিবে বলেও জানায়।একারনে হিটারের লাইন কেটে দেয়। আবার দেখা যায় অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের প্রতিমাসের সীট ভাড়ার চেয়ে বেরোবিতে এই পরিমাণ অনেক। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় রাবিতে ১০০ টাকা,যবিপ্রবিতে ১৫০, খুবিতে ১০০,কুবিতে ১০০ আর বেরোবিতে ২৫০ টাকা। শিক্ষার্থীরা হলে আসে আর্থিক সাশ্রয়ের জন্য। কিন্তু বেরোবির হল গুলোতে এর উল্টো চিত্র লক্ষ্য করা যায়।রংপুরের মেস গুলোতে সাধারণভাবে প্রতিমাসে খরচ হয় আনুমানিক ৩৫০০-৪০০০ টাকা।আর হল গুলোতে খরচ হয় ৩০০০ থেকে ৩৫০০ টাকা।
শিক্ষার্থীদের দাবি, হলে খাবারে ভর্তুকি নেই, গ্রন্থাগার নেই, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নেই, জিমনেশিয়াম সুবিধা নেই। হলের মাসিক ভাড়া ৫০ টাকা করতে হবে। সেমিস্টার এটাচমেন্ট ফি বাতিল ও মওকুফ করতে হবে। জরিমানা বাতিল ও বকেয়া জরিমানা মওকুফ করতে হবে।. হলের খাবারের মান নিশ্চিত ও ভর্তুকি প্রদান নিশ্চিত করা এবং মিল চার্জ সর্বোচ্চ ৩০ টাকা করতে হবে এবং ৩ বেলা খাবার নিশ্চিত করতে হবে। গত দুই বছরের আয় ব্যয়ের হিসাব দিতে হবে। প্রতিদিন প্রোভোস্ট বডির একজনকে ডাইনিং এর খাবার খেতে হবে। তিন বেলা সুষম খাবার নিশ্চিত করা ও খাবারের উপরিক্ত মূল্য নির্ধারণ না করা পর্যন্ত হলে আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিজস্ব রান্নার ব্যবস্থা বন্ধ করা যাবে না।
বঙ্গবন্ধু হলের আবাসিক শিক্ষার্থী শয়ন শাহা বলেন, হলে থাকা যেনো এখন গলার কাঁটা হয়ে দাড়িয়েছে আমাদের। বিগত বছর গুলোতে না বলা যেতো কোনো কথা, বাকরুদ্ধ করে রাখা হতো হলে আমাদের, নতুন বাংলাদেশে যখন আমাদের সকল কিছুর নতুন সূচনা হচ্ছে, তবুও কোনো ধরনের পরিবর্তন নেই আমাদের হলগুলোতে, দেশেই অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর যেখানে হল ভাড়া ১০-৫০ টাকা সেখানে আমাদের গুনতে হচ্ছে প্রতিমাসে ২৫০ টাকা, সাথে আরো গুনতে হচ্ছে প্রতি সেমিস্টারে ৫০০ টাকা এটাচমেন্ট ফি। সেই সাথে হলে না পাচ্ছি কোনো অতিরিক্ত সুবিধা, হলের প্রভোস্ট বডিকে অনেকবার বলার পরও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি । তারা বার বার আমাদের শুধু আশাই দিয়ে গেছে , মাছের তেলে মাছ ভাজে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।এই ধরনের বৈষম্য আমরা আর মানতে রাজি না। আমরা হলের সকল শিক্ষার্থীরা আশা করি দ্রুত এর একটি সমাধান আসবে। নতুবা আমাদের এই ছাত্রসমাজ আবার নিজেদের মত করে নতুনভাবে সংষ্কার কাজে নেমে যাবে এই ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে ।
আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী গোলাম জাকারিয়া বলেন, প্রথমে আসি খাবারের মান নিয়ে দুপুর -রাত দুই বেলা খাবার রান্না হয় ডাইনিংয়ে মেনুতে থাকে ব্লেড কাটিং মাছ,মাংস, হাটের সবচেয়ে পঁচা সবজি, নিম্ন মানের মোটা চাল এবং নিম্ন মানের মসলা এই সব কিছু দিয়ে তৈরি হয় জঘন্য সুস্বাদু হলের খাবার৷ এই খাবার মুখে নিলেও গলা দিয়ে নামতে চায় না৷ বিষয়টা এখানেই শেষ না এই খাবারের দাম প্রতি বেলা ৪০ টাকা, এর সাথে একটা পিয়াজু বা ভর্তা খেতে চাইলে আপনাকে অতিরিক্ত আরো ৫-১০ টাকা বেশী দিতে হবে। যেখানে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে খাবারের দাম ২২-৩০ টাকার মধ্যেই। এবার আসি হলের ভাড়া নিয়ে প্রতি মাসে সিট ভাড়া ২৫০ টাকা, মাসের টাকা মাসে দিতে না পারলে ৫০ টাকা জরিমানা, কি আজব নিয়ম! প্রতি সেমিস্টার বাবদ হল এটাসমেন্ট বাবদ ৫০০ টাকা দিতে হবে হলে। এই খরচ হিসাব করলে একজন হল শিক্ষার্থীকে প্রতি মাসে গড়ে ৩৩০০/+- টাকা খরচ করতে হয় যা একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর পক্ষে বহন করা খুবই কষ্ট সাধ্য হয়ে দাড়িয়েছে।
এসব বিষয় নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট মো. আমীর শরীফ বলেন, হলের ডাইনিং এর ব্যাপারে আমরা আজকে কথা বলেছি।দ্রুত এর সমাধানের চেষ্টা করতেছি। আমাদের কাছে সীট ভাড়া কমানোর কোনো ইখতিয়ার নেই।এই বিষয় গুলো অর্থকমিটির মাধ্যমে সিন্ডিকেট সভায় পাস হয় এবং এটি সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত। হলে ভর্তুকি দেওয়ার ব্যাপারে আমি প্রশাসনের কাছে চিঠি জমা দিয়েছি আগেই।ভাইস চ্যান্সেলর কে বিষয় গুলো জানিয়েছি। এবং সকল জরিমানা মওকুফের ব্যবস্হা করেছি।আমরা এসব বিষয় নিয়ে পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় তুলে ধরব।###
জনপ্রিয় সংবাদ

আবারো কমলো সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার

খাবারের উচ্চ মূল্যে ও অতিরিক্ত সীট ভাড়া নাজেহাল শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় : ০৩:৫৫:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৪

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদের আবাসিক হল দুটিতে নেই কোনো ভর্তুকি।অতিরিক্ত সীট ভাড়া ও উচ্চমূল্যের খাবারে নাজেহাল শিক্ষার্থীরা।খাবারের দাম বেশি হলেও মানে খারাপ।
সংস্থাপন ফির নামে প্রতি সেমিস্টারে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। যা হিসেব করলে দেখা যায় এক বছরের শুধু প্রতিমাসে ভাড়া (২৫০) আর সেমিস্টার ফি মিলে আদায় হয় ৪০০০ হাজার টাকা।একই সঙ্গে বিলম্ব সিট ভাড়া জরিমানা দিতে বাধ্য হচ্ছেন দুই হলের শতাধিক আবাসিক শিক্ষার্থী।যদিও জুলাই আগষ্টের বিপ্লবের পর জরিমানা এবং ২ মাসের আবাসিক ভাড়া মওকুফ করে দিয়েছে নতুন ভিসি।অন্যদিকে হলের ডাইনিং এর খাবার রেস্টুরেন্টের দামের মতো নিচ্ছে। যেখানে মেস গুলোতে মিল রেট ৬০-৭০ (প্রতিদিন) টাকা তিনবেলা।সেখানে মুখতার ইলাহী হলের একবারের খাবার প্রায় ৫৩ টাকা।যদিও তাদের বেধে দেওয়া ৪০ টাকায় খাবার খাওয়া সম্ভব হয় না।খেতে গেলে নিম্ন পক্ষে ৫০ টাকা খরচ হয়।এ হিসেব করলে দুইবারে ১০০ টাকা। এ যেন আকাশ ছোঁয়া মূল্য হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের কাছে। আবার শিক্ষার্থীরা হিটারে রান্না করলে আবাসিকতা বাতিল করে দিবে বলেও জানায়।একারনে হিটারের লাইন কেটে দেয়। আবার দেখা যায় অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের প্রতিমাসের সীট ভাড়ার চেয়ে বেরোবিতে এই পরিমাণ অনেক। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় রাবিতে ১০০ টাকা,যবিপ্রবিতে ১৫০, খুবিতে ১০০,কুবিতে ১০০ আর বেরোবিতে ২৫০ টাকা। শিক্ষার্থীরা হলে আসে আর্থিক সাশ্রয়ের জন্য। কিন্তু বেরোবির হল গুলোতে এর উল্টো চিত্র লক্ষ্য করা যায়।রংপুরের মেস গুলোতে সাধারণভাবে প্রতিমাসে খরচ হয় আনুমানিক ৩৫০০-৪০০০ টাকা।আর হল গুলোতে খরচ হয় ৩০০০ থেকে ৩৫০০ টাকা।
শিক্ষার্থীদের দাবি, হলে খাবারে ভর্তুকি নেই, গ্রন্থাগার নেই, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নেই, জিমনেশিয়াম সুবিধা নেই। হলের মাসিক ভাড়া ৫০ টাকা করতে হবে। সেমিস্টার এটাচমেন্ট ফি বাতিল ও মওকুফ করতে হবে। জরিমানা বাতিল ও বকেয়া জরিমানা মওকুফ করতে হবে।. হলের খাবারের মান নিশ্চিত ও ভর্তুকি প্রদান নিশ্চিত করা এবং মিল চার্জ সর্বোচ্চ ৩০ টাকা করতে হবে এবং ৩ বেলা খাবার নিশ্চিত করতে হবে। গত দুই বছরের আয় ব্যয়ের হিসাব দিতে হবে। প্রতিদিন প্রোভোস্ট বডির একজনকে ডাইনিং এর খাবার খেতে হবে। তিন বেলা সুষম খাবার নিশ্চিত করা ও খাবারের উপরিক্ত মূল্য নির্ধারণ না করা পর্যন্ত হলে আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিজস্ব রান্নার ব্যবস্থা বন্ধ করা যাবে না।
বঙ্গবন্ধু হলের আবাসিক শিক্ষার্থী শয়ন শাহা বলেন, হলে থাকা যেনো এখন গলার কাঁটা হয়ে দাড়িয়েছে আমাদের। বিগত বছর গুলোতে না বলা যেতো কোনো কথা, বাকরুদ্ধ করে রাখা হতো হলে আমাদের, নতুন বাংলাদেশে যখন আমাদের সকল কিছুর নতুন সূচনা হচ্ছে, তবুও কোনো ধরনের পরিবর্তন নেই আমাদের হলগুলোতে, দেশেই অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর যেখানে হল ভাড়া ১০-৫০ টাকা সেখানে আমাদের গুনতে হচ্ছে প্রতিমাসে ২৫০ টাকা, সাথে আরো গুনতে হচ্ছে প্রতি সেমিস্টারে ৫০০ টাকা এটাচমেন্ট ফি। সেই সাথে হলে না পাচ্ছি কোনো অতিরিক্ত সুবিধা, হলের প্রভোস্ট বডিকে অনেকবার বলার পরও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি । তারা বার বার আমাদের শুধু আশাই দিয়ে গেছে , মাছের তেলে মাছ ভাজে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।এই ধরনের বৈষম্য আমরা আর মানতে রাজি না। আমরা হলের সকল শিক্ষার্থীরা আশা করি দ্রুত এর একটি সমাধান আসবে। নতুবা আমাদের এই ছাত্রসমাজ আবার নিজেদের মত করে নতুনভাবে সংষ্কার কাজে নেমে যাবে এই ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে ।
আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী গোলাম জাকারিয়া বলেন, প্রথমে আসি খাবারের মান নিয়ে দুপুর -রাত দুই বেলা খাবার রান্না হয় ডাইনিংয়ে মেনুতে থাকে ব্লেড কাটিং মাছ,মাংস, হাটের সবচেয়ে পঁচা সবজি, নিম্ন মানের মোটা চাল এবং নিম্ন মানের মসলা এই সব কিছু দিয়ে তৈরি হয় জঘন্য সুস্বাদু হলের খাবার৷ এই খাবার মুখে নিলেও গলা দিয়ে নামতে চায় না৷ বিষয়টা এখানেই শেষ না এই খাবারের দাম প্রতি বেলা ৪০ টাকা, এর সাথে একটা পিয়াজু বা ভর্তা খেতে চাইলে আপনাকে অতিরিক্ত আরো ৫-১০ টাকা বেশী দিতে হবে। যেখানে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে খাবারের দাম ২২-৩০ টাকার মধ্যেই। এবার আসি হলের ভাড়া নিয়ে প্রতি মাসে সিট ভাড়া ২৫০ টাকা, মাসের টাকা মাসে দিতে না পারলে ৫০ টাকা জরিমানা, কি আজব নিয়ম! প্রতি সেমিস্টার বাবদ হল এটাসমেন্ট বাবদ ৫০০ টাকা দিতে হবে হলে। এই খরচ হিসাব করলে একজন হল শিক্ষার্থীকে প্রতি মাসে গড়ে ৩৩০০/+- টাকা খরচ করতে হয় যা একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর পক্ষে বহন করা খুবই কষ্ট সাধ্য হয়ে দাড়িয়েছে।
এসব বিষয় নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট মো. আমীর শরীফ বলেন, হলের ডাইনিং এর ব্যাপারে আমরা আজকে কথা বলেছি।দ্রুত এর সমাধানের চেষ্টা করতেছি। আমাদের কাছে সীট ভাড়া কমানোর কোনো ইখতিয়ার নেই।এই বিষয় গুলো অর্থকমিটির মাধ্যমে সিন্ডিকেট সভায় পাস হয় এবং এটি সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত। হলে ভর্তুকি দেওয়ার ব্যাপারে আমি প্রশাসনের কাছে চিঠি জমা দিয়েছি আগেই।ভাইস চ্যান্সেলর কে বিষয় গুলো জানিয়েছি। এবং সকল জরিমানা মওকুফের ব্যবস্হা করেছি।আমরা এসব বিষয় নিয়ে পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় তুলে ধরব।###