০৬:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফ্লাইটে বোমা হামলার হুমকিতে শাহজালালে তুলকালামকাণ্ড

 

* নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় যাত্রীদের
* উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার ৬ ঘণ্টা
* পাকিস্তানি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হুমকির উড়ো বার্তা

ঢাকায় আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে বোমা হামলার উড়ো হুমকিতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। বোমা হামলা বা বিস্ফোরণের শঙ্কায় ফ্লাইটে থাকা দুই শতাধিক যাত্রীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেবিচকসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিমানবন্দরের রানওয়েসহ আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে। এরপর বিমানটি অবতরণের সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা বিমানের সব যাত্রীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পর ডগ স্কোয়াডসহ ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের সদস্যরা বিমানের ভেতর-বাইরে ব্যাপক তল্লাশি চালায়। টানা ৬ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানেও বোমা বা বোমা সদৃশ্য কোনো বস্তুর অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি। এসময় রেসকিউ টিমসহ সব মহলে অজানা আতঙ্ক বিরাজ করলেও গভীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় পার করেছেন সংশ্লিষ্টরা। পাকিস্তানি নম্বর থেকে খোলা একটি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থেকে এমন গুজব বার্তা পাঠানো হয়। ওই বার্তা পেয়েই নড়েচড়ে বসে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ তা গুজবের সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। গতকাল বুধবার বেবিচকসহ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল ইতালির রোম থেকে ঢাকায় আসছিল বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইট বিজি-৩৫৬। গতকাল সকালে ফ্লাইটটি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা ছিল। তবে এর কয়েক ঘণ্টা আগে বাঁধে বিপত্তি। ফ্লাইটটিতে বোমা থাকার একটি বার্তা পায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এরপর বিমানবন্দরের রানওয়েসহ ভেতর-বাইরে শুরু হয় তোলপাড়। সবার মাঝে বিরাজ করতে থাকে বিস্ফোরণের অজানা আতঙ্ক। পরবর্তীতে বিমানবন্দর ঘিরে জোরদার করা হয় বিশেষ নিরাপত্তা বলয়। শ্বাসরুদ্ধকর ৬ ঘণ্টা সময় পার করেন রেসকিউ টিম, বোম্ব ডিস্পোজাল ইউনিটসহ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। তবে শেষ পর্যন্ত উড়োজাহাজটিতে তল্লাশি চালিয়ে বোমা বা বোমা জাতীয় কোনো বস্তুর উপস্থিতি পায়নি নিষ্ক্রিয়কারী দল। গতকাল দুপুরে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম।
বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ফ্লাইটে বোমা থাকার গুজব সংবলিত বার্তাটি পাঠানো হয় হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে। পাকিস্তানি নম্বর দিয়ে খোলা অপরিচিত একটি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থেকে বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বার্তা পৌঁছে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কন্ট্রোল রুমে। পরে সেখানে কর্তব্যরত কর্মকর্তারা বিষয়টি উদ্বেগের সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। খবর পাওয়ার পরপরই সকাল ৬টার মধ্যেই বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ারভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবীর ভুঁইয়া, বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট অনেকেই বিমানবন্দরে ছুটে আসেন। শুরু হয় নিরাপত্তা সদস্যদের মোতায়েন। বিমান বাহিনীর একটি বোমা নিষ্ক্রিয় দল, কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ), ফায়ার সার্ভিসসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার বিপুল সংখ্যক সদস্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেন।
পরে সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে ফ্লাইটটি হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরের রানওয়েতে জরুরি অবতরণ করে। এর পরপরই গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে শুরু হয় তৎপরতা। প্রথমে ফ্লাইটের ভেতর থেকে ৯ জন ক্রুসহ ২৫০ জন যাত্রীর সবাইকে বের করে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিস্পোজাল ইউনিটের ব্যাপক তল্লাশি অভিযান। তবে সেখানে বোমা বা বোমা-জাতীয় কিছু পাওয়া যায়নি। তবে এই হুমকিতে টানা ৬ ঘণ্টা গভীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে কেটেছে সংশ্লিষ্টদের। বেলা ১২টার পর এমন ঘোষণার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন অন্তত দুই শতাধিক কর্মকর্তা-নিরাপত্তা কর্মী।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, হোয়াটসঅ্যাপের ওই বার্তায় বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩৫৬ ফ্লাইটটিতে বোমা থাকার কথা বলা হয়। সেটি যেকোনো সময় বিস্ফোরণ ঘটবে বলেও হুঁশিয়ারি করা হয়েছিল। হোয়াটসঅ্যাপ বার্তাটি ছিল কালো ব্যাকগ্রাউন্ডের একটি ইমেজ এবং তাতে সাদা অক্ষরে লেখা ছিল, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি ৩৫৬ (ইটালির রোম থেকে ঢাকা), যার আনুমানিক অবতরণের সময় রাত ৮টা ৪০ মিনিট। উড়োজাহাজটিতে এই মুহূর্তে ৩৪ কেজি ওজনের বিস্ফোরক রয়েছে বলেও ওই খুদে বার্তায় দাবি করা হয়। একই সঙ্গে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দেওয়া হয় বার্তাটিতে।
এদিকে এভসেক পরিচালক উইং কমান্ডার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমাদের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ফ্লাইটটিতে সার্চ করেছে। বোমা আছে কি না সন্দেহে তল্লাশির শেষপর্যন্ত কিছুই পাইনি। তবে আমরা সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে সার্চ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলাম। তিনি বলেন, পুরো এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল। আমরা বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও বাড়িয়েছিলাম। কিন্তু তল্লাশি শেষে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, এটা গুজব ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবীর ভুইঁয়া বলেন, আমাদের নিরাপত্তা যে কত সুসংহত, সেটা আমরা বুঝিয়ে দিয়েছি। আমাদের প্রতিটি সদস্য আন্তরিকভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের সংবাদ পাওয়ার পরপরই আমি সব কর্মকর্তাকে নিয়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করি। কোনো কিছু না পাওয়া গেলেও আমরা প্রতিটি তথ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করি। নিরাপত্তার ব্যাপারে আমরা সবসময়ই জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণে প্রস্তুত রয়েছি।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

পদত্যাগের পরদিনই সায়েদুর রহমানকে একই পদে নিয়োগ

ফ্লাইটে বোমা হামলার হুমকিতে শাহজালালে তুলকালামকাণ্ড

আপডেট সময় : ০৭:০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৫

 

* নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় যাত্রীদের
* উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার ৬ ঘণ্টা
* পাকিস্তানি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হুমকির উড়ো বার্তা

ঢাকায় আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে বোমা হামলার উড়ো হুমকিতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। বোমা হামলা বা বিস্ফোরণের শঙ্কায় ফ্লাইটে থাকা দুই শতাধিক যাত্রীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেবিচকসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিমানবন্দরের রানওয়েসহ আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে। এরপর বিমানটি অবতরণের সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা বিমানের সব যাত্রীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পর ডগ স্কোয়াডসহ ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের সদস্যরা বিমানের ভেতর-বাইরে ব্যাপক তল্লাশি চালায়। টানা ৬ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানেও বোমা বা বোমা সদৃশ্য কোনো বস্তুর অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি। এসময় রেসকিউ টিমসহ সব মহলে অজানা আতঙ্ক বিরাজ করলেও গভীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় পার করেছেন সংশ্লিষ্টরা। পাকিস্তানি নম্বর থেকে খোলা একটি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থেকে এমন গুজব বার্তা পাঠানো হয়। ওই বার্তা পেয়েই নড়েচড়ে বসে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ তা গুজবের সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। গতকাল বুধবার বেবিচকসহ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল ইতালির রোম থেকে ঢাকায় আসছিল বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইট বিজি-৩৫৬। গতকাল সকালে ফ্লাইটটি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা ছিল। তবে এর কয়েক ঘণ্টা আগে বাঁধে বিপত্তি। ফ্লাইটটিতে বোমা থাকার একটি বার্তা পায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এরপর বিমানবন্দরের রানওয়েসহ ভেতর-বাইরে শুরু হয় তোলপাড়। সবার মাঝে বিরাজ করতে থাকে বিস্ফোরণের অজানা আতঙ্ক। পরবর্তীতে বিমানবন্দর ঘিরে জোরদার করা হয় বিশেষ নিরাপত্তা বলয়। শ্বাসরুদ্ধকর ৬ ঘণ্টা সময় পার করেন রেসকিউ টিম, বোম্ব ডিস্পোজাল ইউনিটসহ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। তবে শেষ পর্যন্ত উড়োজাহাজটিতে তল্লাশি চালিয়ে বোমা বা বোমা জাতীয় কোনো বস্তুর উপস্থিতি পায়নি নিষ্ক্রিয়কারী দল। গতকাল দুপুরে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম।
বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ফ্লাইটে বোমা থাকার গুজব সংবলিত বার্তাটি পাঠানো হয় হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে। পাকিস্তানি নম্বর দিয়ে খোলা অপরিচিত একটি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থেকে বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বার্তা পৌঁছে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কন্ট্রোল রুমে। পরে সেখানে কর্তব্যরত কর্মকর্তারা বিষয়টি উদ্বেগের সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। খবর পাওয়ার পরপরই সকাল ৬টার মধ্যেই বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ারভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবীর ভুঁইয়া, বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট অনেকেই বিমানবন্দরে ছুটে আসেন। শুরু হয় নিরাপত্তা সদস্যদের মোতায়েন। বিমান বাহিনীর একটি বোমা নিষ্ক্রিয় দল, কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ), ফায়ার সার্ভিসসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার বিপুল সংখ্যক সদস্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেন।
পরে সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে ফ্লাইটটি হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরের রানওয়েতে জরুরি অবতরণ করে। এর পরপরই গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে শুরু হয় তৎপরতা। প্রথমে ফ্লাইটের ভেতর থেকে ৯ জন ক্রুসহ ২৫০ জন যাত্রীর সবাইকে বের করে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিস্পোজাল ইউনিটের ব্যাপক তল্লাশি অভিযান। তবে সেখানে বোমা বা বোমা-জাতীয় কিছু পাওয়া যায়নি। তবে এই হুমকিতে টানা ৬ ঘণ্টা গভীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে কেটেছে সংশ্লিষ্টদের। বেলা ১২টার পর এমন ঘোষণার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন অন্তত দুই শতাধিক কর্মকর্তা-নিরাপত্তা কর্মী।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, হোয়াটসঅ্যাপের ওই বার্তায় বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩৫৬ ফ্লাইটটিতে বোমা থাকার কথা বলা হয়। সেটি যেকোনো সময় বিস্ফোরণ ঘটবে বলেও হুঁশিয়ারি করা হয়েছিল। হোয়াটসঅ্যাপ বার্তাটি ছিল কালো ব্যাকগ্রাউন্ডের একটি ইমেজ এবং তাতে সাদা অক্ষরে লেখা ছিল, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি ৩৫৬ (ইটালির রোম থেকে ঢাকা), যার আনুমানিক অবতরণের সময় রাত ৮টা ৪০ মিনিট। উড়োজাহাজটিতে এই মুহূর্তে ৩৪ কেজি ওজনের বিস্ফোরক রয়েছে বলেও ওই খুদে বার্তায় দাবি করা হয়। একই সঙ্গে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দেওয়া হয় বার্তাটিতে।
এদিকে এভসেক পরিচালক উইং কমান্ডার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমাদের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ফ্লাইটটিতে সার্চ করেছে। বোমা আছে কি না সন্দেহে তল্লাশির শেষপর্যন্ত কিছুই পাইনি। তবে আমরা সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে সার্চ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলাম। তিনি বলেন, পুরো এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল। আমরা বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও বাড়িয়েছিলাম। কিন্তু তল্লাশি শেষে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, এটা গুজব ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবীর ভুইঁয়া বলেন, আমাদের নিরাপত্তা যে কত সুসংহত, সেটা আমরা বুঝিয়ে দিয়েছি। আমাদের প্রতিটি সদস্য আন্তরিকভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের সংবাদ পাওয়ার পরপরই আমি সব কর্মকর্তাকে নিয়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করি। কোনো কিছু না পাওয়া গেলেও আমরা প্রতিটি তথ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করি। নিরাপত্তার ব্যাপারে আমরা সবসময়ই জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণে প্রস্তুত রয়েছি।