১২:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে বিভিন্ন জায়গায় ম্যুরাল ভাংচুর

চট্টগ্রামের জামালখানসহ বিভিন্নস্থানে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙচুর ও মশাল মিছিল করেছে বিক্ষুদ্ধরা। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণের প্রতিবাদে ‘বুলডোজার কর্মসূচি’র অংশ হিসেবে তারা এই ভাঙচুর করেন।
বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে একদল বিক্ষুব্ধ মিছিল নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও নগরের জামালখান এলাকায় গিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙচুর করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচারিত একাধিক লাইভে দেখা গেছে, বিক্ষোভের সময় সংগঠকরা ‘ফ্যাসিবাদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না, ফ্যাসিবাদের আস্তানা, জ্বালিয়ে দাও-পুড়িয়ে দাও, জাতির পিতা ইব্রাহিম, শেখ মুজিব ঘোড়ার ডিম’- এসবসহ আরও বিভিন্ন স্লোগান দেন। মিছিল-স্লোগানে পুরো সময় উত্তাল ছিল নগরীর জামালখানসহ আশপাশের এলাকা।
জানা গেছে, রাত ১১টার দিকে প্রথমে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষুব্ধ সংগঠকরা মশাল নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে যান। সেখানে পুরনো একাডেমিক ভবনের পেছনে একটি ম্যুরাল ভাঙচুর করা হয়।
এরপর তারা মশাল মিছিল নিয়ে নগরের জামালখান এলাকায় আসেন। সেখানে প্রথমে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের নিচে শেখ মুজিবের ম্যুরালে আঘাত করা হয়। এরপর জামালখান মোড়ে গিয়ে ডা.খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সীমানা দেয়ালে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধু একাধিক প্রতিকৃতি হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে ভাঙচুর করেন তারা। অবশ্য একাধিক প্রতিকৃতির প্রায় সবগুলোই আগে থেকেই আংশিক ভাঙা অবস্থায় ছিল।
এ সময় তারা সাংবাদিকদের বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে শেখ হাসিনা দেশের বাইরে থেকে উসকানিমূলক বক্তৃতা দিচ্ছেন। দেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছেন। এটির প্রতিবাদে তারা ভাঙচুর করছেন। ফেব্রুয়ারিতে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে ধ্বংসের যে ষড়যন্ত্র করছে, তা রুখে দিতে ছাত্র-জনতা এখনো প্রস্তুত আছে। তা হতে দেওয়া হবে না কোনো অবস্থাতেই।

চবিতে শেখ হাসিনা হলের নামফলক ভাঙতে ছাত্রীদের বাধা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শেখ হাসিনা হলের নামফলক ভাঙতে যাওয়া শিক্ষার্থীদেরকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হলটির ছাত্রীদের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি ঢাকা মেইলের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি রেদোয়ান আহমেদকে মারধর ও সমকালের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি এস এম মাহফুজের ফোনও কেড়ে নেন তারা।
এ বিষয়ে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে চবি সাংবাদিক সমিতির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, চবির শেখ হাসিনা হলের মেয়েরা পেশাগত দায়িত্বপালনরত অবস্থায় একজন সাংবাদিকের হাত থেকে ফোন ছিনিয়ে নেওয়া ও কয়েকজন সাংবাদিকের গায়ে হাত তোলার সাহস দেখালেন। এই ধরনের কাজ ছাত্রলীগ করতো। আপনাদের ভেতরে সেই ছাত্রলীগের ছায়া দেখতে পেলাম।
ক্ষোভ প্রকাশ করে চবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আজহার বলেন, অভ্যুত্থানের পরে নতুন করে কেবল ছেলেদের হলগুলোতেই অ্যালটমেন্ট দেওয়া হয়েছে। মেয়েদের হলগুলোতে শুধু আসন খালি থাকা সাপেক্ষে সামান্য কিছু নতুন শিক্ষার্থী উঠানো হয়। গতরাতে সাংবাদিকদের ওপর শেখ হাসিনা হলের মেয়েদের আক্রমণ, হেনস্তা এবং মোবাইল কেড়ে নেওয়ার ঘটনাই প্রমাণ করে যে, তারা পুরোনো বলয়ে এখনো হলে অবস্থান করছে। আমরা জড়িতদের ভিডিও ও ছবি সংগ্রহ করে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছি।
এ বিষয়ে সহকারী প্রক্টর নাজমুল হোসেন বলেন, গতরাতের শেখ হাসিনা হলের ছাত্রী ও শিক্ষার্থীদের বাগবিতণ্ডা বিষয়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সঙ্গে বসে যথাযথ সিন্ধান্ত নেব। আর সাংবাদিক মারধর ও ফোন কেড়ে নেওয়া স্বাধীন সাংবাদিকতা পেশার জন্য হুমকিস্বরূপ। ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা লিখিত অভিযোগ দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী জড়িতদের শাস্তি দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, ‘লং মার্চ টু ধানমন্ডি-৩২’ কর্মসূচির ঘোষণার পর সারাদেশে শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনার মুর‌্যাল-নামফলক ভাঙেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে চবি শিক্ষার্থীরা শেখ হাসিনা হলের নামফলক ও নৌকার স্থাপনা ভাঙতে গেলে হলের ছাত্রীদের বাধার সম্মুখীন হন। এ সময় এক সাংবাদিককে মারধর ও একজনের ফোন কেড়ে নেন হলটির ছাত্রীরা।

চুয়েটে বঙ্গবন্ধু ও শেখ রাসেলের ম্যুরাল ভাঙচুর
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ভাঙচুর করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমাননের ম্যুরাল। আর সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে শেখ রাসেলের ম্যুরাল।
বুধবার গভীর রাতে একদল বিক্ষুব্ধ ম্যুরালগুলো ভাঙচুর করে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা গেছে, হাতুড়ি, লোহার রড দিয়ে ম্যুরালগুলো ভাঙচুর করা হচ্ছে। এ সময় তাদের ‘মুজিববাদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না, মুজিবের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’ এমন নানা শ্লোগান দিতে শোনা যায়।
এ বিষয়ে জানার জন্য চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুবুল আলমকে একাধিকবার কল দিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ফিলিং স্টেশনে গাড়ির লাইন, তীব্র যানজট

চট্টগ্রামে বিভিন্ন জায়গায় ম্যুরাল ভাংচুর

আপডেট সময় : ০৭:০৫:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

চট্টগ্রামের জামালখানসহ বিভিন্নস্থানে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙচুর ও মশাল মিছিল করেছে বিক্ষুদ্ধরা। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণের প্রতিবাদে ‘বুলডোজার কর্মসূচি’র অংশ হিসেবে তারা এই ভাঙচুর করেন।
বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে একদল বিক্ষুব্ধ মিছিল নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও নগরের জামালখান এলাকায় গিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙচুর করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচারিত একাধিক লাইভে দেখা গেছে, বিক্ষোভের সময় সংগঠকরা ‘ফ্যাসিবাদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না, ফ্যাসিবাদের আস্তানা, জ্বালিয়ে দাও-পুড়িয়ে দাও, জাতির পিতা ইব্রাহিম, শেখ মুজিব ঘোড়ার ডিম’- এসবসহ আরও বিভিন্ন স্লোগান দেন। মিছিল-স্লোগানে পুরো সময় উত্তাল ছিল নগরীর জামালখানসহ আশপাশের এলাকা।
জানা গেছে, রাত ১১টার দিকে প্রথমে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষুব্ধ সংগঠকরা মশাল নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে যান। সেখানে পুরনো একাডেমিক ভবনের পেছনে একটি ম্যুরাল ভাঙচুর করা হয়।
এরপর তারা মশাল মিছিল নিয়ে নগরের জামালখান এলাকায় আসেন। সেখানে প্রথমে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের নিচে শেখ মুজিবের ম্যুরালে আঘাত করা হয়। এরপর জামালখান মোড়ে গিয়ে ডা.খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সীমানা দেয়ালে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধু একাধিক প্রতিকৃতি হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে ভাঙচুর করেন তারা। অবশ্য একাধিক প্রতিকৃতির প্রায় সবগুলোই আগে থেকেই আংশিক ভাঙা অবস্থায় ছিল।
এ সময় তারা সাংবাদিকদের বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে শেখ হাসিনা দেশের বাইরে থেকে উসকানিমূলক বক্তৃতা দিচ্ছেন। দেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছেন। এটির প্রতিবাদে তারা ভাঙচুর করছেন। ফেব্রুয়ারিতে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে ধ্বংসের যে ষড়যন্ত্র করছে, তা রুখে দিতে ছাত্র-জনতা এখনো প্রস্তুত আছে। তা হতে দেওয়া হবে না কোনো অবস্থাতেই।

চবিতে শেখ হাসিনা হলের নামফলক ভাঙতে ছাত্রীদের বাধা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শেখ হাসিনা হলের নামফলক ভাঙতে যাওয়া শিক্ষার্থীদেরকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হলটির ছাত্রীদের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি ঢাকা মেইলের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি রেদোয়ান আহমেদকে মারধর ও সমকালের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি এস এম মাহফুজের ফোনও কেড়ে নেন তারা।
এ বিষয়ে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে চবি সাংবাদিক সমিতির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, চবির শেখ হাসিনা হলের মেয়েরা পেশাগত দায়িত্বপালনরত অবস্থায় একজন সাংবাদিকের হাত থেকে ফোন ছিনিয়ে নেওয়া ও কয়েকজন সাংবাদিকের গায়ে হাত তোলার সাহস দেখালেন। এই ধরনের কাজ ছাত্রলীগ করতো। আপনাদের ভেতরে সেই ছাত্রলীগের ছায়া দেখতে পেলাম।
ক্ষোভ প্রকাশ করে চবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আজহার বলেন, অভ্যুত্থানের পরে নতুন করে কেবল ছেলেদের হলগুলোতেই অ্যালটমেন্ট দেওয়া হয়েছে। মেয়েদের হলগুলোতে শুধু আসন খালি থাকা সাপেক্ষে সামান্য কিছু নতুন শিক্ষার্থী উঠানো হয়। গতরাতে সাংবাদিকদের ওপর শেখ হাসিনা হলের মেয়েদের আক্রমণ, হেনস্তা এবং মোবাইল কেড়ে নেওয়ার ঘটনাই প্রমাণ করে যে, তারা পুরোনো বলয়ে এখনো হলে অবস্থান করছে। আমরা জড়িতদের ভিডিও ও ছবি সংগ্রহ করে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছি।
এ বিষয়ে সহকারী প্রক্টর নাজমুল হোসেন বলেন, গতরাতের শেখ হাসিনা হলের ছাত্রী ও শিক্ষার্থীদের বাগবিতণ্ডা বিষয়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সঙ্গে বসে যথাযথ সিন্ধান্ত নেব। আর সাংবাদিক মারধর ও ফোন কেড়ে নেওয়া স্বাধীন সাংবাদিকতা পেশার জন্য হুমকিস্বরূপ। ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা লিখিত অভিযোগ দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী জড়িতদের শাস্তি দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, ‘লং মার্চ টু ধানমন্ডি-৩২’ কর্মসূচির ঘোষণার পর সারাদেশে শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনার মুর‌্যাল-নামফলক ভাঙেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে চবি শিক্ষার্থীরা শেখ হাসিনা হলের নামফলক ও নৌকার স্থাপনা ভাঙতে গেলে হলের ছাত্রীদের বাধার সম্মুখীন হন। এ সময় এক সাংবাদিককে মারধর ও একজনের ফোন কেড়ে নেন হলটির ছাত্রীরা।

চুয়েটে বঙ্গবন্ধু ও শেখ রাসেলের ম্যুরাল ভাঙচুর
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ভাঙচুর করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমাননের ম্যুরাল। আর সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে শেখ রাসেলের ম্যুরাল।
বুধবার গভীর রাতে একদল বিক্ষুব্ধ ম্যুরালগুলো ভাঙচুর করে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা গেছে, হাতুড়ি, লোহার রড দিয়ে ম্যুরালগুলো ভাঙচুর করা হচ্ছে। এ সময় তাদের ‘মুজিববাদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না, মুজিবের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’ এমন নানা শ্লোগান দিতে শোনা যায়।
এ বিষয়ে জানার জন্য চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুবুল আলমকে একাধিকবার কল দিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।