* আ.লীগকে নিষিদ্ধের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম অভ্যুত্থানে আহতদের
* আ.লীগের বিচার দাবিতে শাহবাগ অবরোধ, চট্টগ্রামে বিক্ষোভ
* নেক্সট বাংলাদেশ উইদাউট আ.লীগ : হাসনাত
* শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকতেও আওয়ামী লীগকে আসতে দেবো না : আখতার
* সেনাবাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে : রাশেদ খান
* রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে জনগণকে দাঁড় করানো যাবে না : উপদেষ্টা মাহফুজ
* ইউনূসের নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশ নেবে না আ.লীগ, হাসিনাই শেষ কথা : আরাফাত
আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন ইস্যু, বিচার ও নিষিদ্ধের ইস্যু নিয়ে গত তিন দিন ধরেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই জোরালো হচ্ছে আওয়ামী লীগের বিচার ও নিষিদ্ধকরণের দাবি। অন্তর্বর্তী সরকারের আপাতত আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের পরিকল্পনা নেই প্রধান উপদেষ্টার এমন বক্তব্যের পর থেকেই উত্তপ্ত হওয়া রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘি ঢেলেছিল, আওয়ামী লীগের পুবর্বাসনের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে অভিযোগ তুলে জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লহার পোস্ট। এবার তা রাজনৈতিক অঙ্গনেও অস্থিরতার সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে সাধারণ ছাত্র-জনতার মধ্যে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও আওয়ামী লীগের বিচার ও নিষিদ্ধের দাবি আরো জোরালো হচ্ছে। এদিকে আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ ও বিচারের দাবির মধ্যেই নতুন নাটকীয়তার জন্ম দিয়েছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাতের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য। গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার এবং দলটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে তিনি সেখানে বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না আওয়ামী লীগ। এদিকে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে জুলাই আন্দোলনে আহতদের সংগঠন ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’, তা না হলে ঢাকা অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে তারা। আ.লীগের বিচার দাবিতে শাহবাগ অবরোধ করেছিল সাধারণ শিক্ষার্থীরা, এছাড়াও চট্টগ্রামে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিকে, সেনাবাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে জনগণকে দাঁড় করানো যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। এদিকে আওয়ামী লীগের বিচার ও নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি। শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকতেও আওয়ামী লীগকে আসতে দেওয়া হবে না বলে সমাবেশে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসঅনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, নেক্সট বাংলাদেশ উইদাউট আ.লীগ।
গতকাল শনিবার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে জুলাই আন্দোলনে আহতদের সংগঠন ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’। এ সময়ের মধ্যে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত না এলে ঢাকা শহর অবরোধের ঘোষণা দেন তারা। এই সময়ের মধ্যে কোনো প্রতিশ্রুতি না এলে সারা দেশ থেকে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবে। যতদিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করা না হবে শহীদ মিনারে তাদের সেই অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দেন তারা। এদিকে, গতকাল শনিবার বিকাল ৩ টার দিকে আ.লীগের বিচার দাবিতে শাহবাগ অবরোধ করেছিল সাধারণ ছাত্র-জনতা। এ সময় আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে দফা এক, দাবি এক, লীগ নট কাম ব্যাক স্লোগান দিতে দেখা যায়। এছাড়া আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে শাহবাগ চত্বরে অবস্থান নেয় জুলাই মঞ্চ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম।
এদিকে, আওয়ামী লীগের বিচার, নিবন্ধন বাতিল এবং রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবিতে শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সমাবেশে আওয়ামী লীগকে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করা ছাড়াও দলটির নেতাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার দাবি তুলা হয়। সমাবেশে দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, পরবর্তী বাংলাদেশ বিনির্মাণ হবে ফ্যাসিবাদবিরোধী। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আমাদের মতপার্থক্য হবে, আমাদের পলিসি নিয়ে আলোচনা হবে। আমাদের সব হবে আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্র কাঠামোর বাইরে রেখে। নেক্সট বাংলাদেশ উইদাউট আওয়ামী লীগ। আপনাদের যাদের কাজ ক্যান্টনমেন্টে, তারা ক্যান্টনমেন্টেই থাকেন মন্তব্য করে হাসনাত বলেন, আমরা আপনাদের শ্রদ্ধা জানাই। কিন্তু গত ১৬ বছর আপনারা রাজনীতিতে যেভাবে নগ্ন হস্তক্ষেপ করেছেন, ক্যান্টনমেন্টের বিভিন্ন দপ্তর উপদপ্তরের মধ্য দিয়ে আপনারা রাজনীতিতে নোংরা হস্তক্ষেপ করেছেন। ২৪-পরবর্তী বাংলাদেশে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করবে শুধুমাত্র রাজনীতিবিদরা। হাসনাত বলেন, আওয়ামী লীগ পালিয়েছে গণ অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। পৃথিবীর কোথাও ইতিহাস নেইÑ গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যারা পালাতে বাধ্য হয়, তাদের আবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়। সুতরাং আওয়ামী লীগের পতন হয়েছে ৫ আগস্ট। সেদিনই চূড়ান্ত হয়েছে আওয়ামী লীগের নাম, মার্কা, আদর্শ এদেশে রাজনীতির অধিকার হারিয়েছে। সরকারের কাছে আহ্বান এখনও আমরা আওয়ামী লীগের বিচারের ব্যাপারে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখতে পাইনি। আমরা কোনো নির্বাহী আদেশের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ দেখতে চাই না। আওয়ামী লীগের কৃতকর্মÑ গুম, খুন, হত্যার যদি সেগুলোর বিচার করতে পারেন তাহলে আগামী ৩০০ বছরেও আওয়ামী লীগ ফিরে আসবে না।
বিক্ষোভ সমাবেশে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকতেও আওয়ামী লীগকে আসতে দেওয়া হবে না। কোনো হত্যাকাণ্ডের জন্যই আওয়ামী লীগ দায় স্বীকার বা দুঃখ প্রকাশ করেনি। সেই আওয়ামী লীগের পক্ষে যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দাঁড়ান, তাহলে বাংলাদেশের জনগণ তার বিপক্ষে দাঁড়াবে। এই ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করার জন্য আমাদের ভাইয়েরা জীবন দেয়নি। আমাদের শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকতেও আওয়ামী লীগকে আসতে দেবো না। মুজিববাদী আওয়ামী লীগের রাজনীতি বাংলাদেশে আর পুনর্বাসন করতে দেওয়া হবে না। ৭ মাস হয়ে গেলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের কার্যক্রম শুরু করেনি। সরকারের প্রতি আহ্বান, দ্রুত দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের কার্যক্রম শুরু করুন। রাজনৈতিকভাবে জুলাই সনদে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কথা থাকতে হবে। আওয়ামী লীগের নামে কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম চলতে দেওয়া যাবে না। অল্প সময়ের মধ্যে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল করতে হবে। নিবন্ধন বাতিল না করলে ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে নিবন্ধন বাতিল করিয়ে ছাড়বে।
এদিকে, সেনাবাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে মন্তব্য করে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেছেন, সেনাবাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানো, বিতর্কিত করার চেষ্টা যারা করছে, তারা মূলত আরেকটি ১/১১ ফিরিয়ে আনতে চায়। গণহত্যার বিচারের আগে দেশে আ.লীগ নামে কেউ রাজনীতি করতে পারবে না উল্লেখ করে গণঅধিকার পরিষদের নেতা বলেন, আ.লীগ যারা করেছে, তাদের মধ্যে ভালো মানুষ কয়জন ছিল? তাদের আবার কীসের ক্লিন ইমেজ? আমরা তারপরও বলেছি, যারা সাধারণ ও নিরীহ ছিল, যারা সরাসরি ছাত্র-জনতার বুকে গুলি চালায়নি, তাদের ওপর আমরা জুলুম করবো না। তবে, গণহত্যার বিচারের পর আমরা তাদেরকে ছাড় দেবো এবং মাফ করবো। গণহত্যার বিচার শেষ হওয়ার আগে যতই ক্লিন ইমেজ হোক না কেন, বাংলার মাটিতে আ.লীগের নামে কেউ রাজনীতি করতে পারবে না। যারা আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন করতে আসবে, জনগণ তাদেরকে প্রতিহত করবে। প্রয়োজনে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে যমুনা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন) ঘেরাও করা হবে। আওয়ামী লীগ কে নিষিদ্ধ করতে বাধ্য করা হবে। এদিকে, কোনোভাবেই রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে জনগণকে দাঁড় করানো যাবে না বলে আহ্বান করেছেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। শুক্রবার রাতে ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টে তিনি লেখেন, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো ঢেলে সাজাতে আমরা গত কয়েকমাস কাজ করেছি। খুবই জটিল প্রক্রিয়া ছিল সব প্রতিষ্ঠানে আস্থা ও সক্রিয়তা ফেরত আনা। শক্তিশালী, জবাবদিহিমূলক এবং কার্যকর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ছাড়া আমরা এগুতে পারবো না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গুড পারফরম্যান্সের ভিত্তি হলো পুনর্গঠিত বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। সরকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার অপরাধীদের শাস্তি, পদচ্যুতি ও বিচারের আওতায় এনেছে। তদন্ত সাপেক্ষে অন্যদেরও আনা হবে। এছাড়া সব প্রতিষ্ঠানকেই নিজেদের হাত পরিষ্কার করতে হবে। কিন্তু, কোনভাবেই রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে জনগণকে দাঁড় করানো যাবে না।
এদিকে, গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার এবং দলটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে মুখ খুলেছেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না আওয়ামী লীগ। একই সঙ্গে দলের নেতৃত্বে শেখ হাসিনার বিকল্প কেউ নেই বলেও জোর গলায় জানান তিনি। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবির প্রসঙ্গে মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেন, ‘বাংলাদেশে এমন কোনো শক্তি নেই যে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে পারে। এ দেশের জন্ম দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এ দেশের কোনায় কোনায় আওয়ামী লীগের অবস্থান। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কোনো শক্তি নেই বাংলাদেশে। বাংলাদেশে রাজাকার, পাকিস্তানি ও পাকিস্তানি প্রেতাত্মারা নিষিদ্ধ হবে; আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে না। যে দেশ জন্ম দেয়, তাকে নিষিদ্ধ করা যায় না। তার দাবি, ইউনূস ও তার সহযোগীরা যেভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আচরণ করছেন, তাতে তাদের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া সম্ভব নয়।
























