বাংলাদেশ জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলে জায়গা করে নিয়েছেন নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ঐতিহাসিক পাহাড়পুরের মালঞ্চা গ্রামের তরুণ ক্রিকেটার আহসান আল মুমিন। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি প্রবল আগ্রহ, নিয়মিত কঠোর অনুশীলন এবং পরিবারের অকুণ্ঠ উৎসাহ-সহযোগিতায় তিনি এই গৌরবময় অর্জন করেছেন। মুমিনের সাফল্যে আনন্দিত হয়েছেন তাঁর পরিবার, স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও এলাকাবাসী। স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনেও এটি নতুন আশার সঞ্চার করেছে। গ্রামের এক সাধারণ পরিবারের সন্তান হয়ে জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছানো তাঁর জন্য বড় অর্জন।
আহসান আল মুমিনের বাবা মো.হোসাইন হোটেল ব্যবসায়ী, মা সুমি আক্তার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাত্র দুই বছর বয়স থেকেই বল নিয়ে খেলতে ভালোবাসতেন মুমিন। ছোটবেলায় ক্রিকেটের প্রতি তাঁর অদম্য আগ্রহ দেখে বাবা স্বপ্ন দেখেন তাঁকে একজন ভালো ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে তোলার। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পরিবার সবসময় পাশে থেকেছে। জয়পুরহাট জেলা স্টেডিয়ামে নিয়মিত অনুশীলনের সময় ক্রিকেট কোচ ও সংশ্লিষ্টদের স্নেহ, ভালোবাসা ও পরামর্শ পেয়েছেন তিনি। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনুশীলনের কঠোর রুটিন মেনে চলতেন মুমিন। নিজের আগ্রহ, পরিশ্রম এবং সবার সহযোগিতায় এবার জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ এসেছে।
আহসান আল মুমিনের অর্জনসমূহ: বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলে নির্বাচিত (আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওমানে অনুষ্ঠেয় যুব ওয়ানডে সিরিজের জন্য)
গেম ডেভেলপমেন্ট ট্রফি ২০২৬-এ বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে অংশগ্রহণ (অনূর্ধ্ব-২৩ ও অনূর্ধ্ব-১৭ দলের বিপক্ষে ম্যাচসহ)
যুব ক্রিকেট লীগ ২০২৫-২৬-এ নর্থ জোন যুব দলের হয়ে খেলা
ইয়ং টাইগার্স অনূর্ধ্ব-১৮ জাতীয় টুর্নামেন্টে রাজশাহী বিভাগ অনূর্ধ্ব-১৮ দলের প্রতিনিধিত্ব
যুব পর্যায়ের প্রায় ৫৮ ম্যাচে ২২১১ রান ও ১১ উইকেট,
সাম্প্রতিক যুব ম্যাচগুলোতে ৫৬ বলে ৩৭ রান, ৩৫ রান ও ২৪ রানের ইনিংসসহ ধারাবাহিক পারফরম্যান্স
নর্থ জোন ও রাজশাহী বিভাগীয় যুব দলের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসা
-ডানহাতি ব্যাটার ও লেগ-স্পিন বোলার হিসেবে যুব পর্যায়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স।
জাতীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ পেলেও এখানেই থেমে থাকতে চান না মুমিন। ভবিষ্যতে আরও উঁচুতে উঠে দেশের ক্রিকেটে অবদান রাখা এবং বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করাই তাঁর লক্ষ্য। তিনি স্বপ্ন দেখেন একদিন সিনিয়র জাতীয় দলে খেলার এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহান আল্লাহর রহমত এবং সবার দোয়ায় তিনি স্বপ্নের পথে গুরুত্বপূর্ণ এক ধাপ এগিয়েছেন। তবে সামনে আরও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। নিজের সব লক্ষ্য অর্জন করে দেশের জন্য কাজ করতে পারেন—এ জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছে পরিবার। যাঁরা পাশে ছিলেন, বিশেষ করে কোচ ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
স্থানীয়রা আশা করছেন, মালঞ্চা গ্রামের এই তরুণ তাঁর প্রতিভা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে জাতীয় ক্রিকেটে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবেন। পাহাড়পুরের ঐতিহ্যবাহী মাটিতে গড়ে ওঠা এই ক্রিকেটার স্থানীয় যুবসমাজের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছেন।