০১:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ সরিয়ে নেওয়া উচিত: বিআইপি

রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্থাপিত উল্লেখ করে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। আজ শুক্রবার (২৫ জুলাই) ঢাকার বাংলামোটরে প্ল্যানার্স টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এই স্কুলটি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অ্যাপ্রোচ এরিয়ায় অবস্থিত, যা জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি।

‘মাইলস্টোন স্কুলে বিমান দুর্ঘটনা: জননিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রের দায় ও করণীয়’ শীর্ষক একটি তাৎক্ষণিক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিআইপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ তামজিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, বিমানবন্দরের রানওয়ের পরবর্তী প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকাকে অ্যাপ্রোচ জোন হিসেবে ধরা হয়, যেখানে ঘন জনবসতি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো স্থাপনাগুলো থাকাটা আদর্শ মান অনুযায়ী অনুচিত। যদিও এই এলাকায় ১৫০ ফুট উচ্চতার স্থাপনা নির্মাণে কারিগরি অনুমোদন পাওয়া যায়, তবে স্থানীয় ভূমি ব্যবহারের ধরন ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে কোনও সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই।

মর্মান্তিক দুর্ঘটনা
গত সোমবার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৩৩ জনের মৃত্যু এবং দেড় শতাধিক আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ও নির্মাণ বৈধতা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়।

রাষ্ট্রের দায়িত্বে গাফিলতি
সংবাদ সম্মেলনে বিআইপির সভাপতি পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, “মাইলস্টোন স্কুলটি যে ভবনে দুর্ঘটনা ঘটেছে, সম্ভবত সেটির অনুমোদনই ছিল না। এমন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের ভবন নির্মাণে রাজউক ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।”

তিনি বলেন, “১৯৯৫ সালের ঢাকা মহানগর উন্নয়ন পরিকল্পনা (ডিএমডিপি) অনুযায়ী, ওই এলাকা ছিল জলাশয়। রাজউক কীভাবে সেখানে ভরাট ও নির্মাণের অনুমতি দিল, তা খতিয়ে দেখা দরকার।”

দুর্নীতি ও অনুমোদনের প্রশ্ন
পরিকল্পনাবিদরা অভিযোগ করেন, কয়েক দশক ধরে ভূমি ও ভবন অনুমোদন নিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দুর্নীতি চলছে। উপরমহলের চাপের মাধ্যমে নানা অবকাঠামো অনুমোদন আদায় করা হয়েছে। মাইলস্টোন স্কুলের কিছু ভবনের অনুমোদন থাকলেও, কিছু ভবনের নেই।

সুপারিশ
বিআইপি মনে করে, বিমানবন্দরের অ্যাপ্রোচ এলাকায় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদসহ সব জনসমাগম হয় এমন স্থাপনা দ্রুত সরিয়ে নিতে হবে। ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে উচ্চপর্যায়ের সরকারি তদন্ত কমিটি গঠন করে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার তালিকা তৈরির আহ্বান জানানো হয়।

বিআইপির সাধারণ সম্পাদক শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান বলেন, “মাইলস্টোন নির্মাণে যাঁরা সংশ্লিষ্ট ছিলেন—সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে অনুমোদন প্রদানকারীরা—তাঁদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা উচিত।”

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বিআইপির সহসভাপতি পরিকল্পনাবিদ সৈয়দ শাহরিয়ার আমিনসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

আইসিবিতে শুরু হলো প্রাণিস্বাস্থ্য ও মৎস্য খাতের প্রদর্শনী

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ সরিয়ে নেওয়া উচিত: বিআইপি

আপডেট সময় : ১০:৩৩:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫

রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্থাপিত উল্লেখ করে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। আজ শুক্রবার (২৫ জুলাই) ঢাকার বাংলামোটরে প্ল্যানার্স টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এই স্কুলটি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অ্যাপ্রোচ এরিয়ায় অবস্থিত, যা জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি।

‘মাইলস্টোন স্কুলে বিমান দুর্ঘটনা: জননিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রের দায় ও করণীয়’ শীর্ষক একটি তাৎক্ষণিক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিআইপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ তামজিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, বিমানবন্দরের রানওয়ের পরবর্তী প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকাকে অ্যাপ্রোচ জোন হিসেবে ধরা হয়, যেখানে ঘন জনবসতি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো স্থাপনাগুলো থাকাটা আদর্শ মান অনুযায়ী অনুচিত। যদিও এই এলাকায় ১৫০ ফুট উচ্চতার স্থাপনা নির্মাণে কারিগরি অনুমোদন পাওয়া যায়, তবে স্থানীয় ভূমি ব্যবহারের ধরন ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে কোনও সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই।

মর্মান্তিক দুর্ঘটনা
গত সোমবার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৩৩ জনের মৃত্যু এবং দেড় শতাধিক আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ও নির্মাণ বৈধতা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়।

রাষ্ট্রের দায়িত্বে গাফিলতি
সংবাদ সম্মেলনে বিআইপির সভাপতি পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, “মাইলস্টোন স্কুলটি যে ভবনে দুর্ঘটনা ঘটেছে, সম্ভবত সেটির অনুমোদনই ছিল না। এমন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের ভবন নির্মাণে রাজউক ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।”

তিনি বলেন, “১৯৯৫ সালের ঢাকা মহানগর উন্নয়ন পরিকল্পনা (ডিএমডিপি) অনুযায়ী, ওই এলাকা ছিল জলাশয়। রাজউক কীভাবে সেখানে ভরাট ও নির্মাণের অনুমতি দিল, তা খতিয়ে দেখা দরকার।”

দুর্নীতি ও অনুমোদনের প্রশ্ন
পরিকল্পনাবিদরা অভিযোগ করেন, কয়েক দশক ধরে ভূমি ও ভবন অনুমোদন নিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দুর্নীতি চলছে। উপরমহলের চাপের মাধ্যমে নানা অবকাঠামো অনুমোদন আদায় করা হয়েছে। মাইলস্টোন স্কুলের কিছু ভবনের অনুমোদন থাকলেও, কিছু ভবনের নেই।

সুপারিশ
বিআইপি মনে করে, বিমানবন্দরের অ্যাপ্রোচ এলাকায় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদসহ সব জনসমাগম হয় এমন স্থাপনা দ্রুত সরিয়ে নিতে হবে। ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে উচ্চপর্যায়ের সরকারি তদন্ত কমিটি গঠন করে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার তালিকা তৈরির আহ্বান জানানো হয়।

বিআইপির সাধারণ সম্পাদক শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান বলেন, “মাইলস্টোন নির্মাণে যাঁরা সংশ্লিষ্ট ছিলেন—সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে অনুমোদন প্রদানকারীরা—তাঁদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা উচিত।”

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বিআইপির সহসভাপতি পরিকল্পনাবিদ সৈয়দ শাহরিয়ার আমিনসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

এমআর/সবা