১২:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নতুন জোটের ইঙ্গিত দিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান জানিয়েছেন, আগামী ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। এর আগ পর্যন্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যেকোনো পরিবর্তন আসতে পারে।

আসন সমঝোতা নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সৃষ্ট জটিলতার প্রেক্ষাপটে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। গাজী আতাউর রহমান বলেন, যাদের ইসলামী আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধা ও আস্থা রয়েছে, তাদের সঙ্গে দলটি নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে থেকেই ইসলামী আন্দোলনের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এ লক্ষ্যে বুধবার বিকেলে ১১ দলীয় জোটের আসনভিত্তিক প্রার্থী ঘোষণার জন্য একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন বণ্টন নিয়ে মতৈক্যে পৌঁছাতে না পারায় ওই সংবাদ সম্মেলন বাতিল করা হয়। ইসলামী আন্দোলন ৫০টি আসনে প্রার্থী দিতে চাইলেও জামায়াত ৪০টির বেশি আসন ছাড়তে রাজি না হওয়ায় দুই দলের মধ্যে সমঝোতা আটকে যায়।

 

সংবাদ সম্মেলনে গাজী আতাউর রহমান বলেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগেই সব কিছু চূড়ান্ত হবে—এমন আশা করা হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত সে লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দলের সব স্তরের নেতাদের মতামত নেওয়া হয়েছে, মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং প্রার্থীদের বক্তব্য শোনা হয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে বুধবার দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম মজলিসে আমেলার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘ওয়ান বক্স’ নীতির আওতায় আগামী দিনের রাজনৈতিক পথচলা কেমন হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। দুই-এক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গাজী আতাউর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভবিষ্যতে ঐক্যবদ্ধভাবে সরকার গঠনের আলোচনা করার কথা জানিয়েছেন। এমনকি নির্বাচন পরবর্তী জাতীয় সরকার গঠনের বিষয়েও তিনি বক্তব্য দিয়েছেন। তবে খালেদা জিয়ার জীবদ্দশায় গড়ে ওঠা ঐক্যের ভিত্তি ভেঙে পড়ায় ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে—জামায়াত ভবিষ্যতে জাতীয় পার্টির মতো ভূমিকা পালন করবে কি না।

ইসলামী আন্দোলন এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। যাদের ইসলামী আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধা রয়েছে, তাদের নিয়েই আগামীর পথচলা নির্ধারণ করা হবে।

জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা পুরোপুরি ভেস্তে গেছে—এমন অবস্থাও এখনো তৈরি হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাউকে বাদ দেওয়া বা জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি। জাতীয় ঐক্য বজায় রাখাই ইসলামী আন্দোলনের লক্ষ্য। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ন্যূনতম সমঝোতা বজায় রাখার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

আসন সমঝোতা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার বিষয়ে গাজী আতাউর রহমান বলেন, চাপিয়ে দেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত ইসলামী আন্দোলন কখনোই মেনে নেয়নি, ভবিষ্যতেও নেবে না। একই সঙ্গে দলকে অবহেলা করা হলে সেটিও মেনে নেওয়া হবে না।

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

বিসিবি পরিচালক পদত্যাগ না করলে ক্রিকেট বর্জনের আলটিমেটাম

নতুন জোটের ইঙ্গিত দিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ১০:৩৬:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান জানিয়েছেন, আগামী ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। এর আগ পর্যন্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যেকোনো পরিবর্তন আসতে পারে।

আসন সমঝোতা নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সৃষ্ট জটিলতার প্রেক্ষাপটে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। গাজী আতাউর রহমান বলেন, যাদের ইসলামী আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধা ও আস্থা রয়েছে, তাদের সঙ্গে দলটি নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে থেকেই ইসলামী আন্দোলনের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এ লক্ষ্যে বুধবার বিকেলে ১১ দলীয় জোটের আসনভিত্তিক প্রার্থী ঘোষণার জন্য একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন বণ্টন নিয়ে মতৈক্যে পৌঁছাতে না পারায় ওই সংবাদ সম্মেলন বাতিল করা হয়। ইসলামী আন্দোলন ৫০টি আসনে প্রার্থী দিতে চাইলেও জামায়াত ৪০টির বেশি আসন ছাড়তে রাজি না হওয়ায় দুই দলের মধ্যে সমঝোতা আটকে যায়।

 

সংবাদ সম্মেলনে গাজী আতাউর রহমান বলেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগেই সব কিছু চূড়ান্ত হবে—এমন আশা করা হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত সে লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দলের সব স্তরের নেতাদের মতামত নেওয়া হয়েছে, মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং প্রার্থীদের বক্তব্য শোনা হয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে বুধবার দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম মজলিসে আমেলার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘ওয়ান বক্স’ নীতির আওতায় আগামী দিনের রাজনৈতিক পথচলা কেমন হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। দুই-এক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গাজী আতাউর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভবিষ্যতে ঐক্যবদ্ধভাবে সরকার গঠনের আলোচনা করার কথা জানিয়েছেন। এমনকি নির্বাচন পরবর্তী জাতীয় সরকার গঠনের বিষয়েও তিনি বক্তব্য দিয়েছেন। তবে খালেদা জিয়ার জীবদ্দশায় গড়ে ওঠা ঐক্যের ভিত্তি ভেঙে পড়ায় ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে—জামায়াত ভবিষ্যতে জাতীয় পার্টির মতো ভূমিকা পালন করবে কি না।

ইসলামী আন্দোলন এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। যাদের ইসলামী আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধা রয়েছে, তাদের নিয়েই আগামীর পথচলা নির্ধারণ করা হবে।

জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা পুরোপুরি ভেস্তে গেছে—এমন অবস্থাও এখনো তৈরি হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাউকে বাদ দেওয়া বা জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি। জাতীয় ঐক্য বজায় রাখাই ইসলামী আন্দোলনের লক্ষ্য। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ন্যূনতম সমঝোতা বজায় রাখার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

আসন সমঝোতা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার বিষয়ে গাজী আতাউর রহমান বলেন, চাপিয়ে দেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত ইসলামী আন্দোলন কখনোই মেনে নেয়নি, ভবিষ্যতেও নেবে না। একই সঙ্গে দলকে অবহেলা করা হলে সেটিও মেনে নেওয়া হবে না।

এমআর/সবা