6:05 pm, Thursday, 30 April 2026

রংপুরে বৃষ্টির পানিতে আলু ক্ষেত তলিয়ে, পচার শস্যে কৃষকের উদ্বেগ

গত বছরের লোকসান কাটিয়ে না উঠতেই চলতি মৌসুমে রংপুর-এ বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্ন—আলুর ক্ষেত। একরের পর একরের জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়ে আলুর শস্য নষ্ট হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে নতুন করে লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা হয়েছেন হাজারো কৃষক।

গত বুধবার ও বৃহ¯পতিবার রাতের বৃষ্টিতে একরের পর একরের আলুক্ষেত পানিতে তলিয়ে যায়। কৃষকেরা বিভিন্নভাবে পানি বের করার চেষ্টা করছেন—কেউ বালতি বা ডোল দিয়ে, কেউ কাদামাটির মধ্যে আলু তুলে উচু স্থানে শুকাতে দিচ্ছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিনে রংপুরে ৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বৃহ¯পতিবার জেলায় ৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং আগামী তিন থেকে চার দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে জেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৩,০৫০ হেক্টর, তবে বাস্তবে চাষ হয়েছে ৫৪,৫০০ হেক্টর জমিতে। এপর্যন্ত প্রায় ৫২ শতাংশ আলু উত্তোলন হয়েছে।

তারাগঞ্জ উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামের কৃষক রুহুল আমিন জানান, গত বছর আলু চাষে প্রায় ২ লাখ টাকা লোকসান হয়েছিল। এবার সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এক একর জমিতে আলু চাষ করেছিলেন, কিন্তু রাতের বৃষ্টিতে পুরো ক্ষেত তলিয়ে গেছে।

উপজেলার দোলাপাড়া মাঠে দাঁড়িয়ে আক্ষেপ করেন আবদুল হালিম, “বৃহ¯পতিবার আলু তোলার জন্য শ্রমিক নিয়ে ছিলাম। সেই শ্রমিক দিয়েই পানি সেচছি, তবু পানি শেষ হচ্ছে না। কেজিতে উৎপাদন খরচ ১৬ টাকা, বাজারে ১০ টাকায়ও কেউ নিতে চায় না।”

ইকরচালী ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মিলন রহমান জানান, পাঁচ একর জমির আলু পানিতে ডুবে গেছে। পাঁচজন শ্রমিক নিয়েও দুই একর জমি থেকে পানি বের করা যায়নি। তিনি জানান, আলুর দাম কম এবং মাঠ পানিতে ডুবে যাওয়ায় চাষিদের জন্য পরিস্থিতি মারাত্মক হয়ে উঠেছে।

চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে ১৪–১৬ টাকা। বর্তমানে বাজারে আলুর দাম ৯–১০ টাকায় হলেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘ বৃষ্টিতে ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় আলুর ক্ষতির আশঙ্কা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আলুক্ষেতে যে পানি জমেছে, তা স্বাভাবিকভাবেই নেমে যাবে। তবে যারা আলু উত্তোলন করছিলেন, তারা থেমে যাবেন এবং আকাশের অবস্থা দেখে আলু তুলবেন। দীর্ঘ সময় বৃষ্টি হলে উঠতি আলুর ক্ষতি হতে পারে।”

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

11 + sixteen =

About Author Information

Popular Post

রাষ্ট্রপতির অপসারণ ও গ্রেপ্তার দাবি নাহিদ ইসলামের

রংপুরে বৃষ্টির পানিতে আলু ক্ষেত তলিয়ে, পচার শস্যে কৃষকের উদ্বেগ

Update Time : ০৫:৪১:২৫ pm, Friday, ১৩ মার্চ ২০২৬

গত বছরের লোকসান কাটিয়ে না উঠতেই চলতি মৌসুমে রংপুর-এ বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্ন—আলুর ক্ষেত। একরের পর একরের জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়ে আলুর শস্য নষ্ট হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে নতুন করে লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা হয়েছেন হাজারো কৃষক।

গত বুধবার ও বৃহ¯পতিবার রাতের বৃষ্টিতে একরের পর একরের আলুক্ষেত পানিতে তলিয়ে যায়। কৃষকেরা বিভিন্নভাবে পানি বের করার চেষ্টা করছেন—কেউ বালতি বা ডোল দিয়ে, কেউ কাদামাটির মধ্যে আলু তুলে উচু স্থানে শুকাতে দিচ্ছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিনে রংপুরে ৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বৃহ¯পতিবার জেলায় ৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং আগামী তিন থেকে চার দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে জেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৩,০৫০ হেক্টর, তবে বাস্তবে চাষ হয়েছে ৫৪,৫০০ হেক্টর জমিতে। এপর্যন্ত প্রায় ৫২ শতাংশ আলু উত্তোলন হয়েছে।

তারাগঞ্জ উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামের কৃষক রুহুল আমিন জানান, গত বছর আলু চাষে প্রায় ২ লাখ টাকা লোকসান হয়েছিল। এবার সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এক একর জমিতে আলু চাষ করেছিলেন, কিন্তু রাতের বৃষ্টিতে পুরো ক্ষেত তলিয়ে গেছে।

উপজেলার দোলাপাড়া মাঠে দাঁড়িয়ে আক্ষেপ করেন আবদুল হালিম, “বৃহ¯পতিবার আলু তোলার জন্য শ্রমিক নিয়ে ছিলাম। সেই শ্রমিক দিয়েই পানি সেচছি, তবু পানি শেষ হচ্ছে না। কেজিতে উৎপাদন খরচ ১৬ টাকা, বাজারে ১০ টাকায়ও কেউ নিতে চায় না।”

ইকরচালী ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মিলন রহমান জানান, পাঁচ একর জমির আলু পানিতে ডুবে গেছে। পাঁচজন শ্রমিক নিয়েও দুই একর জমি থেকে পানি বের করা যায়নি। তিনি জানান, আলুর দাম কম এবং মাঠ পানিতে ডুবে যাওয়ায় চাষিদের জন্য পরিস্থিতি মারাত্মক হয়ে উঠেছে।

চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে ১৪–১৬ টাকা। বর্তমানে বাজারে আলুর দাম ৯–১০ টাকায় হলেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘ বৃষ্টিতে ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় আলুর ক্ষতির আশঙ্কা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আলুক্ষেতে যে পানি জমেছে, তা স্বাভাবিকভাবেই নেমে যাবে। তবে যারা আলু উত্তোলন করছিলেন, তারা থেমে যাবেন এবং আকাশের অবস্থা দেখে আলু তুলবেন। দীর্ঘ সময় বৃষ্টি হলে উঠতি আলুর ক্ষতি হতে পারে।”

শু/সবা