রংপুরে সিজারের পর পেটে গজ রেখেই সেলাইয়ের অভিযোগ » দৈনিক সবুজ বাংলা
১১:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংপুরে সিজারের পর পেটে গজ রেখেই সেলাইয়ের অভিযোগ

সিজারের পর থেকেই পেটে অসহ্য যন্ত্রণা, ঔষধ খেয়েও মিলছে না সুফল। পরে সিটি স্ক্যান রিপোর্টে ধরা পড়ে পেটে রয়েছে কাপড় জাতীয় বস্তু। সিজারের পর পেটে গজ রেখেই সেলাই দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে গাইনি চিকিৎসক রাজিয়া বেগম মুক্তার বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ হাবীবা জান্নাতের বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বড় আমবাড়ি গ্রামে। গত ৪১ দিন ধরে তিনি পেটের অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে ভুগছিলেন।

হাবীবা জান্নাত জানান, গত ৮ মার্চ নগরীর বন্ধন জেনারেল হাসপাতালে তার সিজার করেন চিকিৎসক রাজিয়া বেগম মুক্তা। অপারেশনের পর থেকেই তীব্র পেটব্যথা ও নানা জটিলতা দেখা দেয়। পরে চিকিৎসকের কাছে গেলে তাকে আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে বলা হয়। কিন্তু রিপোর্ট দেখানোর পরও তিনি বিষয়টি গুরুত্ব দেননি।

পরবর্তীতে অন্য গাইনি চিকিৎসক মৌসুমী হাসানের শরণাপন্ন হলে তিনি সিটি স্ক্যান করার পরামর্শ দেন। এতে রোগীর শরীরে গজ থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।

ভুক্তভোগীর স্বামী শাওন মিয়া বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে জানানো হলেও তিনি তা এড়িয়ে যান। পরে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে পুনরায় অস্ত্রোপচার করে পেট থেকে গজ বের করা হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে একজন সহযোগী জানান, চিকিৎসক রোগী দেখছেন—পরে কথা বলবেন।

রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দেখা হবে দায়িত্বে কোনো অবহেলা ছিল কিনা। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি লিখিত আবেদন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বিষয়টিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

পোকখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে গণতন্ত্র, সুশাসন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সভা ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

রংপুরে সিজারের পর পেটে গজ রেখেই সেলাইয়ের অভিযোগ

আপডেট সময় : ১০:২৫:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

সিজারের পর থেকেই পেটে অসহ্য যন্ত্রণা, ঔষধ খেয়েও মিলছে না সুফল। পরে সিটি স্ক্যান রিপোর্টে ধরা পড়ে পেটে রয়েছে কাপড় জাতীয় বস্তু। সিজারের পর পেটে গজ রেখেই সেলাই দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে গাইনি চিকিৎসক রাজিয়া বেগম মুক্তার বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ হাবীবা জান্নাতের বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বড় আমবাড়ি গ্রামে। গত ৪১ দিন ধরে তিনি পেটের অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে ভুগছিলেন।

হাবীবা জান্নাত জানান, গত ৮ মার্চ নগরীর বন্ধন জেনারেল হাসপাতালে তার সিজার করেন চিকিৎসক রাজিয়া বেগম মুক্তা। অপারেশনের পর থেকেই তীব্র পেটব্যথা ও নানা জটিলতা দেখা দেয়। পরে চিকিৎসকের কাছে গেলে তাকে আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে বলা হয়। কিন্তু রিপোর্ট দেখানোর পরও তিনি বিষয়টি গুরুত্ব দেননি।

পরবর্তীতে অন্য গাইনি চিকিৎসক মৌসুমী হাসানের শরণাপন্ন হলে তিনি সিটি স্ক্যান করার পরামর্শ দেন। এতে রোগীর শরীরে গজ থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।

ভুক্তভোগীর স্বামী শাওন মিয়া বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে জানানো হলেও তিনি তা এড়িয়ে যান। পরে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে পুনরায় অস্ত্রোপচার করে পেট থেকে গজ বের করা হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে একজন সহযোগী জানান, চিকিৎসক রোগী দেখছেন—পরে কথা বলবেন।

রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দেখা হবে দায়িত্বে কোনো অবহেলা ছিল কিনা। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি লিখিত আবেদন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বিষয়টিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

শু/সবা