ঝিনাইদহের ৪ সংসদীয় আসন : তিনটিতে নৌকা ও একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহের চারটি আসনের তিনটিতে
আওয়ামীলীগ মনোনিত নৌকা এবং একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
চুড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ি এসব আসনে ভোটে অংশ নেওয়া ১৮ প্রার্থী তাদের
জামানত হারিয়েছেন। এবারের নির্বাচনে জেলার চারটি আসনে আওয়ামীলীগ,
জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্রসহ ২৬ জন প্রার্থী অংশ নেন। আইন অনুযায়ি একটি
আসনে প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের ১ ভাগ ভোট না পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত করার রীতি
রয়েছে।
জেলার চারটি সংসদীয় আসনে বিয়জী হয়েছেন ঝিনাইদহ-১ আসনে
আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতিকের প্রার্থী সংসদ সদস্য আব্দুল হাই, ঝিনাইদহ-২
আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ঈগল প্রতিকের নাসের শাহরিয়ার মহুল, ঝিনাইদহ-৩
আসনে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতিকের প্রার্থী সালাউদ্দূন মিয়াজি ও
ঝিনাইদহ-৪ আসনে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতিকের প্রার্থী আনোয়ারুল
আজীম আনার। ৭ জানুয়ারি রোববার ভোটগ্রহন শেষে রাত ১২ টার দিকে জেলা
প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এসএম রফিকুল ইসলাম চড়ান্ত ফলাফল ঘোষনা
করেন।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ি ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা উপজেলা) আসনে নৌকা
প্রতিকের প্রার্থী আব্দুল হাই ৯৪৩৭৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম
প্রতিদ্বন্দী স্বতন্ত্র প্রার্থী ট্রাক প্রতিকের নজরুল ইসলাম (দুলাল) পেয়েছেন
৮০৫৪৭ ভোট। এ আসনে মোট প্রার্থী ৬ জন। প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ১ লাখ ৭৮
হাজার ৪৯৩।
নিয়ম অনুযায়ি এ আসনে একজন প্রার্থীর জমানত বাচাতে ভোট প্রয়োজন ২২
হাজার ৩১২। কিন্তু তৃণমূল বিএনপির কে এ জাহাঙ্গীর মাজমাদারের ভোট ১৬১,
জাতীয় পার্টির মনিকা আলম ৩৯৪, স্বতন্ত্র মৃুনিয়া আফরিন ১৫৯ ও মো.
আনিচুর রহমান পেয়েছে ২৩৮ ভোট।
ঝিনাইদহ-২ (হরিনাকুন্ডু ও সদর উপজেলা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ঈগল প্রতিকের
নাসের শাহরিয়ার জাহেদী মহুল ১লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী সংসদ সদস্য নৌকা প্রতিকের তাহজীব আলম সিদ্দিকী
পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ২০৭ ভোট। এ আসনে মোট প্রার্থী ১১ জন।
আসনটিতে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৬৩ হাজার ৬৯১।
নিয়ম অনুযায়ি এ আসনে একজন প্রার্থীর জমানত বাচাতে হলে ভোট
প্রয়োজন ছিল ৩২ হাজার ৯৬১। কিন্তু ন্যাপের খন্দকার হাফিজুর রহমান ফারুক ২৪২,
বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মো. আব্দুল হান্নান খা ২৯৬, তৃণমূল বিএনপির মো.
জামরুল ইসলাম ২৫৬, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. নজরুল ইসলাম ১২৪,
বাংলাদেশ কংগ্রেস মো. নাসির উদ্দীন ৬৮০, জাসদের মো. ফজলুল কবির ৫২৬,
জাতীয় পার্টির মো. মাহফুজুর রহমান ৭৯৮, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো.
মিজানুর রহমান মিজু ৫৯৪ ও বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্ত জোটের শরীফ মো.
বদরুল হায়দার ১৭৬ ভোট পেয়ে জমানত হারিয়েছেন।
ঝিনাইদহ-৩ (কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলা) আসনে নৌকা প্রতিকের
প্রার্থী সাবেক সামরিক সচিব মেজর জেনারেল সালাহ উদ্দিন মিয়াজী ৮৩০১৫
পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী বর্তমান সংসদ সদস্য ট্রাক
প্রতিকের এ্যাড. শফিকুল আজম খাঁন পান ৬৪৯০৯ ভোট। এ আসনে মোট
প্রার্থী ৪ জন। আসনটিতে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৫৯।
নিয়ম অনুযায়ি একজন প্রার্থীকে জমানত বাচাতে হয়ে ভোট প্রয়োজন ছিল
১৯ হাজার ৫৭০। কিন্তু জাতীয় পার্টির মো. আব্দুর রহমান ২ হাজার ১৫১ ও স্বতন্ত্র
(সাবেক সংসদ সদস) মো. নবী নেওয়াজ ৫৯৪ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ উপজেলা ও সদর উপজেলার চারটি ইউনিয়ন) আসনে নৌকা
প্রতিকের প্রার্থী আনোয়ারুল আজিম ৯৫ হাজার ৯০৭ পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী স্বতন্ত্র প্রার্থী ট্রাক প্রতিকের আব্দুর রশিদ খোকন
পেয়েছেন ৫৭ হাজার ১৯৪ ভোট। এ আসনে মোট প্রার্থী ছিল ৫ জন।
আসনটিতে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ১ লাখ ৬১ হাজার ৬১৯।
নিয়ম অনুযায়ি একজন প্রার্থীর জমানত বাচাতে ভোট প্রয়োজন ছিল ২০
হাজার ২০২। কিন্তু জাতীয় পার্টির এমদাদুল ইসলাম বাচ্চু ১৩০৬, তৃণমূল
বিএনপির নুর উদ্দীন আহমেদ ৬১৪ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম ৪০৯ ভোট
পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। জামানত হারানো প্রার্থীদের অনেকে প্রচার
প্রচারনা করেননি। এমনকি অনেকে নিজের প্রতিক দিয়ে পোষ্টারও ছাপেনি।
























