ময়মনসিংহ নান্দাইলে মুসুল্লি ইউনিয়নে তারেরঘাট বাজার সংলগ্ন নরসুন্দা নদীতে জমি (চর) দখল করে পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে অবৈধভাবে স্তূপ করে রাখা পাথর নামানো কার্যক্রম ও অনুমোদনহীন পাথর ভাঙার ক্রাসিং(স্টোন ক্রাশার) মেশিনের ব্যবহার বন্ধে যৌথ অভিযান চালিয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরিবেশ অধিদপ্তর।অন্যথায় সরকারী নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে হুশিয়ারি করেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুণ কৃষ্ণ পাল।
বুধবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে এক যৌথ অভিযানে এ নির্দেশনা দেন।
জানা যায়, সরকারি ইজারা ডাক ছাড়া,ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নামমাত্র ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে।ব্যবসায়ীরা সিলেট, সুনামগঞ্জ ও ছাতকসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বড় বড় নৌকা দিয়ে নদীপথে লাখ লাখ ঘনফুট পাথর মুশুলী ইউনিয়নের তারেরঘাট বাজারে নিয়ে আসেন।নরসুন্দা নদীতে জমি (চর) দখল করে অবৈধভাবে স্তূপ করে রাখা পাথর পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না নিয়েই ক্রাসিং মেশিন দিয়ে পাথর ভাঙা হচ্ছে।দীঘদিন ধরে অবাধে চলছে পাথরের রমরমা ব্যবসা।এতে নদীতে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।ফলে,অল্প বৃষ্টিতেই নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়।অন্যদিকে পাথর ক্রাশিংয়ের কারণে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ হচ্ছে, তেমনি শব্দদূষণসহ পাথর ভাঙার অদৃশ্য বালুকণা আশপাশের পথচারীদের চোখে পড়ায় চোখের ক্ষতি হচ্ছে।
এর আগে এক অভিযানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) (২ অক্টোবর)অবৈধভাবে স্তূপ করে রাখা পাথর ৩ দিনের মধ্যে সরানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।নিষেধাজ্ঞা
সত্ত্বেও ২৩ দিন পেরিয়ে গেলেও কার্যক্রম বন্ধ করেনি পাথর ব্যবসায়ীরা।
এদিকে পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বাচ্চু বলেন, এসিল্যান্ড এসে তিন দিনের সময় দিয়েছিলো পাথর সরানোর জন্য। কিন্তু তিন দিন কেন, তিন মাসেও এত এত পাথর সরানো সম্ভব নয়।
এ প্রসঙ্গে, নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরুণ কৃষ্ণ পাল বলেন, নদীতে পাথর রাখার কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাথর ভাঙার জন্য যে ক্রাশার মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে তা ব্যবহার করতে হলে পরিবেশ অধিদফতরের অনুমোদন নেই।এর আগেও তাদেরকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরেও তাদের কার্যক্রম বন্ধ করেনি।আবারও ময়মনসিংহ পরিবেশ অধিদপ্তর, উপ-পরিচালকে নিয়ে পাথর নামানোর কার্যক্রম বন্ধ এবং পরবর্তীতে এ কার্যক্রম না চালানোর জন্য নির্দেশ প্রদান করেছি। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ক্রাসিং মেশিন চালানোর স্বাস্থ্যগত ঝুকি সম্পর্কে শ্রমিকদের অবহিত করি এবং ক্রাসিং মেশিনগুলো বন্ধ করা হয়। পুনরায় পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক কাজ পরিলক্ষিত হলে, সরকারী নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




















