০৫:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যমুনায় চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন নদী ভাঙ্গনে শঙ্কিত এলাকাবাসী

Oplus_131072

মানিকগঞ্জের শিবালয়,ঘিওর, দৌলতপুর,  ’হাত বদল করে ’ আবার সক্রিয় হয়ে উঠছে অবৈধ বালু ব্যবসায়ীরা। তীব্র নদী ভাঙ্গন, চলছে অবৈধভাব বালু উত্তোলন। ইতোমধ্য নদী গর্ভে বিলীন হয়ছে একটি হাইস্কুল,  মুজিব কেল্লা, আশ্রয়ন প্রকল্প, ২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বহু বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। নতুন করে ভাঙ্গনের মুখে  পড়ছে অনেক ফসলি জমিসহ নানা স্থাপনা । ভাঙ্গন আতংকে শঙ্কিত নদী পারের সাধারণ মানুষ। অবৈধ ড্রেজার বন্ধে ও ভাঙ্গন রোধে সম্প্রতি  মানবন্ধন করেছেন ভুক্তভাগীরা। প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযাগ দিয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছেনা বলে অভিযাগ করছে স্থানীয়রা । প্রশাসন বলছে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে নিয়মিত মামলা অর্থদণ্ড প্রদান করা হচ্ছে।

খাঁজ নিয়ে জানা গেছে, মানিকগঞ্জের শিবালয়,ঘিওর ও দৌলতপুর  যমুনা নদীত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে দলীয় পরিচয় অনেকেই অবৈধভাবে বালু উত্তালন করে ব্যবসা করছে। এ কাজ এবার আওয়ামীলীগ না থাকলেও সক্রিয় হয়েছে বিএনপি নামধারীরা। বরাবরই রাজনৈতিক পরিচয় চিহ্নিত ব্যক্তিরা প্রশাসনর কর্মকর্তাদের ম্যানজ কর নদী থেকে অবৈধভাবে বালু-মাটি উত্তালন করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

বালুমহালের সঙ্গে সংযুক্ত একাধিক সূত্র জানায়, দেশের প্রতিকূল পরিস্থিতির  মধ্যই শিবালয়ের পদ্মা-যমুনার বিভিন্ন অংশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তালনের কর্মযজ্ঞ চলছে। প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দলীয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বালু উত্তালন চলছে বলে অভিযাগ উঠছে।

এ বিষয় স্থানীয় রাজনতিক দলের পদ-পদবীধারীরা বলেন, দলর নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তালনে, চাঁদাবাজি, দখলবাজি বা অন্য কোন অপরাধ করলে দল তার দায়ভার নেবে না। কেউ যদি অন্যায় অনিয়ম করে তার দায় তাকেই নিতে হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজলার তেওতার আলাকদিয়া এলাকায় যমুনা নদীতে দেশীয় কাটার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে তোলা হচ্ছে বালু। বিগত সরকারের আমলে এ এলাকায় বালু উত্তালনের কারণে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙ্গন। বিলীন হয়ে গেছে হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি, বসতবাড়িসহ নানা স্থাপনা । বাড়ি-ঘর হারিয়েছে হাজারও মানুষ হয়েছে নিঃস্ব । চরশিবালয় ও আলাকদিয়ায় স্থাপিত প্রায় ২২ কাটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্প-১-২, ১৫ কাটি টাকা ব্যয় নির্মিত রুস্তম আলী হাওলাদার উচ্চ বিদ্যালয়, ৭ কাটি টাকা ব্যয় নির্মিত মুজিব কল্লা, মধ্যনগরে ও চর বোষ্টমী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভ বিলীন হয়ে গেছে। এর পরও আলাকদিয়ার কাছে যমুনা নদীতে চলছে অবৈধ ড্রেজার। ভাঙ্গণের ভয়ে সঙ্গীত  নদী পাড়ের বাসিন্দারা। অবৈধ বালু উত্তালন বন্ধে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক, হিমালয় উপজেলা প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযাগ করেও কান প্রতিকার না পেয়ে ভুক্তাভাগীরা একত্রিত হয় করেছেন মানববন্ধন কর্মসুচি।

ভাঙ্গন কবলিত আলাকদিয়া চলাঞ্চলের বাসিন্দা মোকলেছ মিয়া বলেন, যারা নদী থেকে মাটি তোেল তারা দলীয় প্রভাবশালী । আমরা এদের কিছু বলত পারি না। আপনাদের  লেখার মাধ্যম যদি কিছু করতে পারেন। নদীর মাঝ ৭ নং টাওয়ারের আশপাশের এলাকায় কাটার মেশিন দিয়ে দফায় দফায় মাটি কাটছে। এরা আমাদর গ্রামটি শেষ করে দিয়েছে। আমাদর এ গ্রামটি দীর্ঘ দুই মাইল লম্বা ছিল। বর্তমান তা হাফ-কিলামিটারও নাই। অবৈধ ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার কারণে গ্রামরে বাকী অংশও কখন যেন নদীতে চলে যায়। এছাড়া রাহাতপুর, চরবষ্টমী, ৷ টেংগুরহাটা ও আশ্রয়ণ প্রকল্প সবই নদীতে চলে গেছে।

এ গ্রামের খায়ের মোল্লা বলন, আলাকদিয়ার পাশে মুজিব কেল্লার একটু ভাটিতে যমুনা নদীতে কাটার লাগানো হয়েছে।এর আগেও অবৈধভাবে মাটি কাটা হয়েছে। প্রশাসন অভিযান চালিয়ে জড়িমানা আদায় করেছে। তার পরেও বন্ধ হয়নি মাটি উত্তোলনের  কাজ। এভাবে চলতে থাকলে চরের জমিজমা উঠবেনা। আমরাও চাষাবাদ করতে পারবো না।

স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্ত বলেন, বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিক দলের নেত্রীবৃন্দ ও প্রশাসনের মদদে নদীর মাটি উত্তালনে গ্রামের পর গ্রাম নদী গর্ভ বিলীন হয় গেছে। এখন শুধু মাত্র হাত বদলের মাধ্যমে একই কায়দায় মুষ্টিমীয় নেতাকর্মীরা পকেট ভারি করার জন্য এমন কাজ আবার শুরু করছে। যা দেখার যেন কেউ নেই।
শিবালয় উপজলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো বেলাল হোসেন ও দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃআহসানুল আলম এ বিষয়ে দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন যমুনা নদীতে মাটি কাটার বিষয়ে আমরা গত সপ্তাহে অভিযান পরিচালনা করেছি। তবে এমন কর্ম -যজ্ঞের বিরুদ্ধে দ্রুতই আবার প্রয়াজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যমুনায় চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন নদী ভাঙ্গনে শঙ্কিত এলাকাবাসী

আপডেট সময় : ০৪:২৬:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪

মানিকগঞ্জের শিবালয়,ঘিওর, দৌলতপুর,  ’হাত বদল করে ’ আবার সক্রিয় হয়ে উঠছে অবৈধ বালু ব্যবসায়ীরা। তীব্র নদী ভাঙ্গন, চলছে অবৈধভাব বালু উত্তোলন। ইতোমধ্য নদী গর্ভে বিলীন হয়ছে একটি হাইস্কুল,  মুজিব কেল্লা, আশ্রয়ন প্রকল্প, ২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বহু বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। নতুন করে ভাঙ্গনের মুখে  পড়ছে অনেক ফসলি জমিসহ নানা স্থাপনা । ভাঙ্গন আতংকে শঙ্কিত নদী পারের সাধারণ মানুষ। অবৈধ ড্রেজার বন্ধে ও ভাঙ্গন রোধে সম্প্রতি  মানবন্ধন করেছেন ভুক্তভাগীরা। প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযাগ দিয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছেনা বলে অভিযাগ করছে স্থানীয়রা । প্রশাসন বলছে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে নিয়মিত মামলা অর্থদণ্ড প্রদান করা হচ্ছে।

খাঁজ নিয়ে জানা গেছে, মানিকগঞ্জের শিবালয়,ঘিওর ও দৌলতপুর  যমুনা নদীত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে দলীয় পরিচয় অনেকেই অবৈধভাবে বালু উত্তালন করে ব্যবসা করছে। এ কাজ এবার আওয়ামীলীগ না থাকলেও সক্রিয় হয়েছে বিএনপি নামধারীরা। বরাবরই রাজনৈতিক পরিচয় চিহ্নিত ব্যক্তিরা প্রশাসনর কর্মকর্তাদের ম্যানজ কর নদী থেকে অবৈধভাবে বালু-মাটি উত্তালন করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

বালুমহালের সঙ্গে সংযুক্ত একাধিক সূত্র জানায়, দেশের প্রতিকূল পরিস্থিতির  মধ্যই শিবালয়ের পদ্মা-যমুনার বিভিন্ন অংশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তালনের কর্মযজ্ঞ চলছে। প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দলীয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বালু উত্তালন চলছে বলে অভিযাগ উঠছে।

এ বিষয় স্থানীয় রাজনতিক দলের পদ-পদবীধারীরা বলেন, দলর নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তালনে, চাঁদাবাজি, দখলবাজি বা অন্য কোন অপরাধ করলে দল তার দায়ভার নেবে না। কেউ যদি অন্যায় অনিয়ম করে তার দায় তাকেই নিতে হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজলার তেওতার আলাকদিয়া এলাকায় যমুনা নদীতে দেশীয় কাটার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে তোলা হচ্ছে বালু। বিগত সরকারের আমলে এ এলাকায় বালু উত্তালনের কারণে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙ্গন। বিলীন হয়ে গেছে হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি, বসতবাড়িসহ নানা স্থাপনা । বাড়ি-ঘর হারিয়েছে হাজারও মানুষ হয়েছে নিঃস্ব । চরশিবালয় ও আলাকদিয়ায় স্থাপিত প্রায় ২২ কাটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্প-১-২, ১৫ কাটি টাকা ব্যয় নির্মিত রুস্তম আলী হাওলাদার উচ্চ বিদ্যালয়, ৭ কাটি টাকা ব্যয় নির্মিত মুজিব কল্লা, মধ্যনগরে ও চর বোষ্টমী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভ বিলীন হয়ে গেছে। এর পরও আলাকদিয়ার কাছে যমুনা নদীতে চলছে অবৈধ ড্রেজার। ভাঙ্গণের ভয়ে সঙ্গীত  নদী পাড়ের বাসিন্দারা। অবৈধ বালু উত্তালন বন্ধে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক, হিমালয় উপজেলা প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযাগ করেও কান প্রতিকার না পেয়ে ভুক্তাভাগীরা একত্রিত হয় করেছেন মানববন্ধন কর্মসুচি।

ভাঙ্গন কবলিত আলাকদিয়া চলাঞ্চলের বাসিন্দা মোকলেছ মিয়া বলেন, যারা নদী থেকে মাটি তোেল তারা দলীয় প্রভাবশালী । আমরা এদের কিছু বলত পারি না। আপনাদের  লেখার মাধ্যম যদি কিছু করতে পারেন। নদীর মাঝ ৭ নং টাওয়ারের আশপাশের এলাকায় কাটার মেশিন দিয়ে দফায় দফায় মাটি কাটছে। এরা আমাদর গ্রামটি শেষ করে দিয়েছে। আমাদর এ গ্রামটি দীর্ঘ দুই মাইল লম্বা ছিল। বর্তমান তা হাফ-কিলামিটারও নাই। অবৈধ ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার কারণে গ্রামরে বাকী অংশও কখন যেন নদীতে চলে যায়। এছাড়া রাহাতপুর, চরবষ্টমী, ৷ টেংগুরহাটা ও আশ্রয়ণ প্রকল্প সবই নদীতে চলে গেছে।

এ গ্রামের খায়ের মোল্লা বলন, আলাকদিয়ার পাশে মুজিব কেল্লার একটু ভাটিতে যমুনা নদীতে কাটার লাগানো হয়েছে।এর আগেও অবৈধভাবে মাটি কাটা হয়েছে। প্রশাসন অভিযান চালিয়ে জড়িমানা আদায় করেছে। তার পরেও বন্ধ হয়নি মাটি উত্তোলনের  কাজ। এভাবে চলতে থাকলে চরের জমিজমা উঠবেনা। আমরাও চাষাবাদ করতে পারবো না।

স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্ত বলেন, বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিক দলের নেত্রীবৃন্দ ও প্রশাসনের মদদে নদীর মাটি উত্তালনে গ্রামের পর গ্রাম নদী গর্ভ বিলীন হয় গেছে। এখন শুধু মাত্র হাত বদলের মাধ্যমে একই কায়দায় মুষ্টিমীয় নেতাকর্মীরা পকেট ভারি করার জন্য এমন কাজ আবার শুরু করছে। যা দেখার যেন কেউ নেই।
শিবালয় উপজলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো বেলাল হোসেন ও দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃআহসানুল আলম এ বিষয়ে দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন যমুনা নদীতে মাটি কাটার বিষয়ে আমরা গত সপ্তাহে অভিযান পরিচালনা করেছি। তবে এমন কর্ম -যজ্ঞের বিরুদ্ধে দ্রুতই আবার প্রয়াজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।