গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ১১০ জন ফিলিস্তিনি কারাবান্দিকে ছেড়ে দিচ্ছে ইসরায়েল, বিনিময়ে ৩ জন ইসরায়েলি এবং ৫ জন থাই জিম্মিকে মুক্তি দিচ্ছে গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাস। অন্যদিকে, গাজার পশ্চিম ভূখণ্ডে হামলায় ১০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার মুক্তি পেয়েছেন ১১০ ফিলিস্তিনি কারাবন্দি। গত বুধবার নিজেদের সামরিক শাখা কাসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু উবাইদা স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা তিন ইসরায়েলি জিম্মির নাম প্রকাশ করেছে হামাস। এরা হলেন আরবেল ইয়েহুদ, আগাম বার্গার এবং গ্যাডি মোশে মোজেস। এই জিম্মিদের বিনিময়ে যে ১১০ জন ফিলিস্তিনি কারাবন্দি মুক্তি পাচ্ছেন সে তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে। এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, মুক্তির অপেক্ষায় থাকা এই ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ৩২ জন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৪৮ জন দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড এবং ৩০ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক কারাবন্দি রয়েছেন।
এদিকে, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস গতকাল বৃহস্পতিবার আরও ৮ জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে। এরমধ্যে তিনজন ইসরায়েলি। বাকি পাঁচজন থাইল্যান্ডের নাগরিক। এই ৮ জনের মধ্যে আগাম বেরগার নামের এক নারী সেনাকে ইতিমধ্যে মুক্তি দিয়েছে এ সশস্ত্র গোষ্ঠী। গত বুধবার মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও মিসরের মাধ্যমে এসব জিম্মির নামের তালিকা দেয় হামাস। এরপর দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দপ্তর জিম্মিদের নামের তালিকা পাওয়ার তথ্য স্বীকার করে। তারা জানায়, জিম্মিদের পরিবারকে এ ব্যাপারে অবহিত করা হয়েছে। পাঁচ থাই নাগরিকের জিম্মির মুক্তির বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে দখলদার ইসরায়েলের কর্মকর্তারা। সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, গাজায় এখনো আট থাই নাগরিক ও একজন করে নেপালি ও তানিজানিয়ান রয়েছেন। অবশ্য আট থাইয়ের মধ্যে দুজন মারা গেছেন। এছাড়া তানজানিয়ার ওই নাগরিকও নিহত হয়েছেন। তিন ইসরায়েলির মধ্যে আরবেল ইয়েহুদের গত শনিবার মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। তবে তিনি ফিলিস্তিনের আরেক সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক জিহাদের হাতে বন্দি থাকায় তাকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি। আর তাকে মুক্তি না দেওয়ায় সাধারণ গাজাবাসীকে উত্তরাঞ্চলে যেতে দিচ্ছিল না ইসরায়েল। পরবর্তীতে হামাস এই নারীকে মুক্তির আশ্বাস দেয়। এরপর দখলদার ইসরায়েল গাজাবাসীকে উত্তরাঞ্চলে যেতে দেয়।
অন্যদিকে, গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবার পর থেকেই অধিকৃত পশ্চিম ভূখণ্ডটিতে হামলা ও অভিযান আরও জোরদার করেছে ইসরায়েল। ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলায় কমপক্ষে ১০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গত বুধবার ইসরায়েলি বিমান হামলায় কমপক্ষে ১০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, সশস্ত্র যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলীয় তুবাস এলাকায় এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ঢুকে নজিরবিহীন হামলা চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যার পাশাপাশি ২৫১ জনকে জিম্মি হিসেবে ধরে নিয়ে গিয়েছিল হামাসের যোদ্ধারা। হামলার জবাব দিতে এবং জিম্মিদের উদ্ধারে সেদিন থেকে গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। সে অভিযানে নিহত হয়েছেন ৪৭ হাজার ৪ শতাধিক এবং আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ১১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। নিহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
টানা ১৫ মাস ধরে ভয়াবহ সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপে অবশেষে চলতি জানুয়ারির মাঝমাঝি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরায়েল এবং হামাস। এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, আগামী ৬ সপ্তাহে নিজেদের কব্জায় থাকা অবশিষ্ট জিম্মিদের মুক্তি দেবে হামাস এবং তার বিনিময়ে ১হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার কারাবন্দি ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দিবে ইসরায়েল। গত ১৯ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে যুদ্ধবিরতি। তারপর থেকে এ পর্যন্ত ৭ জন জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস, বিনিময়ে ২৯০ জন ফিলিস্তিনি কারাবন্দিকে মুক্তি দিয়েছে ইসরায়েল।























