ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের প্রভাবে উত্তরাঞ্চলে জনজীবন তীব্র শীতে স্থবির হয়ে পড়েছে। নিম্নআয়ের মানুষরা শীতের কাপড়ের অভাবে খড়খুটা জ্বালিয়ে নিজেকে গরম রাখার চেষ্টা করছে।
রংপুর বিভাগের ৮ জেলার মধ্যে ৫ জেলাতেই তিন দিন ধরে তাপমাত্রা প্রায় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে অবস্থান করছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এছাড়া পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১০.৩ ডিগ্রি, ঠাকুরগাঁওয়ে ১০.৭ ডিগ্রি, দিনাজপুরে ১০.৮ ডিগ্রি, রংপুরে ১১.৫ ডিগ্রি, নীলফামারীর সৈয়দপুরে ১০.৮ ডিগ্রি, ডিমলায় ১১ ডিগ্রি, লালমনিরহাটে ১১ ডিগ্রি এবং গাইবান্ধায় ১১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানান, “রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ২–৩ ঘণ্টার বেশি সূর্যের দেখা মিলছে না। মধ্যরাত থেকে বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়ছে এবং হিমেল বাতাস শীতের তীব্রতা বহুগুণে বাড়াচ্ছে। চলতি সপ্তাহে তাপমাত্রা ৫–৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।”
শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির ফলে সহায়-সম্বলহীন হতদরিদ্র ও ভাসমান মানুষের জন্য গরম কাপড় ও শীতবস্ত্র বিতরণে কোনো যথেষ্ট সরকারি উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। রংপুর বিভাগীয় প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, শীতার্তদের জন্য চাহিদাপত্র দেওয়া হলেও বরাদ্দ পাওয়া অনেক কম হওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে। সামাজিক সংগঠনগুলোও এ বিষয়ে তেমন কার্যক্রম পরিচালনা করছে না।
এদিকে শীতজনিত কারণে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় ভাইরাস জ্বর, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, সর্দি-জ্বর ও শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া নিয়ে চিকিৎসাধীন ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের সরদার অফিসের মমতাজ উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আখতার হোসেন অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, “সন্ধ্যার পর থেকে সকাল পর্যন্ত শিশুদের গরম কাপড় পরিয়ে রাখুন এবং ঠান্ডা লাগার থেকে রক্ষা করুন। শীতের তীব্রতা শিশুদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।”
উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ চিকিৎসা কেন্দ্র রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন শত শত শিশু শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে।
শু/সবা




















