শিরোপা জেতার চেয়ে তা ধরে রাখা কঠিন। বাংলাদেশ অনুর্ধ-২০ জাতীয় নারী ফুটবল দলের সামনে এখন সেই চ্যালেঞ্জ। আর সেই চ্যালেঞ্জ উতরানোর পথে একটি বাধা আছে, সেই বাধার নাম নেপাল।
সাফ অনূর্ধ-২০ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে আজ রবিবার দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকার বসুন্ধরা কিংস এ্যারেনায় অনুষ্ঠিত দিনের প্রথম ম্যাচে বিকেল ৩টায় শ্রীলঙ্কা মোকাবিলা করবে ভুটানকে। সন্ধ্যা ৭টায় অপর ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে নেপালের।
এই আসরে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ও নেপাল দু’দলই ১টি করে ম্যাচ জিতেছে। তবে গোল বেশি করায় পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে আছে বাংলাদেশই। তারা নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৯-১ গোলে উড়িয়ে দেয় শ্রীলঙ্কাকে। আর নেপাল ৬-১ গোলে বিধ্বস্ত করে ভুটানকে। ফলে আজকের ম্যাচটি দুই দলের জন্যই অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই আসরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে। ফলে কোন সেমিফাইনাল ও ফাইনাল বলে কিছু থাকছে না। প্রতিটি দল একে অপরের বিপক্ষে দু’বার করে খেলবে। তারপর সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়া দলটি চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে দুটি দলের পয়েন্ট যদি সমান হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে গোল পার্থক্যের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
গত আসরে (ঢাকার কমলাপুর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত) ভারত অংশ নিয়েছিল। তারা এবং বাংলাদেশ যুগ্মভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এবার ভারত খেলছে না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই আসরে ফেভারিট বাংলাদেশ। তবে তাদের একটু বেগ দিতে পারে নেপাল। যদিও গত আসরে নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়েছিল লাল-সবুজ বাহিনী। সেই ম্যাচে জোড়া গোল করেছিলেন মোসাম্মৎ সাগরিকা। মুনকি আক্তার করেছিলেন অপর গোলটি। এবারের আসরে সাগরিকা-মুনকি দুজনেই খেলছেন। উভয়েই প্রথম ম্যাচে লঙ্কাকে হারানোর পথে বড় ভূমিকা রেখেছেন। সাগরিকা করেছেন হ্যাটট্রিক, মুনকি করেছেন জোড়া গোল। আজও এই দুজনের দিকে তাকিয়ে থাকবেন বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা।
আজকের ম্যাচে বাংলাদেশের জন্য মাথাব্যথার কারণ হতে পারেন নেপালের ফরোয়ার্ড পূর্ণিমা রানী। প্রথম ম্যাচে ভুটানকে উড়িয়ে দেয়ার ম্যাচে তিনি একাই করেছেন হ্যাটট্রিকসহ চার গোল।
বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ পিটার বাটলার এই দুই ফরোয়ার্ডের ওপরই অনেকটা ভরসা করছেন। তবে শুধু সাগরিকা-মুনকি নয়, মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগেও বেশ কিছু প্রতিভাবান ফুটবলার রয়েছেন, যারা গোটা দলের পারফরম্যান্সকে ভারসাম্যপূর্ণ করে তুলেছে। গোলরক্ষক ও রক্ষণভাগও এখন পর্যন্ত নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে।
তবে প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশ দলের ফরোয়ার্ডদের একের পর এক গোল মিস যথেষ্ট ভাবিয়েছে ও উদ্বিগ্ন করেছে কোচ পিটার বাটলারকে। শ্রীলঙ্কা অনভিজ্ঞ ও দুর্বল দল বলে এই সমস্যা ভোগায়নি বাংলাদেশকে। কিন্তু আজকের প্রতিপকক্ষ নেপাল কিন্তু লঙ্কাবাহিনীদের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। ফলে সাগরিকা-মুনকি-শিখাদের গোল মিস হয়তো বিপদে ফেলতে পারে স্বাগতিক দলকে।
ফিটনেসের বিচারে বাংলাদেশ-নেপাল সমানে সমান। স্পিড এবং স্ট্যামিনার দিক থেকেও দু’দলের অবস্থান উনিশ-বিশ। এরপরেই আসবে স্কিলের প্রশ্ন। আর এই বিষয়টিই আজকের ম্যাচে দুই দলের মধ্যে জয়-হারের তফাত গড়ে দেবে। বাংলাদেশ দলের প্লাস পয়েন্ট হচ্ছে তারা খেলবে নিজেদের মাঠে। ফলে আবহাওয়া-দর্শক-কন্ডিশন … সবকিছুই তাদের চেনা।
এদিকে টুর্নামেন্টের প্রথম দিনের উদ্বোধনী খেলায় বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচে গ্যালারির বেশিরভাগ আসনই ফাঁকা ছিল। পরে অবশ্য সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আরও কিছু দর্শক গ্যালারিতে গিয়ে হাজির হন। জানা গেছে, বাফুফে নাকি এই ম্যাচের মাত্র ৩২ টিকেট বিক্রি করেছিল। তাহলে প্রশ্ন উঠেছে এত দর্শক কোথা থেকে এল? এ নিয়ে ফেসবুকে ট্রল করা হচ্ছে বাফুফেকে। তারা বলছে, দুপুরে খেলা হওয়াতেই সম্ভবত দর্শকরা মাঠে যেতে উৎসাহী হননি। এজন্য বাংলাদেশের পরের ম্যাচটি সন্ধ্যায় রাখা হয়েছে। যাতে শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবিরা সময়মতো মাঠে গিয়ে খেলা উপভোগ করতে পারেন।
তবে ঢাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আজকের ম্যাচে মাঠ ভারী থাকলে দু’দলের ফুটবলারদের স্বাভাবিক নৈপুণ্য ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কাটা থেকেই যাচ্ছে। মাঠের এই পরিস্থিতিতে কারা নিজেদের মানিয়ে নিতে পারবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। কাদামাটির মাঠে দ্রুতগতির ফুটবল খেলা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আজকের ম্যাচে যে দল পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাওয়াতে পারবে, তারাই বাড়তি সুবিধা পাবে।
সবমিলিয়ে আজকের বাংলাদেশ-নেপাল ম্যাচটি হতে যাচ্ছে টুর্নামেন্টের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ। দুই দলেরই লক্ষ্য থাকবে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা এবং ফাইনালের বিকল্প এই লিগের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করা। এখন দেখার বিষয়, লাল-সবুজের মেয়েরা কি পারবে হিমালয়ের কন্যাদের রুখে দিয়ে আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে?

























