একদিকে বঙ্গকন্যারা। অন্যদিকে হিমালয়কন্যারা। বলা হচ্ছে বাংলাদেশ বনাম নেপাল অনুর্ধ-২০ জাতীয় নারী ফুটবল দলের কথা। সাফ অনুর্ধ-২০ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা প্রত্যাশী বাংলাদেশ। ট্রফি নিয়ে হিমালয়ের পাদদেশে যেতে মরিয়া নেপালের মেয়েরাও। এই স্বপ্নপূরণ করতে হলে দুই দলকেই দুটি সমীকরণ বাস্তবায়ন করতে হবে। আজ সোমবার বসুন্ধরা কিংস এ্যারেনা গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচ বা ‘অলিখিত ফাইনাল’-এ (সন্ধ্যা ৭টায়) মুখোমুখি হবে এই দুই দল। শিরোপাটা নিজেদের করে নিতে নেপালকে জিততেই হবে। অন্যদিকে কমপক্ষে ড্র করলেই শিরোপার হ্যাটট্রিক-উল্লাস করতে পারবে টুর্নামেন্টের স্বাগতিক বাংলাদেশ।
ডাবল লিগভিত্তিক এই টুর্নামেন্টে নেপালের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের মেয়েরা ৩-২ গোলের ব্যবধানে জিতেছিল। আজ বাংলাদেশ নেপালকে হারালে বা ড্র করলেই সাগরিকারা হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হবে। বাংলাদেশ তাদের ৫ ম্যাচ খেলে ২২ গোল দেওয়ার বিপরীতে ৪ গোল হজম করেছে। পক্ষান্তরে নেপাল এদিক দিয়ে আফঈদাদের থেকেও অনেক এগিয়ে। তারা ৩০ গোল দেওয়ার পাশাপাশি গোল হজম করেছে বাংলাদেশের সমান ৪টি। বাংলাদেশের যেখানে +২০ সেখানে নেপালের গোলপার্থক্য +২৬। পাঁচ ম্যাচের সবকটিতে জিতে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রয়েছে স্বাগতিকরা। এক ম্যাচ হারায় ১২ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে নেপাল।
সাফ অনুর্ধ্ব-২০ এবারের আসরে ১০ ম্যাচে ৬২টি গোল হয়েছে যেখানে প্রতি ম্যাচে গোলের হার ৬.২। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলে করেছেন নেপালের পূর্ণিমা রায় (১০টি)। দ্বিতীয় আরেক নেপালি মিনা দিওবা (৭টি)। ৪ গোল করে তৃতীয় স্থানে আছেন সাগরিকা, শান্তি মার্ডি ও শ্রীমতি তৃষ্ণা রানী।
টুর্নামেন্টের বাইলজ অনুযায়ী নেপালে যেহেতু গোল ব্যবধানে এগিয়ে, সেখানে তারা বাংলাদেশকে হারাতে পারলেই চ্যাম্পিয়ন হবে। নেপালের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৫৬ মিনিট পর্যন্ত একচেটিয়াই খেলেছিল বাংলাদেশ। প্রথম অর্ধে তারা ২-০ গোলের লিড ধরে রেখেছিল। সিমরান রাইয়ের সাথে হাতাহাতির ঘটনায় সাগরিকার লাল কার্ডের পরই ম্যাচে দৃশ্যপট পাল্টে যায়। নেপাল ৭৮ ও ৮৭ মিনিটে ২ গোল করে খেলায় সমতা নিয়ে আসে। তবে তৃষ্ণা রানীর শেষ মুহূর্তের নাটকীয় গোলে ৩-২ স্কোরলাইনে শ্বাসরুদ্ধকর জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। তাদের এই খেলা নিয়ে ক্ষোভ ঝেড়েছিলেন হেড কোচ পিটার বাটলার। শেষ ৩০ মিনিটের খেলাকে ‘স্টুপিড’ খেলা বলে উল্লেখ করেন। আজকের এই ম্যাচে দুই দল ‘হাইলাইন ডিফেন্স’ পদ্ধতিতেই খেলবে। সেক্ষেত্রে একটু ভুল করলেই হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়নশিপ হওয়ার গৌরব হারাতে পারে আফঈদারা। বাংলাদেশের সামনে তাই বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।
নেপালের বিপক্ষে ম্যাচে লালকার্ড দেখেছিলেন দলের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড মোসাম্মাৎ সাগরিকা। তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে নেপালের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে মাঠে নামবেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করা এই ফরোয়ার্ড।
শেষ হাসিটা এই ম্যাচেও হাসতে চায় বাংলাদেশ। নারী দলের ম্যানেজার মাহমুদা আক্তার অনন্যা বলেছেন, ‘দলের সবাই সুস্থ আছে, এই ম্যাচের জন্য সবাই প্রস্তুত। সন্ধ্যায় রিকভারি সেশন ছিল, কোচের সঙ্গে বসে কালকের ম্যাচের পরিকল্পনা করব।’
টুর্নামেন্টের শুরুতে বাংলাদেশ ৯-১ গোলে হারায় শ্রীলঙ্কাকে। দ্বিতীয় ম্যাচে উড়িয়ে দেয় নেপালকে ৩-২ গোলে। পরপর দুই ম্যাচে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সারির দলের সামনে পাত্তা পায়নি ভুটান। পঞ্চম ম্যাচে আবার শ্রীলঙ্কাকে হারায় ৫-০ গোলে।
এখন দেখার বিষয়, আজ অঘোষিত ফাইনালে হিমালয়কন্যাদের কাঁদিয়ে হ্যাটট্রিক শিরোপাজয়ের উল্লাসে মাততে পারে কি না বঙ্গকন্যারা।

























