০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
খেলার কথা বলে বের হয়ে আন্দোলনে শহীদ হন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমজাদ

নুডুলস রান্না করে আজও সন্তানের অপেক্ষায় মা দেলোয়ারা বেগম

ছেলের বায়নায় রান্না করা নুডুলস আর খাওয়াতে পারেননি মা দেলোয়ারা বেগম। রান্নাঘরে থাকা অবস্থায়ই ঘর ছেড়ে বের হয়ে যায় ছেলে আমজাদ হোসেন। উদ্দেশ্য ছিল বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা। কিন্তু সেদিনই কোটা সংস্কার আন্দোলনের মিছিলে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান তিনি। আর ফিরে আসেননি মায়ের কাছে।

নরসিংদীর পলাশ উপজেলার রামপুর গ্রামের কৃষক আরমান মিয়ার ছেলে আমজাদ হোসেন (২৪) ছিলেন শহীদ আসাদ কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নরসিংদীতে কোটা আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন তিনি।

মা দেলোয়ারা বেগম আজও মানতে পারছেন না ছেলের মৃত্যুর সত্য। ঘরের দরজা দিয়ে কেউ প্রবেশ করলেই প্রশ্ন করেন, “আমজাদ কই?” এরপর শুরু হয় কান্না আর মাতম। এক বছরের বেশি সময় কেটে গেলেও আমজাদের জন্য রান্না করা নুডুলসের সেই স্মৃতি আজও বয়ে বেড়ান তিনি।

ঘটনার দিন দুপুরে আমজাদ মায়ের কাছে নুডুলস খাওয়ার আবদার করে গোসল করতে যায়। মা দেলোয়ারা রান্নাঘরে যান সেই নুডুলস রান্না করতে। ফিরে এসে দেখেন, ছেলে ঘরে নেই। খেলার কথা বলে বন্ধুর ফোন পেয়ে বের হয়ে গিয়েছিল আমজাদ।

রাত ৯টার দিকে খবর আসে, নরসিংদীর ইটাখোলা এলাকায় পুলিশের গুলিতে আন্দোলনকারী একজন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন—নিহত সেই শিক্ষার্থীই ছিল আমজাদ। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলন শেষে বাড়ি ফেরার পথে পুলিশের গুলিতে মাথায় আঘাত পান তিনি। প্রথমে তাকে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, পরে সেখান থেকে জেলা হাসপাতালে নেয়ার পথেই মৃত্যু হয় তার।

অভাবের সংসারে বড় আশা নিয়ে ছেলেকে পড়াচ্ছিলেন বাবা-মা। তিন ছেলে, দুই মেয়ের মধ্যে আমজাদ ছিলেন দ্বিতীয়। অনেক সময় মা-বাবাকে ধার করে কিংবা মানুষের কাছে সাহায্য নিয়ে সন্তানের লেখাপড়ার খরচ চালাতে হয়েছে। স্বপ্ন ছিল—ছেলে একদিন উচ্চশিক্ষা নিয়ে পরিবার ও সমাজে সম্মান বয়ে আনবে।

ছেলের মৃত্যুতে বিধ্বস্ত হলেও বাবার মুখে গর্বও আছে। কৃষক আরমান মিয়া বলেন, “আমার ছেলে দেশের জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে শহীদ হয়েছে। আমজাদের মতো শহীদ সন্তানদের জন্যই দেশে আজ স্বৈরশাসনের পতন হয়েছে। আমি গর্বিত একজন শহীদ পিতা হতে পেরে।”

তিনি আশা করেন, “এই জাতি যেন কখনও আমজাদের মতো শহীদদের ভুলে না যায়।”

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

বিসিবি পরিচালক পদত্যাগ না করলে ক্রিকেট বর্জনের আলটিমেটাম

খেলার কথা বলে বের হয়ে আন্দোলনে শহীদ হন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমজাদ

নুডুলস রান্না করে আজও সন্তানের অপেক্ষায় মা দেলোয়ারা বেগম

আপডেট সময় : ০৪:৫৪:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫

ছেলের বায়নায় রান্না করা নুডুলস আর খাওয়াতে পারেননি মা দেলোয়ারা বেগম। রান্নাঘরে থাকা অবস্থায়ই ঘর ছেড়ে বের হয়ে যায় ছেলে আমজাদ হোসেন। উদ্দেশ্য ছিল বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা। কিন্তু সেদিনই কোটা সংস্কার আন্দোলনের মিছিলে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান তিনি। আর ফিরে আসেননি মায়ের কাছে।

নরসিংদীর পলাশ উপজেলার রামপুর গ্রামের কৃষক আরমান মিয়ার ছেলে আমজাদ হোসেন (২৪) ছিলেন শহীদ আসাদ কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নরসিংদীতে কোটা আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন তিনি।

মা দেলোয়ারা বেগম আজও মানতে পারছেন না ছেলের মৃত্যুর সত্য। ঘরের দরজা দিয়ে কেউ প্রবেশ করলেই প্রশ্ন করেন, “আমজাদ কই?” এরপর শুরু হয় কান্না আর মাতম। এক বছরের বেশি সময় কেটে গেলেও আমজাদের জন্য রান্না করা নুডুলসের সেই স্মৃতি আজও বয়ে বেড়ান তিনি।

ঘটনার দিন দুপুরে আমজাদ মায়ের কাছে নুডুলস খাওয়ার আবদার করে গোসল করতে যায়। মা দেলোয়ারা রান্নাঘরে যান সেই নুডুলস রান্না করতে। ফিরে এসে দেখেন, ছেলে ঘরে নেই। খেলার কথা বলে বন্ধুর ফোন পেয়ে বের হয়ে গিয়েছিল আমজাদ।

রাত ৯টার দিকে খবর আসে, নরসিংদীর ইটাখোলা এলাকায় পুলিশের গুলিতে আন্দোলনকারী একজন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন—নিহত সেই শিক্ষার্থীই ছিল আমজাদ। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলন শেষে বাড়ি ফেরার পথে পুলিশের গুলিতে মাথায় আঘাত পান তিনি। প্রথমে তাকে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, পরে সেখান থেকে জেলা হাসপাতালে নেয়ার পথেই মৃত্যু হয় তার।

অভাবের সংসারে বড় আশা নিয়ে ছেলেকে পড়াচ্ছিলেন বাবা-মা। তিন ছেলে, দুই মেয়ের মধ্যে আমজাদ ছিলেন দ্বিতীয়। অনেক সময় মা-বাবাকে ধার করে কিংবা মানুষের কাছে সাহায্য নিয়ে সন্তানের লেখাপড়ার খরচ চালাতে হয়েছে। স্বপ্ন ছিল—ছেলে একদিন উচ্চশিক্ষা নিয়ে পরিবার ও সমাজে সম্মান বয়ে আনবে।

ছেলের মৃত্যুতে বিধ্বস্ত হলেও বাবার মুখে গর্বও আছে। কৃষক আরমান মিয়া বলেন, “আমার ছেলে দেশের জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে শহীদ হয়েছে। আমজাদের মতো শহীদ সন্তানদের জন্যই দেশে আজ স্বৈরশাসনের পতন হয়েছে। আমি গর্বিত একজন শহীদ পিতা হতে পেরে।”

তিনি আশা করেন, “এই জাতি যেন কখনও আমজাদের মতো শহীদদের ভুলে না যায়।”

এমআর/সবা