০৫:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুন্দরগঞ্জে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রেখে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রেখে বিএনপির সদস্য নবায়ন, নতুন সদস্য সংগ্রহ ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। আজ ২৭ আগস্ট বুধবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত উপজেলার সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনা চলছে। উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুধবার এ কার্যক্রম চলে, সেই সব প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, সোনারায় ইউনিয়নের শিবরাম স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের ধুপনী উচ্চ বিদ্যালয়, চন্ডিপুর ইউনিয়নের হরিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও চন্ডিপুর উচ্চ বিদ্যালয়, সর্বানন্দ ইউনিয়নের রামভদ্র স্কুল (কেজি), ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের বজরা হাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও শান্তিরাম ইউনিয়নের খুদিরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই সব বিদ্যালয়ের মধ্যে কেবল শিবরাম স্কুল অ্যান্ড কলেজে কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে দেখা গেলেও অন্য সবকটি স্কুলে পাঠদান বন্ধ থাকে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শ্রেণি কক্ষে প্রবেশ করতে না পেরে ফিরে যান। সেখানে মাঠজুড়ে দলে দলে আসা নেতা-কর্মীদের ভিড় ও উত্তেজনা দেখা গেছে আশপাশের এলাকায়ও। এছাড়া মাইকের আওয়াজ তো ছিলই। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী এর আগে গত মঙ্গলবার উপজেলার তিন ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একই ধরনের কর্মসূচি চলে। ২৮ আগস্ট বৃহস্পতিবার আরও পাঁচ ইউনিয়নের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও বিএনপির সদস্য নবায়ন, নতুন সদস্য সংগ্রহ ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনের কার্যক্রম চলবে হবে বলে জানা গেছে। ফলে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদানও বন্ধ থাকবে। এর আগে গত ২৫ আগস্ট সোমবার জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১৫ ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ কার্যক্রম পরিচালনার সিডিউল প্রকাশ করা হয়। সিডিউলে বিভিন্ন সড়কের মোড়, বাজার এলাকা, সেতু পয়েন্ট স্থান হিসেবে উল্লেখ থাকলেও অধিকাংশ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ ঘটনায় ক্ষুদ্ধ অভিভাবক ও তৃণমূল বিএনপির নেতারা বলেন, শত শত নেতা-কর্মী বিদ্যালয় মাঠে প্রবেশ করায় পাঠদান হয়নি বিদ্যালয়গুলোতে। অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে ঢুকতে না পেরে ফিরে গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলের কর্মসূচি আয়োজনে নেতাদের দুষছেন তাঁরা। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে দলীয় কোনো কর্মসূচি করার সুযোগ নেই। বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব) এইচ এম মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে কোনো আবেদন, অনুমতি বা নির্দেশনা দেওয়া হয়নি কাউকে। নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক কর্মসূচির সুযোগ নেই। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। এ বিষয়ে নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ কর্মসূচির আয়োজনে থাকা ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপির নেতারা। উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মাহমুদুল ইসলাম প্রামাণিকের মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি। এদিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপির সদস্য নবায়ন, সদস্য সংগ্রহ ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অনিয়মের অভিযোগ প্রতিবাদে নেতা-কর্মীরা বুধবার বিকাল ৫টার দিকে সুন্দরগঞ্জ ডিডব্লিউ সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

বিসিবি পরিচালক পদত্যাগ না করলে ক্রিকেট বর্জনের আলটিমেটাম

সুন্দরগঞ্জে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রেখে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ

আপডেট সময় : ০৯:৪৮:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রেখে বিএনপির সদস্য নবায়ন, নতুন সদস্য সংগ্রহ ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। আজ ২৭ আগস্ট বুধবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত উপজেলার সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনা চলছে। উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুধবার এ কার্যক্রম চলে, সেই সব প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, সোনারায় ইউনিয়নের শিবরাম স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের ধুপনী উচ্চ বিদ্যালয়, চন্ডিপুর ইউনিয়নের হরিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও চন্ডিপুর উচ্চ বিদ্যালয়, সর্বানন্দ ইউনিয়নের রামভদ্র স্কুল (কেজি), ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের বজরা হাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও শান্তিরাম ইউনিয়নের খুদিরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই সব বিদ্যালয়ের মধ্যে কেবল শিবরাম স্কুল অ্যান্ড কলেজে কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে দেখা গেলেও অন্য সবকটি স্কুলে পাঠদান বন্ধ থাকে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শ্রেণি কক্ষে প্রবেশ করতে না পেরে ফিরে যান। সেখানে মাঠজুড়ে দলে দলে আসা নেতা-কর্মীদের ভিড় ও উত্তেজনা দেখা গেছে আশপাশের এলাকায়ও। এছাড়া মাইকের আওয়াজ তো ছিলই। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী এর আগে গত মঙ্গলবার উপজেলার তিন ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একই ধরনের কর্মসূচি চলে। ২৮ আগস্ট বৃহস্পতিবার আরও পাঁচ ইউনিয়নের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও বিএনপির সদস্য নবায়ন, নতুন সদস্য সংগ্রহ ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনের কার্যক্রম চলবে হবে বলে জানা গেছে। ফলে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদানও বন্ধ থাকবে। এর আগে গত ২৫ আগস্ট সোমবার জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১৫ ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ কার্যক্রম পরিচালনার সিডিউল প্রকাশ করা হয়। সিডিউলে বিভিন্ন সড়কের মোড়, বাজার এলাকা, সেতু পয়েন্ট স্থান হিসেবে উল্লেখ থাকলেও অধিকাংশ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ ঘটনায় ক্ষুদ্ধ অভিভাবক ও তৃণমূল বিএনপির নেতারা বলেন, শত শত নেতা-কর্মী বিদ্যালয় মাঠে প্রবেশ করায় পাঠদান হয়নি বিদ্যালয়গুলোতে। অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে ঢুকতে না পেরে ফিরে গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলের কর্মসূচি আয়োজনে নেতাদের দুষছেন তাঁরা। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে দলীয় কোনো কর্মসূচি করার সুযোগ নেই। বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব) এইচ এম মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে কোনো আবেদন, অনুমতি বা নির্দেশনা দেওয়া হয়নি কাউকে। নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক কর্মসূচির সুযোগ নেই। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। এ বিষয়ে নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ কর্মসূচির আয়োজনে থাকা ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপির নেতারা। উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মাহমুদুল ইসলাম প্রামাণিকের মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি। এদিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপির সদস্য নবায়ন, সদস্য সংগ্রহ ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অনিয়মের অভিযোগ প্রতিবাদে নেতা-কর্মীরা বুধবার বিকাল ৫টার দিকে সুন্দরগঞ্জ ডিডব্লিউ সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

এমআর/সবা