উচু নিচু পাহাড়ে জুমিয়াদের হাড়ভাঙা খাটুনিতে উৎপাদিত জুমের ফসলে সম্প্রতি ইদুরের উপদ্রব লক্ষণীয়। ফলে কাঙ্খিত ফসল না পেয়ে হতাশ চাষিরা। এতে করে খাদ্য সংকটে পড়বেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পাহাড়ি জেলা রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে ফের ইঁদুরের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। ফলে ওই এলাকায় খাদ্য সংকটের আশঙ্কা করছেন জুমিয়াসহ স্থানীয়রা। এতে সব মিলিয়ে কয়েক হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তাদের দাবি।
জানা গেছে, এর আগে ২০২২ সালে সাজেক ইউনিয়নে ইঁদুরের উপদ্রব দেখা দিয়েছিল। ওই সময়ে পাঁচ হাজারের বেশি জুমিয়া পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
স্থানীয়রা জানায়, সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম শিয়ালদাই মৌজায় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বসবাস। এসব জনগোষ্ঠীর জীবনযাপনে একমাত্র অবলম্বন জুম চাষ। গত আগস্ট মাসের শেষের দিকে জুমের ধান পাকা শুরু হয়। এরই মধ্যে রাতের বেলায় ঝাঁকে ঝাঁকে ইঁদুর ক্ষেতে গিয়ে ধান খেয়ে নষ্ট করে ফেলে। এতে করে চাষিরা তাদের কষ্টার্জিত আশানুরূপ ফসল ঘরে তুলতে পারছে না।
সাজেক ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার বনবিহারী চাকমা জানান, এ ইউনিয়নে সব মিলিয়ে কয়েক হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন! কয়েকটি স্থানে আগস্ট মাসের শেষে দিকে জুমের ধান পাকা শুরু হলে ঝাঁকে ঝাঁকে ইঁদুর ক্ষেতে গিয়ে ধান নষ্ট করে ফেলে। এছাড়া কোনো কোনো এলাকায় ধানে ফুল এসেছে, কোনো কোনো জুম ক্ষেতে ধানে শীষ এসেছে। সে সব স্থানে ইঁদুর ধান গাছের গোড়া কেটে নষ্ট করে দিয়েছে।
সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা জানান, দুর্গম পাঁচটি গ্রামে জুম ধানের ক্ষেতে ফের ইঁদুরের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। এতে প্রায় দুইশত বত্রিশ পরিবারের জুমের ধান নষ্ট হয়েছে। এ ধান তারা ঘরে তুলতে পারছেন না। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে শিয়ালদাই লুইপাড়ায় ৫৮টি পরিবার, হাচ্চ্যাপাড়ায় ৭০টি, জামপাড়ায় ১৬টি, অরুণপাড়ায় ৪০ ও লুংতিয়ানপাড়ায় ৪৮টি পরিবার।
এছাড়াও সাজেক ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় জুম ধান ক্ষেতে ইঁদুরের উপদ্রব দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন ও জনপ্রতিনিধিরা।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবীব উল্লাহ বাঘাইছড়ি উপজেলায় মতবিনিময় সভায় জুমের ধান ক্ষেতে ইঁদুরের উপদ্রবের কথা বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনও কোনো আবেদন আসেনি। আমিও অবগত নই। তবে খোঁজ খবর নিয়ে জানবো।
প্রসঙ্গত, বাঘাইছড়ি উপজেলায় ১ হাজার ৫৪৭টি পাহাড়ের জমিতে জুমের আবাদ করা হয়েছে। এতে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ দশমিক ৭৮ টন চাল।























