০৯:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোপালগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষায় ফি আদায়ের অভিযোগ

‘বিনামূল্যে শিক্ষা’ কর্মসূচির সরকারি নির্দেশ অমান্য করে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, গত ১৯ থেকে ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় প্রান্তিক পরীক্ষায় সদর উপজেলার উলপুর ক্লাস্টারের ২৮টি এবং সাহাপুর ক্লাস্টারের ৩৬টি—মোট ৬৪টি বিদ্যালয়ে ২য় থেকে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাথাপিছু ৩০ থেকে ৫০ টাকা নেওয়া হয়েছে। অথচ সরকারের পরিপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষার নামে কোনো অর্থ আদায় করা যাবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রধান শিক্ষক জানান, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশেই টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। কেউ কেউ একে ‘অনুদান’ হিসেবে উল্লেখ করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে উলপুর ক্লাস্টারের সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার শেখ রাজু আহমেদও স্বীকার করে বলেন, “হ্যাঁ, আমি টাকা নিতে বলেছি। তবে সেটা ফি নয়, অনুদান।” তবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, সহকারী কর্মকর্তার এ ধরনের নির্দেশ দেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই।

সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার পরিমল চন্দ্র বালা জানান, তিনি আগে বিষয়টি জানতেন না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জোছনা খাতুন দায় এড়িয়ে এটিকে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিষয় বলে মন্তব্য করেন।

এদিকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম রকিবুল হাসান অভিযোগ জানার সঙ্গে সঙ্গেই উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার বিনামূল্যে শিক্ষার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে সন্তানদের পরীক্ষায় বসাতে টাকা দিতে হচ্ছে। না দিলে নানা অজুহাতে বাচ্চাদের হয়রানি করা হয়।”

সচেতন মহল মনে করছে, সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এভাবে প্রকাশ্যে অর্থ আদায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হুমকি স্বরূপ। অনিয়ম বন্ধে দ্রুত ও কঠোর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষায় ফি আদায়ের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৪:২০:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

‘বিনামূল্যে শিক্ষা’ কর্মসূচির সরকারি নির্দেশ অমান্য করে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, গত ১৯ থেকে ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় প্রান্তিক পরীক্ষায় সদর উপজেলার উলপুর ক্লাস্টারের ২৮টি এবং সাহাপুর ক্লাস্টারের ৩৬টি—মোট ৬৪টি বিদ্যালয়ে ২য় থেকে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাথাপিছু ৩০ থেকে ৫০ টাকা নেওয়া হয়েছে। অথচ সরকারের পরিপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষার নামে কোনো অর্থ আদায় করা যাবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রধান শিক্ষক জানান, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশেই টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। কেউ কেউ একে ‘অনুদান’ হিসেবে উল্লেখ করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে উলপুর ক্লাস্টারের সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার শেখ রাজু আহমেদও স্বীকার করে বলেন, “হ্যাঁ, আমি টাকা নিতে বলেছি। তবে সেটা ফি নয়, অনুদান।” তবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, সহকারী কর্মকর্তার এ ধরনের নির্দেশ দেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই।

সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার পরিমল চন্দ্র বালা জানান, তিনি আগে বিষয়টি জানতেন না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জোছনা খাতুন দায় এড়িয়ে এটিকে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিষয় বলে মন্তব্য করেন।

এদিকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম রকিবুল হাসান অভিযোগ জানার সঙ্গে সঙ্গেই উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার বিনামূল্যে শিক্ষার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে সন্তানদের পরীক্ষায় বসাতে টাকা দিতে হচ্ছে। না দিলে নানা অজুহাতে বাচ্চাদের হয়রানি করা হয়।”

সচেতন মহল মনে করছে, সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এভাবে প্রকাশ্যে অর্থ আদায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হুমকি স্বরূপ। অনিয়ম বন্ধে দ্রুত ও কঠোর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।

এমআর/সবা