ইরানজুড়ে বিক্ষোভ, অর্থনৈতিক সংকট ও বিদেশি চাপ বাড়লেও দেশটির সরকারের পতনের কোনো তাৎক্ষণিক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, এর প্রধান কারণ নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে এখনো কোনো ভাঙন না ধরা।
নিরাপত্তা বাহিনীর ঐক্যই সরকারের শক্তি
ইরানের স্তরভিত্তিক নিরাপত্তা কাঠামোর মূল ভিত্তি রেভল্যুশনারি গার্ড ও আধা সামরিক বাহিনী বাসিজ। এই দুই বাহিনীর সদস্যসংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। ইরানি বংশোদ্ভূত মার্কিন শিক্ষাবিদ ভালি নাসরের মতে, এই বাহিনীগুলোর ভেতরে ভাঙন না ধরলে বাইরে থেকে চাপ প্রয়োগ করে সরকারকে নড়ানো অত্যন্ত কঠিন।
ট্রাম্পের হুমকি ও বিদেশি চাপ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে আসছেন। গত বছর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর এসব হুমকি আরও জোরালো হয়। ট্রাম্প ইরানের বিক্ষোভকারীদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দখলের আহ্বান জানিয়ে ‘সহায়তা আসছে’ বলেও মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেন তিনি। ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীন।
বিক্ষোভ ও সহিংসতা
গত ২৮ ডিসেম্বর নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। সহিংস দমন-পীড়নের ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এক ইরানি কর্মকর্তার দাবি, বিক্ষোভ চলাকালে ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের তিনি ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে অভিহিত করেন।

সরকার টিকে থাকলেও সংকট গভীর
মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ পল সালেম বলেন, ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি আগেও একাধিক বড় বিক্ষোভ সামাল দিয়ে ক্ষমতায় টিকে ছিলেন। বর্তমান বিক্ষোভটি ২০০৯ সালের পর পঞ্চম বড় আন্দোলন। এতে বোঝা যায়, সরকার এখনো একতাবদ্ধ।
স্থিতিশীলতা নয়, কঠিন সময়
বিশ্লেষকেরা বলছেন, টিকে থাকা মানেই স্থিতিশীল থাকা নয়। ১৯৭৯ সালের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র। নিষেধাজ্ঞায় অর্থনীতি দুর্বল, পারমাণবিক কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত এবং লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় মিত্র শক্তির প্রভাব কমেছে।
সামরিক হস্তক্ষেপ ঝুঁকিপূর্ণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলার মতো ইরানে সরাসরি হস্তক্ষেপ সহজ নয়। শক্তিশালী নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কারণে বিদেশি অভিযান বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং দেশটি জাতিগত ও সাম্প্রদায়িকভাবে বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সম্ভাব্য বিকল্প কৌশল
ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের ডেভিড মাকোভস্কি বলেন, ট্রাম্প সামরিক হামলা ছাড়াও সাইবার আক্রমণ, তেল পরিবহনে চাপ কিংবা স্টারলিংকের মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়ার মতো বিকল্প বিবেচনা করছেন। তবে এসব পদক্ষেপের প্রতিটিতেই গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে।
এমআর/সবা

























