০২:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফরিদগঞ্জে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ

ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোশারফ হোসেন মসু’র বিরুদ্ধে একের পর এক অনিয়ম ও অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। বিধবা ভাতার কার্ড, বিজিডি কার্ড, টিউবওয়েল কিংবা টয়লেট প্রকল্প—যেখানেই সুযোগ পেয়েছেন, সেখানেই টাকার বিনিময়ে প্রতারণা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

বিধবা কার্ড পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে চার হাজার টাকা নিয়েছেন দরিদ্র নারী কোহিনুর বেগমের কাছ থেকে। কিন্তু কার্ড দেননি, উল্টো টাকা ফেরত চাইলে হুমকি দেন—একথা যেন কাউকে বলা না হয়। একইভাবে বিজিডি কার্ডের নামে তিন হাজার টাকা হাতিয়েছেন হতদরিদ্র উজ্জ্বল গাজীর কাছ থেকেও।

শৌচাগার নির্মাণ প্রকল্পের নামেও চলছে টাকা আত্মসাৎ। আক্কাস রাড়ির স্ত্রী সাহিদা বেগম অভিযোগ করেন, “টয়লেটের নামে আড়াই হাজার টাকা নিয়েছিলেন, কিন্তু টয়লেট দেননি। বরং অশালীন ভাষায় গালাগাল করেছেন।” একই অভিযোগ করেছেন সুফিয়া, খাদিজা ও আঁখি বেগমও।

অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। বিধবা নারী রানু বেগম জানিয়েছেন, টিউবওয়েল দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে ইউপি সদস্য তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন। কিন্তু তিনি কোনো টিউবওয়েল পাননি। এছাড়া আলী হোসেনের স্ত্রীর কাছ থেকে আড়াই হাজার টাকা ও ন্যায্য মূল্যের চালের কার্ড নিয়ে ফেরত দেননি বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবন্ধি কার্ডের জন্য টাকা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে এই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মোশারফ হোসেন মসু কে টাকা দেয়ার বিষয়টি জিজ্ঞেস করলে, তিনি বলেন মানুষ বিভিন্ন কাজে খুশি হয়ে দেয় আর কি। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন একটি মহল আমার বিরূদ্ধে সড়যন্ত্র করে এগুলো করছে। অভিযোগ করা সকলেই কি মিথ্যা বলছে এমন প্রশ্ন কোন উত্তর দেননি তিনি।

এলাকাবাসীর দাবি, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়ে জনগণের সেবা করার পরিবর্তে তিনি বিভিন্ন ভাতা ও প্রকল্পকে হাতিয়ার বানিয়ে অসহায়দের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করছেন। এতে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ডাকাতি মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

ফরিদগঞ্জে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৫:২৩:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোশারফ হোসেন মসু’র বিরুদ্ধে একের পর এক অনিয়ম ও অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। বিধবা ভাতার কার্ড, বিজিডি কার্ড, টিউবওয়েল কিংবা টয়লেট প্রকল্প—যেখানেই সুযোগ পেয়েছেন, সেখানেই টাকার বিনিময়ে প্রতারণা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

বিধবা কার্ড পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে চার হাজার টাকা নিয়েছেন দরিদ্র নারী কোহিনুর বেগমের কাছ থেকে। কিন্তু কার্ড দেননি, উল্টো টাকা ফেরত চাইলে হুমকি দেন—একথা যেন কাউকে বলা না হয়। একইভাবে বিজিডি কার্ডের নামে তিন হাজার টাকা হাতিয়েছেন হতদরিদ্র উজ্জ্বল গাজীর কাছ থেকেও।

শৌচাগার নির্মাণ প্রকল্পের নামেও চলছে টাকা আত্মসাৎ। আক্কাস রাড়ির স্ত্রী সাহিদা বেগম অভিযোগ করেন, “টয়লেটের নামে আড়াই হাজার টাকা নিয়েছিলেন, কিন্তু টয়লেট দেননি। বরং অশালীন ভাষায় গালাগাল করেছেন।” একই অভিযোগ করেছেন সুফিয়া, খাদিজা ও আঁখি বেগমও।

অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। বিধবা নারী রানু বেগম জানিয়েছেন, টিউবওয়েল দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে ইউপি সদস্য তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন। কিন্তু তিনি কোনো টিউবওয়েল পাননি। এছাড়া আলী হোসেনের স্ত্রীর কাছ থেকে আড়াই হাজার টাকা ও ন্যায্য মূল্যের চালের কার্ড নিয়ে ফেরত দেননি বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবন্ধি কার্ডের জন্য টাকা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে এই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মোশারফ হোসেন মসু কে টাকা দেয়ার বিষয়টি জিজ্ঞেস করলে, তিনি বলেন মানুষ বিভিন্ন কাজে খুশি হয়ে দেয় আর কি। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন একটি মহল আমার বিরূদ্ধে সড়যন্ত্র করে এগুলো করছে। অভিযোগ করা সকলেই কি মিথ্যা বলছে এমন প্রশ্ন কোন উত্তর দেননি তিনি।

এলাকাবাসীর দাবি, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়ে জনগণের সেবা করার পরিবর্তে তিনি বিভিন্ন ভাতা ও প্রকল্পকে হাতিয়ার বানিয়ে অসহায়দের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করছেন। এতে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এমআর/সবা