০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২২ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অনুমোদন ছাড়াই ৯২৬ মেট্রিক টন ফেব্রিকস আমদানি করেছে এনএইচ অ্যাপারেলস

ঢাকার পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এনএইচ অ্যাপারেলস লিমিটেড চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৯২৬.৬১ মেট্রিক টন ফেব্রিকস অনুমোদন ছাড়া আমদানি করেছে। কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট বিষয়টি খতিয়ে দেখার পর প্রতিষ্ঠানটিকে শোকজ নোটিশ (কারণ দর্শানোর নোটিশ) প্রদান করেছে।

প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এফওসি সুবিধায় মোট ১,১১৩.৭১ মেট্রিক টন ফেব্রিকস আমদানি করেছে। এর মধ্যে মাত্র ১১৩.৯৭ মেট্রিক টন ফেব্রিকস অনুমোদনপ্রাপ্ত ছিল। বাকী ৯২৬.৬১ মেট্রিক টন অনুমোদন ছাড়া আমদানি করা হয়েছে।

কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের শোকজ নোটিশে বলা হয়েছে, এই ধরনের অনুমোদনবিহীন আমদানি কাস্টমস আইন-২০২৩-এর ধারা ১১৮, ১২৬ এবং ১৭১ (১) অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। একইসাথে, বন্ড লাইসেন্সের শর্তও লঙ্ঘিত হয়েছে। নোটিশে প্রতিষ্ঠানকে সাত দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান ২৫২.৭২ মেট্রিক টন তৈরি পোশাক রফতানি করেছে। রফতানিকৃত এই পোশাকে ব্যবহৃত ফেব্রিকসের পরিমাণ ছিল ২৯৫.৬৮ মেট্রিক টন। হিসাব অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি এফওসি সুবিধায় মাত্র ৫০ শতাংশ ফেব্রিকস আমদানি করতে পারত, যা অনুমোদনের বাইরে গিয়েই ৯২৬.৬১ মেট্রিক টন বেশি আমদানি করা হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, অনুমোদন ছাড়া এফওসির ভিত্তিতে অতিরিক্ত ফেব্রিকস আমদানি করে শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শোকজ নোটিশের পরও প্রতিষ্ঠানটি এখনও কোনও জবাব দেয়নি। কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এখন বিষয়টি মনিটর করছে এবং প্রয়োজনে বন্ড লাইসেন্স সাময়িক স্থগিত করার ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদন ছাড়াই অতিরিক্ত ফেব্রিকস আমদানি করেছে এবং শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাজারে অসঙ্গতি তৈরি করে এবং আইন মেনে চলা অন্যান্য আমদানিকারকদের জন্যও নেতিবাচক উদাহরণ তৈরি করে।”

এ বিষয়ে কাস্টমসের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই ঘটনা প্রকাশের পর চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসেও তোলপাড় শুরু হয়েছে, তবে তারা বর্তমানে প্রকাশ্য বিবৃতি দিতে চাননি।

এ ঘটনায় শুল্ক ফাঁকি, বন্ড লাইসেন্স শর্ত লঙ্ঘন এবং অনুমোদনবিহীন আমদানি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অপেক্ষা করছে।

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

শীতের রাতে পায়ে মোজা পরে ঘুমানো ভালো নাকি খারাপ, জানুন

অনুমোদন ছাড়াই ৯২৬ মেট্রিক টন ফেব্রিকস আমদানি করেছে এনএইচ অ্যাপারেলস

আপডেট সময় : ০৭:২৬:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ঢাকার পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এনএইচ অ্যাপারেলস লিমিটেড চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৯২৬.৬১ মেট্রিক টন ফেব্রিকস অনুমোদন ছাড়া আমদানি করেছে। কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট বিষয়টি খতিয়ে দেখার পর প্রতিষ্ঠানটিকে শোকজ নোটিশ (কারণ দর্শানোর নোটিশ) প্রদান করেছে।

প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এফওসি সুবিধায় মোট ১,১১৩.৭১ মেট্রিক টন ফেব্রিকস আমদানি করেছে। এর মধ্যে মাত্র ১১৩.৯৭ মেট্রিক টন ফেব্রিকস অনুমোদনপ্রাপ্ত ছিল। বাকী ৯২৬.৬১ মেট্রিক টন অনুমোদন ছাড়া আমদানি করা হয়েছে।

কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের শোকজ নোটিশে বলা হয়েছে, এই ধরনের অনুমোদনবিহীন আমদানি কাস্টমস আইন-২০২৩-এর ধারা ১১৮, ১২৬ এবং ১৭১ (১) অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। একইসাথে, বন্ড লাইসেন্সের শর্তও লঙ্ঘিত হয়েছে। নোটিশে প্রতিষ্ঠানকে সাত দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান ২৫২.৭২ মেট্রিক টন তৈরি পোশাক রফতানি করেছে। রফতানিকৃত এই পোশাকে ব্যবহৃত ফেব্রিকসের পরিমাণ ছিল ২৯৫.৬৮ মেট্রিক টন। হিসাব অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি এফওসি সুবিধায় মাত্র ৫০ শতাংশ ফেব্রিকস আমদানি করতে পারত, যা অনুমোদনের বাইরে গিয়েই ৯২৬.৬১ মেট্রিক টন বেশি আমদানি করা হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, অনুমোদন ছাড়া এফওসির ভিত্তিতে অতিরিক্ত ফেব্রিকস আমদানি করে শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শোকজ নোটিশের পরও প্রতিষ্ঠানটি এখনও কোনও জবাব দেয়নি। কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এখন বিষয়টি মনিটর করছে এবং প্রয়োজনে বন্ড লাইসেন্স সাময়িক স্থগিত করার ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদন ছাড়াই অতিরিক্ত ফেব্রিকস আমদানি করেছে এবং শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাজারে অসঙ্গতি তৈরি করে এবং আইন মেনে চলা অন্যান্য আমদানিকারকদের জন্যও নেতিবাচক উদাহরণ তৈরি করে।”

এ বিষয়ে কাস্টমসের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই ঘটনা প্রকাশের পর চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসেও তোলপাড় শুরু হয়েছে, তবে তারা বর্তমানে প্রকাশ্য বিবৃতি দিতে চাননি।

এ ঘটনায় শুল্ক ফাঁকি, বন্ড লাইসেন্স শর্ত লঙ্ঘন এবং অনুমোদনবিহীন আমদানি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অপেক্ষা করছে।

এমআর/সবা