রংপুরে ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক ও অটোচার্জে মাসে প্রায় ৯০–১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। কিন্তু অদক্ষ ও অনভিজ্ঞ চালকের কারণে সড়কে প্রতিদিন ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে, অনেকের জীবনহানি ও পঙ্গুত্বের ঘটনা দেখা যাচ্ছে।
চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি মাহিগঞ্জ এলাকায় একটি দ্রুতগামী অটোরিকশা ধাক্কায় চার্ট শ্রেণির শিশু দারুল জান্নাত দিনার মৃত্যু ঘটে। রংপুর অঞ্চলের মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে গত ছয় মাসে অর্ধশতাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ১৯৫টি দুর্ঘটনায় ১৪৬ জন নিহত হয়েছেন।
রংপুর নগরীতে ৩৩টি ওয়ার্ডে প্রায় ৪০ হাজার নিবন্ধিত অটো ও চার্জাররিকশা চলাচল করছে, তবে বাস্তবে অবৈধ ও অনিবন্ধিত যানবাহন আরও লক্ষাধিক। এসব যানজট, দুর্ঘটনা এবং ট্রাফিক সমস্যার প্রধান কারণ।
নিবন্ধন ও লাইসেন্স প্রাপ্ত অটোও সীমিত। একেকটি অটোরিকশার লাইসেন্সের জন্য সিটি কর্পোরেশনে ১৭,৭০০ টাকা দিতে হয়। তবে অনিবন্ধিত বাহন নিয়ন্ত্রণে সরকারের অভিযান সীমিত সাফল্য পেয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে, কিন্তু প্রভাবশালী মহলের কারণে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না।
বিদ্যুৎ ব্যবহারও বড় সমস্যা। প্রতিটি পাঁচ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা প্রতিদিন ১০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করে। এর ফলে নগরীতে প্রতিমাসে প্রায় ৯০–১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যয় হচ্ছে। অনেক চার্জিং পয়েন্ট বৈধ না, কিছু আবাসিক এলাকায় বৈদ্যুতিক লাইন ব্যবহার করে চার্জ দেওয়া হচ্ছে।
পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যও বিপদে। ব্যাটারির সিসা প্রকৃতিতে থাকে, যা শিশু ও জনসাধারণের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
নাগরিকরা বলছেন, অনিবন্ধিত অটো ও ইজিবাইক বন্ধ না হলে দুর্ঘটনা, যানজট ও বিদ্যুৎ চাপ কমানো যাবে না। তবে বন্ধ করলে প্রচুর মানুষ কর্মহীন হয়ে যাবে। তাই সুশৃঙ্খল চলাচল নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চালক, নিয়ন্ত্রিত চার্জিং এবং শহরায়নের পরিকল্পনা জরুরি।
এমআর/সবা
























