১২:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২২ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সেনাবাহিনীর উদ্যোগে নির্মিত গবাইছড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়

স্থানীয়দের দাবি দ্রুত জাতীয়করণ

সবুজে ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নৈসর্গিক লীলাভূমি পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে দুর্গম উঁচু-নিচু পাহাড় ও অপ্রতুল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে বহু গ্রাম এখনও মূল ধারার শিক্ষা থেকে পিছিয়ে। এমনই একটি প্রত্যন্ত পাড়া হলো বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের গবাইছড়ি পাড়া।

দীর্ঘদিন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত এই এলাকার শিশুদের জন্য আশার আলো নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তাদের সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে “গবাইছড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়”।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ৬৫টি পরিবারে ৩৭০ জন মানুষ বসবাস করছে। এর মধ্যে ৬০-৭০ জন শিশু দীর্ঘদিন মৌলিক শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। পাড়ায় কোনো প্রাক-প্রাথমিক বা প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় শিশুদেরকে অনেক দূরে শুক্কুরছড়ি বা ফারুয়া এলাকায় হেঁটে যেতে হতো। দারিদ্রতা, দীর্ঘ পথ ও দুর্গমতার কারণে অধিকাংশ শিশুই পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়তো।

এই পরিস্থিতিতে ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের কমান্ডারের নির্দেশে গবাইছড়ি এলাকায় একটি বিদ্যালয় নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে এডহক ২৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন বিদ্যালয় নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে। ২০২৫ সালের ৪ মে বিদ্যালয়টির উদ্বোধন করা হয়।

বর্তমানে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৪৪ জন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। প্রতিদিন সকাল বেলায় জাতীয় পতাকার সামনে দাঁড়িয়ে কোমলমতি শিশুরা জাতীয় সংগীত “আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি” গেয়ে দিন শুরু করে।

স্থানীয়রা জানান, পাকিস্তান আমলেও এলাকায় বিদ্যালয় ছিল। তবে ১৯৮০ সালের দিকে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে বিদ্যালয় ও গ্রামবাসীকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়। বহু বছর পরে আবারও সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিদ্যালয় ফিরে আসায় এলাকাবাসীর আনন্দের সীমা নেই।

বিদ্যালয় পরিচালনার সকল ব্যয়ভার বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বহন করছে। স্থানীয়দের মধ্য থেকে তিনজন শিক্ষক, দুইজন শিক্ষিকা ও একজন দপ্তরী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় বই ও শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের একটাই দাবি—বিদ্যালয়টি দ্রুত জাতীয়করণ করা হোক। তাদের বিশ্বাস, জাতীয়করণ হলে বিদ্যালয়ের স্থায়িত্ব নিশ্চিত হবে এবং শিশুরা অব্যাহতভাবে শিক্ষার আলো পাবে।

এমআর/সবা

শীতের রাতে পায়ে মোজা পরে ঘুমানো ভালো নাকি খারাপ, জানুন

সেনাবাহিনীর উদ্যোগে নির্মিত গবাইছড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়

স্থানীয়দের দাবি দ্রুত জাতীয়করণ

আপডেট সময় : ০৩:০৬:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সবুজে ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নৈসর্গিক লীলাভূমি পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে দুর্গম উঁচু-নিচু পাহাড় ও অপ্রতুল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে বহু গ্রাম এখনও মূল ধারার শিক্ষা থেকে পিছিয়ে। এমনই একটি প্রত্যন্ত পাড়া হলো বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের গবাইছড়ি পাড়া।

দীর্ঘদিন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত এই এলাকার শিশুদের জন্য আশার আলো নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তাদের সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে “গবাইছড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়”।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ৬৫টি পরিবারে ৩৭০ জন মানুষ বসবাস করছে। এর মধ্যে ৬০-৭০ জন শিশু দীর্ঘদিন মৌলিক শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। পাড়ায় কোনো প্রাক-প্রাথমিক বা প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় শিশুদেরকে অনেক দূরে শুক্কুরছড়ি বা ফারুয়া এলাকায় হেঁটে যেতে হতো। দারিদ্রতা, দীর্ঘ পথ ও দুর্গমতার কারণে অধিকাংশ শিশুই পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়তো।

এই পরিস্থিতিতে ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের কমান্ডারের নির্দেশে গবাইছড়ি এলাকায় একটি বিদ্যালয় নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে এডহক ২৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন বিদ্যালয় নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে। ২০২৫ সালের ৪ মে বিদ্যালয়টির উদ্বোধন করা হয়।

বর্তমানে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৪৪ জন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। প্রতিদিন সকাল বেলায় জাতীয় পতাকার সামনে দাঁড়িয়ে কোমলমতি শিশুরা জাতীয় সংগীত “আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি” গেয়ে দিন শুরু করে।

স্থানীয়রা জানান, পাকিস্তান আমলেও এলাকায় বিদ্যালয় ছিল। তবে ১৯৮০ সালের দিকে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে বিদ্যালয় ও গ্রামবাসীকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়। বহু বছর পরে আবারও সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিদ্যালয় ফিরে আসায় এলাকাবাসীর আনন্দের সীমা নেই।

বিদ্যালয় পরিচালনার সকল ব্যয়ভার বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বহন করছে। স্থানীয়দের মধ্য থেকে তিনজন শিক্ষক, দুইজন শিক্ষিকা ও একজন দপ্তরী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় বই ও শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের একটাই দাবি—বিদ্যালয়টি দ্রুত জাতীয়করণ করা হোক। তাদের বিশ্বাস, জাতীয়করণ হলে বিদ্যালয়ের স্থায়িত্ব নিশ্চিত হবে এবং শিশুরা অব্যাহতভাবে শিক্ষার আলো পাবে।

এমআর/সবা