খাগড়াছড়িতে এক মারমা কিশোরী ধর্ষণ ও পরবর্তী সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনার পর স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনসহ আট দফা দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়। গত মঙ্গলবার রাতে ক্ষেত থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এক মারমা কিশোরীকে। পরদিন ভোরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে আন্দোলন শুরু হয়, যা পরবর্তীতে সহিংস রূপ নেয়। ১৪৪ ধারা জারি ও অতিরিক্ত সেনা-বিজিবি মোতায়েনের পরও পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। রোববার গুইমারায় ব্যাপক সহিংসতায় গুলিতে নিহত হয় তিনজন।
প্রতিবাদ সমাবেশে বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন বলেন, পাহাড়ে চলমান অশান্তি পরিকল্পিত উস্কানির ফল। তিনি অভিযোগ করেন, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায় জড়িত চক্র এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতর-বাইরের কিছু গোষ্ঠী মিলে এসব সহিংসতা উসকে দিচ্ছে। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে “রক্তের দাগ” লেগে গেছে বলে মন্তব্য করে পাহাড়ে আদিবাসীদের ওপর দমননীতির সমালোচনা করেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য দীপায়ন খীসার সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম চৌধুরী, বাসদ সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, এএলআরডি’র শামসুল হুদা ও ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীল।
আট দফা দাবি
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন সমাবেশে আট দফা দাবি তুলে ধরেন
১/ মারমা কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগের দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া।
২/ সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনায় সেনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন।
৩/ নিহত ও আহতদের পরিবারকে সুরক্ষা, যথার্থ ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা।
৪/ পাহাড়ে সামরিকীকরণ নীতি পুনর্মূল্যায়ন করে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধানের পথে অগ্রসর হওয়া।
৫/ অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা, যাতে ভুক্তভোগীদের কণ্ঠস্বর দমন না হয়।
৬/ খাগড়াছড়ি ও গুইমারার ঘটনায় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি যুক্ত করে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন।
৭/ প্রতিটি নিহত পরিবারের জন্য ন্যূনতম ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান।
৮/ পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি দ্রুত ও যথাযথ বাস্তবায়ন করে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা।


























