০৮:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম বার্ন ইউনিটের কাজ চলছে ধীরগতিতে

অর্থছাড় ও সরবরাহ জটিলতায় বিলম্বের শঙ্কা

চট্টগ্রামের গোয়াছি বাগান এলাকায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিট প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলছে। কাজ শুরুর সাত মাস পেরিয়ে গেলেও বর্তমানে মাত্র ১৫ থেকে ১৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাজ যত দ্রুত এগোবার কথা ছিল, তা সেভাবে হচ্ছে না। ধীরগতির কারণে প্রকল্পের সময়মতো সমাপ্তি অনিশ্চিত, এবং প্রয়োজনে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে।

প্রকল্পের বিলম্বের মূল কারণ নির্মাণ সামগ্রীর সরবরাহ জটিলতা, যা চীন থেকে আসে। এই সামগ্রীর ভ্যাট ও ট্যাক্স পরিশোধে সরকার কর্তৃক অর্থ ছাড় না হওয়ায় সামগ্রী আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, অর্থ ছাড় হলে এই জটিলতা দূর হবে এবং কাজের গতি বৃদ্ধি পাবে।

গতকাল বিকেলে প্রকল্প এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, শ্রমিকেরা কাজ করছেন, তবে ধীরগতিতে। ইতোমধ্যেই হাসপাতালের মূল ভবনের ভিত্তি নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। বৃষ্টির কারণে ভবনের পার্শ্ববর্তী পাহাড়ের ধস এড়াতে নকশা অনুযায়ী সয়েল নেইলিং (খাড়া পাহাড় কেটে ঢালু করা) করা হয়েছে। চীনা প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, পরবর্তী ধাপে এসব ঢালু পাহাড়ে চীনা প্রযুক্তি ব্যবহার করে কলাম বসানো হবে। এছাড়া পাহাড়ের ওপর পাইলিং করে উন্নতমানের ঘাস লাগানো হবে, যাতে বৃষ্টি হলে পানি সঠিকভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে নিষ্কাশিত হয়। পরে পাহাড় রক্ষার জন্য রিটেনিং দেয়াল নির্মাণ করা হবে।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, “বার্ন ইউনিটের কাজ কিছুটা ধীরগতিতে হলেও ভবনের বেসমেন্টের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। এখন পিলার নির্মাণ কাজ চলছে। নির্মাণ সামগ্রীর ভ্যাট-ট্যাক্স পরিশোধে কিছু প্রক্রিয়াগত সমস্যা ছিল, যা শিগগিরই সমাধান হবে। অর্থ ছাড় হলে কাজের গতি বৃদ্ধি পাবে।”

বর্তমানে চমেক হাসপাতালের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে অগ্নিদগ্ধ রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে গুরুতর আগুনে পোড়া রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংকটের কারণে সব ধরনের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এসব রোগীদের ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিতে পাঠাতে হয়। সারাদেশের রোগীর চাপ থাকায় চিকিৎসকরা অনেক সময় হিমশিম খেতে হয়।

উল্লেখ্য, গোয়াছি বাগান এলাকায় ১৫০ বেডের বিশেষায়িত ‘বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ বার্ন ইউনিট চট্টগ্রাম’ প্রকল্পের চূড়ান্ত নকশা অনুমোদন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় গত বছরের ১২ জুন। এর আগে, ৯ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্প অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮৪ কোটি ৭৬ লাখ ৫১ হাজার ৫৫৫ টাকা, যার মধ্যে চীনের অংশ ১৭৯ কোটি ৮৩ লাখ ১৯ হাজার ৬০০ টাকা এবং সরকারের অংশ ১০৪ কোটি ৯৩ লাখ ৩১ হাজার ৯৫৫ টাকা। এছাড়া চীনা আমদানিতে ভ্যাট ও ট্যাক্স বাবদ ৭০ কোটি টাকা, সংযোগ রাস্তা, সীমানা প্রাচীর, বৈদ্যুতিক সংযোগ, দুটি অ্যাম্বুলেন্স এবং কেমিক্যাল রিঅ্যাজেন্ট খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় থাকবে ছয় তলা ভবন, জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, ল্যাবরেটরি, অপারেশন থিয়েটার, ১০টি আইসিইউ বেড, ১০টি পুরুষ এইচডিইউ বেড, ১০টি মহিলা এইচডিইউ বেড, ৫টি শিশু এইচডিইউ বেড এবং মহিলাদের জন্য ৪৫টি বেডসহ ১১৫ বেডের ওয়ার্ড। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬ সালের জুনে।

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বাধীনবাংলা সাহিত্য পরিষদ ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিটি গঠন

চট্টগ্রাম বার্ন ইউনিটের কাজ চলছে ধীরগতিতে

আপডেট সময় : ০৫:৪৩:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫

চট্টগ্রামের গোয়াছি বাগান এলাকায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিট প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলছে। কাজ শুরুর সাত মাস পেরিয়ে গেলেও বর্তমানে মাত্র ১৫ থেকে ১৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাজ যত দ্রুত এগোবার কথা ছিল, তা সেভাবে হচ্ছে না। ধীরগতির কারণে প্রকল্পের সময়মতো সমাপ্তি অনিশ্চিত, এবং প্রয়োজনে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে।

প্রকল্পের বিলম্বের মূল কারণ নির্মাণ সামগ্রীর সরবরাহ জটিলতা, যা চীন থেকে আসে। এই সামগ্রীর ভ্যাট ও ট্যাক্স পরিশোধে সরকার কর্তৃক অর্থ ছাড় না হওয়ায় সামগ্রী আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, অর্থ ছাড় হলে এই জটিলতা দূর হবে এবং কাজের গতি বৃদ্ধি পাবে।

গতকাল বিকেলে প্রকল্প এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, শ্রমিকেরা কাজ করছেন, তবে ধীরগতিতে। ইতোমধ্যেই হাসপাতালের মূল ভবনের ভিত্তি নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। বৃষ্টির কারণে ভবনের পার্শ্ববর্তী পাহাড়ের ধস এড়াতে নকশা অনুযায়ী সয়েল নেইলিং (খাড়া পাহাড় কেটে ঢালু করা) করা হয়েছে। চীনা প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, পরবর্তী ধাপে এসব ঢালু পাহাড়ে চীনা প্রযুক্তি ব্যবহার করে কলাম বসানো হবে। এছাড়া পাহাড়ের ওপর পাইলিং করে উন্নতমানের ঘাস লাগানো হবে, যাতে বৃষ্টি হলে পানি সঠিকভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে নিষ্কাশিত হয়। পরে পাহাড় রক্ষার জন্য রিটেনিং দেয়াল নির্মাণ করা হবে।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, “বার্ন ইউনিটের কাজ কিছুটা ধীরগতিতে হলেও ভবনের বেসমেন্টের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। এখন পিলার নির্মাণ কাজ চলছে। নির্মাণ সামগ্রীর ভ্যাট-ট্যাক্স পরিশোধে কিছু প্রক্রিয়াগত সমস্যা ছিল, যা শিগগিরই সমাধান হবে। অর্থ ছাড় হলে কাজের গতি বৃদ্ধি পাবে।”

বর্তমানে চমেক হাসপাতালের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে অগ্নিদগ্ধ রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে গুরুতর আগুনে পোড়া রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংকটের কারণে সব ধরনের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এসব রোগীদের ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিতে পাঠাতে হয়। সারাদেশের রোগীর চাপ থাকায় চিকিৎসকরা অনেক সময় হিমশিম খেতে হয়।

উল্লেখ্য, গোয়াছি বাগান এলাকায় ১৫০ বেডের বিশেষায়িত ‘বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ বার্ন ইউনিট চট্টগ্রাম’ প্রকল্পের চূড়ান্ত নকশা অনুমোদন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় গত বছরের ১২ জুন। এর আগে, ৯ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্প অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮৪ কোটি ৭৬ লাখ ৫১ হাজার ৫৫৫ টাকা, যার মধ্যে চীনের অংশ ১৭৯ কোটি ৮৩ লাখ ১৯ হাজার ৬০০ টাকা এবং সরকারের অংশ ১০৪ কোটি ৯৩ লাখ ৩১ হাজার ৯৫৫ টাকা। এছাড়া চীনা আমদানিতে ভ্যাট ও ট্যাক্স বাবদ ৭০ কোটি টাকা, সংযোগ রাস্তা, সীমানা প্রাচীর, বৈদ্যুতিক সংযোগ, দুটি অ্যাম্বুলেন্স এবং কেমিক্যাল রিঅ্যাজেন্ট খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় থাকবে ছয় তলা ভবন, জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, ল্যাবরেটরি, অপারেশন থিয়েটার, ১০টি আইসিইউ বেড, ১০টি পুরুষ এইচডিইউ বেড, ১০টি মহিলা এইচডিইউ বেড, ৫টি শিশু এইচডিইউ বেড এবং মহিলাদের জন্য ৪৫টি বেডসহ ১১৫ বেডের ওয়ার্ড। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬ সালের জুনে।

এমআর/সবা