রাঙামাটির সবুজ পাহাড়ে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের পথে পা বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। পার্বত্য চট্টগ্রামের অগণিত প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জন্য এটি বড় সম্ভাবনার সোপান। তবে কেন্দ্র স্থাপনের প্রাথমিক প্রস্তুতিতে জমি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ও অসন্তোষ জন্মেছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্রিকেট, ফুটবল ও তীরন্দাজি সহ বিভিন্ন খেলায় প্রতিভাবান খেলোয়াড় উপহার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং উচ্চমানের প্রশিক্ষণের অভাবে অনেক সম্ভাবনা অঙ্কুরে নিভে গেছে। এই প্রেক্ষিতে রাঙামাটিতে বিকেএসপি’র আঞ্চলিক শাখার সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠন ও খেলোয়াড়েরা। তারা মনে করেন, সঠিক প্রশিক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদী সহায়তার মাধ্যমে এখান থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি হবে।
কেন্দ্র স্থাপনের জন্য জমি চিহ্নিত করতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি সম্প্রতি রাঙামাটিতে সফর করেছে। জেলা সদর, কাপ্তাই ও কাউখালীতে প্রস্তাবিত জমি পরিদর্শন করা হয়। তবে কাউখালী উপজেলার কচুখালী মৌজার প্রস্তাবিত জমি পরিদর্শন না করার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। হেডম্যান চিংকিউ রোয়াজা ও সহকারী বিপন চাকমা এটি বৈষম্যমূলক হিসেবে অভিহিত করেছেন।
অন্যদিকে, রাঙামাটি সদর এলাকার ঝগড়াবিল ও তঞ্চঙ্গ্যা পাড়ার স্থানীয়দের মধ্যে বিকেএসপি কেন্দ্র স্থাপনের নামে ভূমি হারানোর শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ক্রীড়া বিশিষ্টরা মনে করেন, জমি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা অপরিহার্য। এটি নিশ্চিত করবে যে ক্রীড়া উন্নয়নের উদ্দেশ্য পূর্ণ হবে, তবুও কোনো স্থানীয় উদ্বাস্তু হবেনা।
রাঙামাটিতে বিকেএসপি আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপন নিঃসন্দেহে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। তবে এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে দ্রুত জমি নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিবেচনা করে জনবান্ধব পরিকল্পনা গ্রহণ করা আবশ্যক। সিদ্ধান্তহীনতা যত দ্রুত কাটবে, পাহাড়ের তরুণ খেলোয়াড়রা তত দ্রুত তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পাবে।
এমআর/সবা


























