২০২৫ অর্থবছরে জাতীয় দারিদ্র্যের হার বেড়ে ২১ দশমিক ২ শতাংশ
২০২৪ অর্থবছরে ছিল ২০ দশমিক ৫ শতাংশ
এক বছরের ব্যবধানে দারিদ্র্য বেড়েছে প্রায় ০.৭ শতাংশ পয়েন্ট
৩০ লাখ কর্মক্ষম মানুষ শ্রমবাজারের বাইরে
অর্থনীতি স্বস্তিতে থাকলেও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে : অর্থ উপদেষ্টা
চলতি অর্থবছরে ধারণা করা হচ্ছে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ হবে। মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমার সাথ বাড়তে পারে সামান্য পরিমাণে বেসরকারি ভোগ যার ফলে গত অর্থবছরের তুলনায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কিছুটা উন্নত হবে। তবে দেশের অর্থনীতি ইতিবাচক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হলেও দারিদ্রতা পরিস্থিতি উর্ধ্বগামী। একই সঙ্গে দেশে বাড়ছে বেকারত্বের হার। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ৩০ লাখ কর্মক্ষম মানুষ শ্রমবাজারের বাইরে ছিলেন। এদিকে, অর্থনৈতিক দিক দিয়ে স্বস্তিতে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, অর্থনৈতিক দিক দিয়ে আমি স্বস্তিতে আছি। সে জন্য তো আমরা মোটামুটি একটু কনফিডেন্ট।
সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি আরও শক্তিশালী হয়ে ৬ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে বিনিয়োগের পরিমাণ কিছুটা বাড়বে বলে আশা করা যাচ্ছে। তবে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এই প্রবৃদ্ধির গতিকে সীমিত করতে পারে। আমদানি স্বাভাবিক হলে চলতি হিসাবের ভারসাম্য সামান্য ঘাটতিতে ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের উন্নতির সঙ্গে রাজস্ব আয়ের বৃদ্ধির ফলে জিডিপি অনুপাতে রাজস্ব ঘাটতি ৫ শতাংশের নিচে রাখা সম্ভব হবে। মুদ্রাস্ফীতির দিকেও প্রতিবেদনে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি হ্রাসমান ছিল, তবে ২০২৫ সালের আগস্টে তা ৮ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছেছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ২০২৪ সালের নভেম্বরের ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ২০২৫ সালের আগস্টে ৭ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকা এবং খাদ্য সরবরাহ পুনরুদ্ধার মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়েছে। নিম্ন-আয়ের মানুষের মজুরি বৃদ্ধির হার এখনও মুদ্রাস্ফীতির চেয়ে বেশি হলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই ব্যবধান কিছুটা সংকুচিত হয়েছে। তবে দারিদ্র্যের হার বাড়ছে। প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে, ২০২৫ অর্থবছরে জাতীয় দারিদ্র্যের হার ২১ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। শ্রমশক্তির অংশগ্রহণও হ্রাস পেয়েছে। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার ৬০ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে কমে ৫৮ দশমিক ৯ শতাংশে নেমেছে, মূলত নারীর অংশগ্রহণ হ্রাসের কারণে। এ সময়ে প্রায় ৩০ লাখ কর্মক্ষম বয়সী মানুষ শ্রমশক্তির বাইরে ছিলেন, যার মধ্যে ২ দশমিক ৪ মিলিয়ন নারী। মোট কর্মসংস্থান প্রায় ২০ লাখ কমে ৬৯ দশমিক ১ লাখে দাঁড়িয়েছে, ফলে কর্মসংস্থান-কর্মক্ষম বয়সের জনসংখ্যার অনুপাত ২ দশমিক ১ শতাংশ পয়েন্ট কমে ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশে নেমেছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে দারিদ্রের হার বেড়ে যাওয়ার যে শঙ্কা করা হয়েছে। এ বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমি তাত্ত্বিক দিকে এখন যাবো না। দারিদ্র বেড়ে গেছে, দারিদ্র্য আছে প্রকৃত পক্ষে এগুলো বলতে হলে আমার অনেক বক্তব্য দিতে হবে। আমি তো জানি কীভাবে ওরা দারিদ্র্য মেজার করে। বেজ আছে, ক্লায়েন্ট আছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি সামান্য হ্রাস পেয়ে ৪ দশমিক ০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ। দুর্বল বিনিয়োগের কারণে বৃদ্ধি মাত্র ০ দশমিক ৮ শতাংশ হয়েছে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ব্যবসায় পরিচালনার উচ্চ ব্যয়ের কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ কমে গেছে, আর সরকারি বিনিয়োগও হ্রাস পেয়েছে। এডিপি বাস্তবায়নেও ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এখনও উদ্বেগের বিষয়। খেলাপি ঋণ মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে। মূলধন-ঝুঁকি-ভারিত সম্পদের অনুপাত ৬ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ন্যূনতম ১০ শতাংশের অনেক নিচে। সরকারের পক্ষ থেকে দুর্বল ব্যাংকগুলো মার্জ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শাসনব্যবস্থা এবং পরিচালনাগত স্বাধীনতা শক্তিশালী করার পাশাপাশি ব্যাংকের কর্পোরেট শাসনের জন্য আইনি কাঠামো উন্নয়নের প্রচেষ্টা চলছে। এছাড়া আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করার এবং জরুরি তরল্য সহায়তা কাঠামো চালু করার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।






















