দেশের বৃহত্তম ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে শুরু হয়েছে রমজানকে কেন্দ্র করে পণ্য মজুদ ও বেচাকেনার প্রস্তুতি। আগামী বছর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি রমজান শুরু হবে—এমন হিসাব ধরে ব্যবসায়ীরা এখন থেকেই ছোলা, ডাল, চিনি, তেলসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্য গুদামজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতি বছর রমজানের দুই থেকে আড়াই মাস আগে থেকেই এ বাজারে পণ্য মজুদের চাপ বাড়ে। রমজানের দুই সপ্তাহ আগে পাইকারিতে বেচাকেনা কমে গিয়ে পণ্য চলে যায় খুচরা বাজারে।
খাতুনগঞ্জের আমদানিকারকরা জানান, কোনো পণ্য বুকিং থেকে গুদামে পৌঁছাতে দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগে। এছাড়া বন্দর থেকে চালান ছাড় করতেও নির্দিষ্ট সময় প্রয়োজন হয়। রমজান সামনে রেখে ইতোমধ্যে প্রচুর ছোলা, মটর, মসুর ডালসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় পণ্যের চালান দেশে এসে পৌঁছেছে। গত বছরের অনেক পণ্যও গুদামে মজুদ রয়েছে।
নিত্যপণ্যের বর্তমান বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে—বেশিরভাগ পণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় কম।
বর্তমানে প্রতি মন অস্ট্রেলিয়ান ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ২০০ টাকায় (৮৫ টাকা কেজি), যা গত বছর ছিল ৯৫ টাকা। ভারতীয় ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা (গত বছর ১০৫ টাকা)।
মোটা মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৭২ টাকা (গত বছর ৮৫ টাকা), চিকন মসুর ১৫০ টাকা (গত বছর ১৪০ টাকা), খেসারি ৭০ টাকা (গত বছর ৯০ টাকা), মটর ডাল ৪২ টাকা (গত বছর ৫৫ টাকা) এবং মুগ ডাল ৮২ টাকা (গত বছর ১২৫ টাকা)।
ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রে সয়াবিন তেল প্রতি মন ৬ হাজার ৬০০ টাকা, যা গত বছর ছিল ৬ হাজার ২০০ টাকা। পাম তেল ৫ হাজার ৭৮০ টাকা (গত বছর ৪ হাজার ৭০০ টাকা)।
চিনি বিক্রি হচ্ছে প্রতি মন ৩ হাজার ৩৫০ টাকায় (৯০ টাকা কেজি), যা গত বছর ছিল ১২০ টাকা।
গত বছর সাধারণ মানের খেজুর ১০ কেজির কার্টুন ছিল ১ হাজার ৬০০ টাকা, বর্তমানে তা ১ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খাতুনগঞ্জের আড়তদাররা জানান, বাজারে ছোলা, মটর, মসুর, খেসারি ও চিনিসহ রমজানের চাহিদাসম্পন্ন সব পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। শরবতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় রমজানে চিনির ব্যবহারও কয়েকগুণ বাড়ে—তবে এবার চিনির কোনো ঘাটতি নেই। সারা দেশে রমজানে প্রায় ৮০ হাজার টন ছোলার চাহিদা থাকে, আর অস্ট্রেলিয়া থেকে পর্যাপ্ত ছোলা ইতোমধ্যে এসে গেছে।
বিএসএম গ্রুপের কর্ণধার আবুল বশর চৌধুরী বলেন, “এ বছর ভোগ্যপণ্যের বাজার নিম্নমুখী। রমজানের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সরবরাহেও কোনো ঘাটতি নেই। ইতোমধ্যে দাম কমেছে, সামনে আরও কমতে পারে।”
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বক্কর বলেন, “রমজানের প্রস্তুতি হিসেবে ব্যবসায়ীরা পর্যাপ্ত পণ্য আমদানি করেছেন। ছোলার দাম গত বছরের তুলনায় কেজিতে ২০ টাকা কমেছে। অন্যান্য পণ্যের দামও আন্তর্জাতিক বাজারের নিচে।”
চাক্তাই–খাতুনগঞ্জ সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বলেন, “রমজানের তিন–চার মাস আগে ব্যবসায়ীরা এলসি খোলেন। অনেক পণ্য গুদামে পৌঁছেছে। দেশে ভোগ্যপণ্যের চাহিদা ও আমদানি দুটোই বাড়ছে। বাজারে কোনো ঘাটতি নেই।”
তবে তিনি ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওজন নিয়ন্ত্রণ স্কেলকে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন। তার দাবি—“ওজন স্কেলের কারণে এখান থেকে ব্যবসায়ীরা পণ্য তুলতে সমস্যায় পড়ছেন। ১৩ টনের বেশি পরিবহন করা না যাওয়ায় পরিবহন ব্যয় ও পণ্যের দামে প্রভাব পড়ছে।”
এমআর/সবা

























