প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে রংপুরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে নগরীর ডিসির মোড় শহীদ হাদি চত্বরে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অবস্থান কর্মসূচি থেকে শহীদ ওসমান হাদিকে হত্যার মাস্টারমাইন্ডসহ জড়িত সকলকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা ‘বিচার বিচার বিচার চাই—হাদি হত্যার বিচার চাই’, ‘আর নয় প্রতিরোধ—এবার হবে প্রতিশোধ’, ‘দিল্লি যাদের মামা বাড়ি—বাংলা ছাড়ো তাড়াতাড়ি’, ‘পেতে চাইলে মুক্তি—ছাড়ো ভারতভক্তি’, ‘তুমি কে আমি কে—হাদি হাদি’, ‘ভারতের আগ্রাসন—রুখে দাও জনগণ’, ‘লাল জুলাইয়ের হাতিয়ার—গর্জে ওঠো আরেকবার’সহ নানা স্লোগান দেন।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক জাহিদ হাসান জয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক রহমত আলী, সাবেক মুখপাত্র খন্দকার নাহিদ হাসান, জাতীয় ছাত্রশক্তি মহানগরের আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ইমতি, সদস্য সচিব হাজিম উল হক, যুগ্ম সদস্য সচিব ফারহান তানবীর ফাহিম, সংগঠক মাহবুব হাসান তন্ময়, সীমান্ত ইসলামসহ বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীরা।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে শরিফ ওসমান হাদি শহীদ হয়েছেন। তাঁর হত্যার সঙ্গে জড়িত খুনিরা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছে। ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, খুনিদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশের জনগণ বিশ্বাস করবে, ভারত খুনিদের আশ্রয়দাতা ও পাহারাদার।
জাতীয় ছাত্রশক্তির মহানগরের সদস্য সচিব হাজিম উল হক বলেন, বর্তমান সরকার জুলাই চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে দেশে কোনো নির্বাচন হতে পারে না। হাদি হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
উল্লেখ্য, সারাদেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে ইনকিলাব মঞ্চের পূর্বঘোষিত অবরোধ কর্মসূচি থাকলেও রংপুরে জনভোগান্তি বিবেচনায় সড়ক অবরোধ না করে শহীদ হাদি চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।
এমআর/সবা




















