০৭:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাজেকের দুর্গম ভূয়াছড়িতে সেনাবাহিনীর মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম

পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে দুর্গম ও অনগ্রসর এলাকায় মানবিক সহায়তা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় খাগড়াছড়ির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম ভূয়াছড়ি এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোন।

সম্প্রতি বাস্তবায়িত এসব কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ ও স্কুল ড্রেস বিতরণ, হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে শীতবস্ত্র প্রদান, নদীর পাড়ে চলাচলের সুবিধার্থে সিঁড়ি নির্মাণ, স্থানীয় জনগণের জন্য একটি ক্লাব নির্মাণ, অসহায় পরিবারের বসবাসের জন্য একটি ঘর নির্মাণ এবং এলাকার ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে পালনের সুবিধার্থে একটি মন্দির পুনর্নির্মাণ করা হয়।

এসব উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সাজেকের ভূয়াছড়ি, কালুচোরা, ত্রিপুরাপাড়া ও কোজুইতলি পাড়াসহ আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সার্বিক কল্যাণ বিবেচনায় বাঘাইহাট জোনের উদ্যোগে এবং জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মনিরুল ইসলাম, পিপিএম (বার), পিএসসি–এর দিকনির্দেশনায় এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়।

কর্মসূচি চলাকালে জোন কমান্ডার স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি বলেন, পাহাড়ি জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, তরুণ সমাজের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু একটি নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী নয়, বরং জনগণের পাশে থেকে সমাজ উন্নয়নে একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে কাজ করছে।

এ সময় এক প্রবীণ পাহাড়ি বাসিন্দা বলেন, সেনাবাহিনীর এমন ব্যাপক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম তিনি আগে কখনো দেখেননি। তাঁর ভাষায়, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এখন শুধু নিরাপত্তাই দিচ্ছে না, আমাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও ধর্মীয় চাহিদার দিকেও নজর দিচ্ছে। এসব কাজ আমাদের মতো প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত আনন্দের।”

স্থানীয়রা মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক আস্থার বন্ধন আরও দৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

আফতাবনগর বালুর মাঠে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ

সাজেকের দুর্গম ভূয়াছড়িতে সেনাবাহিনীর মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম

আপডেট সময় : ০৩:৫২:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে দুর্গম ও অনগ্রসর এলাকায় মানবিক সহায়তা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় খাগড়াছড়ির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম ভূয়াছড়ি এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোন।

সম্প্রতি বাস্তবায়িত এসব কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ ও স্কুল ড্রেস বিতরণ, হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে শীতবস্ত্র প্রদান, নদীর পাড়ে চলাচলের সুবিধার্থে সিঁড়ি নির্মাণ, স্থানীয় জনগণের জন্য একটি ক্লাব নির্মাণ, অসহায় পরিবারের বসবাসের জন্য একটি ঘর নির্মাণ এবং এলাকার ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে পালনের সুবিধার্থে একটি মন্দির পুনর্নির্মাণ করা হয়।

এসব উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সাজেকের ভূয়াছড়ি, কালুচোরা, ত্রিপুরাপাড়া ও কোজুইতলি পাড়াসহ আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সার্বিক কল্যাণ বিবেচনায় বাঘাইহাট জোনের উদ্যোগে এবং জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মনিরুল ইসলাম, পিপিএম (বার), পিএসসি–এর দিকনির্দেশনায় এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়।

কর্মসূচি চলাকালে জোন কমান্ডার স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি বলেন, পাহাড়ি জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, তরুণ সমাজের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু একটি নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী নয়, বরং জনগণের পাশে থেকে সমাজ উন্নয়নে একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে কাজ করছে।

এ সময় এক প্রবীণ পাহাড়ি বাসিন্দা বলেন, সেনাবাহিনীর এমন ব্যাপক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম তিনি আগে কখনো দেখেননি। তাঁর ভাষায়, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এখন শুধু নিরাপত্তাই দিচ্ছে না, আমাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও ধর্মীয় চাহিদার দিকেও নজর দিচ্ছে। এসব কাজ আমাদের মতো প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত আনন্দের।”

স্থানীয়রা মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক আস্থার বন্ধন আরও দৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

শু/সবা