০৫:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নিম্নমানের সড়ক নির্মাণের অভিযোগে এলজিইডি কর্তাদের পরিদর্শন

খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলায় মোহাম্মদপুর–বাজার সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া – রাবিশ ব্যবহার ও মেকাডম পরিস্কার না করার অভিযোগে সরেজমিন পরিদর্শন করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সড়কটি পরিদর্শনে যান। এর আগে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাজ চালুর অভিযোগ উঠলে গত ৯ জানুয়ারি বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী আন্দোলনের মাধ্যমে সড়ক নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার এবং মেকাডম পরিষ্কার না করেই পিচ ঢালাইয়ের কাজ শুরু করাকে কেন্দ্র করে গত ৬ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত এলাকাবাসীর সঙ্গে সাব-ঠিকাদার ও তার সহযোগীদের একাধিক দফা বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির অবনতি হলে এলাকাবাসী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পরিদর্শনকালে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মতিয়ারের যোগসাজশেই নিম্নমানের কাজ পরিচালিত হচ্ছে। তারা তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী মতিয়ার।
সরেজমিন পরিদর্শন শেষে খাগড়াছড়ি সদর ও পানছড়ি উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মো. রাজু আহম্মেদ বলেন, ” এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা বিষয়টি জানতে পারি।

পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, এলাকাবাসীর অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে । মেকাডম পরিষ্কার না করেই পিচ ঢালাই করা হয়েছে, যা বিধি অনুযায়ী সঠিক নয়। এ বিষয়ে জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা আবুল কামাল বলেন, “নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদ করতে গিয়ে উপ-ঠিকাদার জাহাঙ্গীর ও তার লোকজনের সঙ্গে আমাদের হাতাহাতি হয়। পরে আমরা গণস্বাক্ষর সংযুক্ত করে জেলা এলজিইডি কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেই এবং বিক্ষোভ মিছিল করি, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। আমরা চাই মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করে দ্রুত সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ করা হোক।”
উল্লেখ্য, এলজিইডির ২০২৩–২৪ অর্থবছরে মোহাম্মদপুর মসজিদ এলাকা থেকে পানছড়ি বাজার পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২ দশমিক ৩৫০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ পায় মেসার্স কবি রঞ্জন (খাগড়াছড়ি)। তবে মূল ঠিকাদার নিজে কাজ না করে উপ-ঠিকাদার জাহাঙ্গীর আলমের কাছে কাজ হস্তান্তর করেন। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় পরবর্তীতে ছয় মাস সময় বৃদ্ধি নিয়ে পুনরায় কাজ শুরু করা হয়।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও কঠোর তদারকির মাধ্যমে অনিয়মের অবসান ঘটিয়ে সড়ক নির্মাণ কাজ মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করা হোক।

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

বিসিবি পরিচালক পদত্যাগ না করলে ক্রিকেট বর্জনের আলটিমেটাম

নিম্নমানের সড়ক নির্মাণের অভিযোগে এলজিইডি কর্তাদের পরিদর্শন

আপডেট সময় : ০৬:০৭:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলায় মোহাম্মদপুর–বাজার সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া – রাবিশ ব্যবহার ও মেকাডম পরিস্কার না করার অভিযোগে সরেজমিন পরিদর্শন করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সড়কটি পরিদর্শনে যান। এর আগে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাজ চালুর অভিযোগ উঠলে গত ৯ জানুয়ারি বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী আন্দোলনের মাধ্যমে সড়ক নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার এবং মেকাডম পরিষ্কার না করেই পিচ ঢালাইয়ের কাজ শুরু করাকে কেন্দ্র করে গত ৬ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত এলাকাবাসীর সঙ্গে সাব-ঠিকাদার ও তার সহযোগীদের একাধিক দফা বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির অবনতি হলে এলাকাবাসী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পরিদর্শনকালে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মতিয়ারের যোগসাজশেই নিম্নমানের কাজ পরিচালিত হচ্ছে। তারা তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী মতিয়ার।
সরেজমিন পরিদর্শন শেষে খাগড়াছড়ি সদর ও পানছড়ি উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মো. রাজু আহম্মেদ বলেন, ” এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা বিষয়টি জানতে পারি।

পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, এলাকাবাসীর অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে । মেকাডম পরিষ্কার না করেই পিচ ঢালাই করা হয়েছে, যা বিধি অনুযায়ী সঠিক নয়। এ বিষয়ে জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা আবুল কামাল বলেন, “নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদ করতে গিয়ে উপ-ঠিকাদার জাহাঙ্গীর ও তার লোকজনের সঙ্গে আমাদের হাতাহাতি হয়। পরে আমরা গণস্বাক্ষর সংযুক্ত করে জেলা এলজিইডি কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেই এবং বিক্ষোভ মিছিল করি, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। আমরা চাই মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করে দ্রুত সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ করা হোক।”
উল্লেখ্য, এলজিইডির ২০২৩–২৪ অর্থবছরে মোহাম্মদপুর মসজিদ এলাকা থেকে পানছড়ি বাজার পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২ দশমিক ৩৫০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ পায় মেসার্স কবি রঞ্জন (খাগড়াছড়ি)। তবে মূল ঠিকাদার নিজে কাজ না করে উপ-ঠিকাদার জাহাঙ্গীর আলমের কাছে কাজ হস্তান্তর করেন। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় পরবর্তীতে ছয় মাস সময় বৃদ্ধি নিয়ে পুনরায় কাজ শুরু করা হয়।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও কঠোর তদারকির মাধ্যমে অনিয়মের অবসান ঘটিয়ে সড়ক নির্মাণ কাজ মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করা হোক।

শু/সবা