10:19 am, Tuesday, 28 April 2026

পরিবহন মন্ত্রীর বক্তব্যে যা বললেন তাসনিম জারা

সড়কে চাঁদা আদায়কে ‘সমঝোতা’ বা ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন ডা. তাসনিম জারা। তিনি বলেছেন, মন্ত্রী যাকে সমঝোতা হিসেবে তুলে ধরছেন, বাস্তবে তা চালকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি অবৈধ ও অন্যায় পদ্ধতি।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক স্ট্যাটাসে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় ডা. তাসনিম জারা বলেন, কোনো চালক যখন নির্দিষ্ট রুটে গাড়ি চালাতে যান, তখন তাকে বাধ্যতামূলকভাবে নির্দিষ্ট সংগঠন বা গোষ্ঠীকে টাকা দিতে হয়। এটি কোনো স্বেচ্ছাসম্মত সমঝোতা নয়, বরং চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে চালকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের একটি ব্যবস্থা। একে ‘সমঝোতা’ বলে আখ্যা দেওয়া মানে একটি অনিয়মকে বৈধতার ভাষা দেওয়া।

তিনি আরও বলেন, সড়কের এই অলিখিত চাঁদা ব্যবস্থার সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। বাসভাড়া বৃদ্ধির অন্যতম কারণ এই চাঁদা আদায়। একইভাবে পণ্যবাহী ট্রাক থেকে টাকা আদায়ের ফলে পরিবহন ব্যয় বাড়ে এবং এর প্রভাব পড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। শেষ পর্যন্ত এই বাড়তি খরচ বহন করতে হয় যাত্রী ও সাধারণ ভোক্তাকেই।

সাবেক জাতীয় নাগরিক পার্টি নেত্রী তাসনিম জারা মন্ত্রীর বক্তব্যের একটি অংশের প্রতিও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, মন্ত্রী নিজেই যখন বলেন, ‘যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তাদের আধিপত্য থাকে’, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে—এই অর্থ আদায়ের পেছনে কি রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে? যদি তা না থাকে, তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন।

স্ট্যাটাসে তিনি সড়কে সরাসরি টাকা তোলার সংস্কৃতি বন্ধ করার আহ্বান জানান। তার মতে, মালিক বা শ্রমিক সংগঠনের কল্যাণ তহবিলের জন্য অর্থ প্রয়োজন হলে তা অবশ্যই আনুষ্ঠানিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় আদায় করা উচিত। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বা বার্ষিক রেজিস্ট্রেশন ফি-এর সঙ্গে যুক্ত করে এই অর্থ সংগ্রহ করা যেতে পারে।

একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সড়কে যে কোটি কোটি টাকা আদায় করা হচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ অডিট নিশ্চিত করতে হবে। এই অর্থ আসলে কার কল্যাণে ব্যয় হচ্ছে—সাধারণ চালক-শ্রমিকদের জন্য, নাকি কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তির পকেটে যাচ্ছে—তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা জরুরি। ডা. তাসনিম জারা বলেন, এই অর্থ চালক বা মালিকের ব্যক্তিগত নয়; এটি শেষ পর্যন্ত আসে সাধারণ মানুষের কাছ থেকেই। সরকারের দায়িত্ব সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা, অনিয়মকে ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে মানুষকে হতাশ করা নয়।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

seventeen − ten =

Popular Post

বিমানবন্দরে জোরদার নিরাপত্তা, শাহজালালে বাড়তি নজরদারি

পরিবহন মন্ত্রীর বক্তব্যে যা বললেন তাসনিম জারা

Update Time : ০৮:০৮:১০ pm, Thursday, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সড়কে চাঁদা আদায়কে ‘সমঝোতা’ বা ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন ডা. তাসনিম জারা। তিনি বলেছেন, মন্ত্রী যাকে সমঝোতা হিসেবে তুলে ধরছেন, বাস্তবে তা চালকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি অবৈধ ও অন্যায় পদ্ধতি।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক স্ট্যাটাসে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় ডা. তাসনিম জারা বলেন, কোনো চালক যখন নির্দিষ্ট রুটে গাড়ি চালাতে যান, তখন তাকে বাধ্যতামূলকভাবে নির্দিষ্ট সংগঠন বা গোষ্ঠীকে টাকা দিতে হয়। এটি কোনো স্বেচ্ছাসম্মত সমঝোতা নয়, বরং চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে চালকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের একটি ব্যবস্থা। একে ‘সমঝোতা’ বলে আখ্যা দেওয়া মানে একটি অনিয়মকে বৈধতার ভাষা দেওয়া।

তিনি আরও বলেন, সড়কের এই অলিখিত চাঁদা ব্যবস্থার সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। বাসভাড়া বৃদ্ধির অন্যতম কারণ এই চাঁদা আদায়। একইভাবে পণ্যবাহী ট্রাক থেকে টাকা আদায়ের ফলে পরিবহন ব্যয় বাড়ে এবং এর প্রভাব পড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। শেষ পর্যন্ত এই বাড়তি খরচ বহন করতে হয় যাত্রী ও সাধারণ ভোক্তাকেই।

সাবেক জাতীয় নাগরিক পার্টি নেত্রী তাসনিম জারা মন্ত্রীর বক্তব্যের একটি অংশের প্রতিও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, মন্ত্রী নিজেই যখন বলেন, ‘যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তাদের আধিপত্য থাকে’, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে—এই অর্থ আদায়ের পেছনে কি রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে? যদি তা না থাকে, তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন।

স্ট্যাটাসে তিনি সড়কে সরাসরি টাকা তোলার সংস্কৃতি বন্ধ করার আহ্বান জানান। তার মতে, মালিক বা শ্রমিক সংগঠনের কল্যাণ তহবিলের জন্য অর্থ প্রয়োজন হলে তা অবশ্যই আনুষ্ঠানিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় আদায় করা উচিত। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বা বার্ষিক রেজিস্ট্রেশন ফি-এর সঙ্গে যুক্ত করে এই অর্থ সংগ্রহ করা যেতে পারে।

একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সড়কে যে কোটি কোটি টাকা আদায় করা হচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ অডিট নিশ্চিত করতে হবে। এই অর্থ আসলে কার কল্যাণে ব্যয় হচ্ছে—সাধারণ চালক-শ্রমিকদের জন্য, নাকি কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তির পকেটে যাচ্ছে—তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা জরুরি। ডা. তাসনিম জারা বলেন, এই অর্থ চালক বা মালিকের ব্যক্তিগত নয়; এটি শেষ পর্যন্ত আসে সাধারণ মানুষের কাছ থেকেই। সরকারের দায়িত্ব সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা, অনিয়মকে ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে মানুষকে হতাশ করা নয়।

শু/সবা