12:55 pm, Tuesday, 28 April 2026

পরলোকে গোপালগঞ্জের সংগীত সাধক ওস্তাদ অনিল কুমার বিশ্বাস

​গোপালগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অভিভাবক, জেলা শিল্পকলা একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ এবং বরেণ্য সংগীত সাধক ওস্তাদ অনিল কুমার বিশ্বাস আর নেই। গত ৪ মার্চ বিকেলে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।

​আজ ৫ মার্চ সকালে এই গুণী সংগীত সাধকের মরদেহ গোপালগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গণে আনা হলে সেখানে এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রিয় গুরুকে শেষ বিদায় জানাতে ঢল নামে তাঁর অগণিত শিষ্য, অনুরাগী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের। জেলা শিল্পকলা একাডেমীর পক্ষ থেকে কালচারাল অফিসার ফারহান কবীর সিফাত ও গোপালগঞ্জের সাবেক কালচারাল অফিসার মামুন সালেহ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

​শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সাবেক জেলা শিল্পকলা সেক্রেটারি বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজবাহ উদ্দিন হাসান, সাবেক সেক্রেটারি ও ঘনিষ্ঠ সহচর শিব শঙ্কর অধিকারী, উদীচী জেলা সংসদের সভাপতি নাজমুল ইসলাম এবং চন্দ্রিমা শিল্পী গোষ্ঠীর সভাপতি কবি শেখ ফরিদ আহমেদ। এছাড়া ত্রিবেণী গণ সাংস্কৃতিক সংস্থার অধ্যক্ষ রাখাল ঠাকুর, গোপালগঞ্জ থিয়েটারের সভাপতি আব্দুস সবুরসহ সুর সন্ধান, সুর সঙ্গম ও অনুনাদ শিল্পী গোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ এবং তাঁর প্রিয় শিষ্যা কণ্ঠশিল্পী নিপর্ণা বিশ্বাস ও শাহনাজ রেজা এ্যানি পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।

​স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, ওস্তাদ অনিল কুমার বিশ্বাসের প্রয়াণ গোপালগঞ্জের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি কেবল একজন শিক্ষক ছিলেন না, ছিলেন শুদ্ধ সংগীত চর্চার বাতিঘর। কালচারাল অফিসার ফারহান কবীর সিফাত জানান, ওস্তাদজির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর উদ্যোগে শীঘ্রই একটি স্মরণসভা আয়োজন করা হবে এবং তাঁর জীবন ও কর্মের ওপর একটি বিশেষ স্মরণিকা প্রকাশ করা হবে।

​শিল্পকলা একাডেমীতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাঁর মরদেহ গোপালগঞ্জ পৌর মহাশ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিপুল সংখ্যক গুণগ্রাহী ও স্বজনদের উপস্থিতিতে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তাঁর প্রয়াণে সমগ্র জেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

2 + one =

Popular Post

বিমানবন্দরে জোরদার নিরাপত্তা, শাহজালালে বাড়তি নজরদারি

পরলোকে গোপালগঞ্জের সংগীত সাধক ওস্তাদ অনিল কুমার বিশ্বাস

Update Time : ০৫:৪৪:৪৭ pm, Thursday, ৫ মার্চ ২০২৬

​গোপালগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অভিভাবক, জেলা শিল্পকলা একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ এবং বরেণ্য সংগীত সাধক ওস্তাদ অনিল কুমার বিশ্বাস আর নেই। গত ৪ মার্চ বিকেলে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।

​আজ ৫ মার্চ সকালে এই গুণী সংগীত সাধকের মরদেহ গোপালগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গণে আনা হলে সেখানে এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রিয় গুরুকে শেষ বিদায় জানাতে ঢল নামে তাঁর অগণিত শিষ্য, অনুরাগী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের। জেলা শিল্পকলা একাডেমীর পক্ষ থেকে কালচারাল অফিসার ফারহান কবীর সিফাত ও গোপালগঞ্জের সাবেক কালচারাল অফিসার মামুন সালেহ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

​শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সাবেক জেলা শিল্পকলা সেক্রেটারি বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজবাহ উদ্দিন হাসান, সাবেক সেক্রেটারি ও ঘনিষ্ঠ সহচর শিব শঙ্কর অধিকারী, উদীচী জেলা সংসদের সভাপতি নাজমুল ইসলাম এবং চন্দ্রিমা শিল্পী গোষ্ঠীর সভাপতি কবি শেখ ফরিদ আহমেদ। এছাড়া ত্রিবেণী গণ সাংস্কৃতিক সংস্থার অধ্যক্ষ রাখাল ঠাকুর, গোপালগঞ্জ থিয়েটারের সভাপতি আব্দুস সবুরসহ সুর সন্ধান, সুর সঙ্গম ও অনুনাদ শিল্পী গোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ এবং তাঁর প্রিয় শিষ্যা কণ্ঠশিল্পী নিপর্ণা বিশ্বাস ও শাহনাজ রেজা এ্যানি পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।

​স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, ওস্তাদ অনিল কুমার বিশ্বাসের প্রয়াণ গোপালগঞ্জের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি কেবল একজন শিক্ষক ছিলেন না, ছিলেন শুদ্ধ সংগীত চর্চার বাতিঘর। কালচারাল অফিসার ফারহান কবীর সিফাত জানান, ওস্তাদজির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর উদ্যোগে শীঘ্রই একটি স্মরণসভা আয়োজন করা হবে এবং তাঁর জীবন ও কর্মের ওপর একটি বিশেষ স্মরণিকা প্রকাশ করা হবে।

​শিল্পকলা একাডেমীতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাঁর মরদেহ গোপালগঞ্জ পৌর মহাশ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিপুল সংখ্যক গুণগ্রাহী ও স্বজনদের উপস্থিতিতে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তাঁর প্রয়াণে সমগ্র জেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শু/সবা