রায়গঞ্জে স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কার, স্বস্তি ফিরেছে এলাকাবাসীর মাঝে » দৈনিক সবুজ বাংলা
০২:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রায়গঞ্জে স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কার, স্বস্তি ফিরেছে এলাকাবাসীর মাঝে

দীর্ঘদিনের অবহেলা আর ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নিজ উদ্যোগেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার করলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে করে জনজীবনে ফিরে এসেছে স্বস্তি, সহজ হয়েছে দৈনন্দিন চলাচল।
উপজেলার ৭ নম্বর নলকা ইউনিয়নের এরান্দহ মন্টু মাস্টারের বাড়ি থেকে বোয়ালিয়ার চর বাজারগামী সড়কের নুরুল ইসলামের পুকুরপাড় (ভুইয়া বাড়ি) সংলগ্ন অংশটি কয়েক বছর ধরে চলাচলের অনুপযোগী ছিল। বর্ষা মৌসুমে রাস্তার অংশ বিশেষ ভেঙে পুকুরে পড়ে যেত, কাদার কারণে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ত। শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালিও জনদুর্ভোগ বাড়াত।
এই সড়ক দিয়ে বোয়ালিয়ার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শাহজাহান আলী কিন্ডারগার্টেন স্কুল ও বোয়ালিয়ার চর দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। এছাড়া রোগী পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আনা-নেওয়ায়ও নিয়মিত বাধার সৃষ্টি হতো।
স্থানীয়রা জানান, একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী নিজেরাই উদ্যোগ নেন। এরান্দহ সরকার বাড়ি, খন্দকার বাড়ি ও ভুইয়া বাড়ি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষ একত্রিত হয়ে সভা করে রাস্তা নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
পরবর্তীতে চাঁদা সংগ্রহ ও স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বাঁশ, কাঠ ও জিআই তার দিয়ে পাইলিং করে এবং বেকু মেশিনের সাহায্যে মাটি ভরাট করে প্রায় দুই সপ্তাহের প্রচেষ্টায় রাস্তাটি চলাচলযোগ্য করা হয়। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলে এতে অংশ নেন, যা এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক ঐক্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুজ্জামান মন্টু মাস্টার, সাইফুল ইসলাম বাদশা, আব্দুর রশিদ সরকার, জুলহাস, কামরুল ইসলাম খন্দকার, আবুল কাশেম ও ফয়াজ ভুইয়া বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে কষ্টে চলাচল করছিলাম। কেউ এগিয়ে না আসায় নিজেরাই কাজ শুরু করি। এখন অন্তত স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করতে পারছি।”
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, এতে শিশুদের স্কুলে যাতায়াত এখন অনেকটাই নিরাপদ হয়েছে।
তবে এলাকাবাসীর দাবি, এটি সাময়িক সমাধান। নলকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত সড়কটি হেরিংবোন বা স্থায়ীভাবে পাকা করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পূর্বেও কর্মসূচির শ্রমিক দিয়ে মাটির কাজ করা হয়েছিল। কিন্তু পুকুর সংলগ্ন হওয়ায় বৃষ্টিতে মাটি ধসে যায়।
নলকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম জানান, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কারের এই উদ্যোগ প্রমাণ করেছে—সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে অনেক সমস্যারই সমাধান সম্ভব।
শু/সবা
জনপ্রিয় সংবাদ

পোকখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে গণতন্ত্র, সুশাসন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সভা ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

রায়গঞ্জে স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কার, স্বস্তি ফিরেছে এলাকাবাসীর মাঝে

আপডেট সময় : ০৫:১২:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
দীর্ঘদিনের অবহেলা আর ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নিজ উদ্যোগেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার করলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে করে জনজীবনে ফিরে এসেছে স্বস্তি, সহজ হয়েছে দৈনন্দিন চলাচল।
উপজেলার ৭ নম্বর নলকা ইউনিয়নের এরান্দহ মন্টু মাস্টারের বাড়ি থেকে বোয়ালিয়ার চর বাজারগামী সড়কের নুরুল ইসলামের পুকুরপাড় (ভুইয়া বাড়ি) সংলগ্ন অংশটি কয়েক বছর ধরে চলাচলের অনুপযোগী ছিল। বর্ষা মৌসুমে রাস্তার অংশ বিশেষ ভেঙে পুকুরে পড়ে যেত, কাদার কারণে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ত। শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালিও জনদুর্ভোগ বাড়াত।
এই সড়ক দিয়ে বোয়ালিয়ার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শাহজাহান আলী কিন্ডারগার্টেন স্কুল ও বোয়ালিয়ার চর দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। এছাড়া রোগী পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আনা-নেওয়ায়ও নিয়মিত বাধার সৃষ্টি হতো।
স্থানীয়রা জানান, একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী নিজেরাই উদ্যোগ নেন। এরান্দহ সরকার বাড়ি, খন্দকার বাড়ি ও ভুইয়া বাড়ি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষ একত্রিত হয়ে সভা করে রাস্তা নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
পরবর্তীতে চাঁদা সংগ্রহ ও স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বাঁশ, কাঠ ও জিআই তার দিয়ে পাইলিং করে এবং বেকু মেশিনের সাহায্যে মাটি ভরাট করে প্রায় দুই সপ্তাহের প্রচেষ্টায় রাস্তাটি চলাচলযোগ্য করা হয়। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলে এতে অংশ নেন, যা এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক ঐক্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুজ্জামান মন্টু মাস্টার, সাইফুল ইসলাম বাদশা, আব্দুর রশিদ সরকার, জুলহাস, কামরুল ইসলাম খন্দকার, আবুল কাশেম ও ফয়াজ ভুইয়া বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে কষ্টে চলাচল করছিলাম। কেউ এগিয়ে না আসায় নিজেরাই কাজ শুরু করি। এখন অন্তত স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করতে পারছি।”
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, এতে শিশুদের স্কুলে যাতায়াত এখন অনেকটাই নিরাপদ হয়েছে।
তবে এলাকাবাসীর দাবি, এটি সাময়িক সমাধান। নলকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত সড়কটি হেরিংবোন বা স্থায়ীভাবে পাকা করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পূর্বেও কর্মসূচির শ্রমিক দিয়ে মাটির কাজ করা হয়েছিল। কিন্তু পুকুর সংলগ্ন হওয়ায় বৃষ্টিতে মাটি ধসে যায়।
নলকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম জানান, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কারের এই উদ্যোগ প্রমাণ করেছে—সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে অনেক সমস্যারই সমাধান সম্ভব।
শু/সবা