কক্সবাজারে রাখাইন সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই পোয়ে বা তিনদিনের জলকেলি উৎসব আনন্দ উল্লাসে শেষ হলো।
রাখাইনদের নতুন বর্ষ ১৩৮৮ মগি বা রাখাইন সাল। রাখাইনদের ভাষায় বর্ষবরণের এই উৎসবকে বলা হয় ‘সাংগ্রেং পোয়ে’। ১৭ এপ্রিল,শুক্রবার থেকে শুরু হয়ে গতকাল ১৯ এপ্রিল, রবিবার দিনব্যাপী গ্রুপ গ্রুপ ভিত্তিতে নানা রঙে সাজে সজ্জিত হয়ে র্যালী সহকারে বিভিন্ন মন্দকে ঘুরে ঘুরে শেষ হলো তিনদিনের জলকেলি উৎসব।
আদিকাল থেকে রাখাইন নববর্ষ উপলক্ষে সামাজিকভাবে সাংগ্রে পোয়ে উৎসব পালন হয়ে আসছে। এবারও ব্যতিক্রম ঘটেনি। আনন্দ-উল্লাসে নতুন বছরকে বরণ করে নিচ্ছে সবাই। এর মাধ্যমে একে অপরের গায়ে পানি ছিটানোর মধ্য দিয়ে পুরনো দিনের সব ব্যথা, বেদনা, হিংসা বিদ্বেষ ভুলে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখা। এটি তাদের কাছে খুবই পবিত্র ও উৎসবের দিন।
এ উৎসব কোনও ধর্মীয় রীতির ভিত্তিতে নয়। সামাজিক রীতিমতে, রাখাইন নববর্ষ বরণের অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে কক্সবাজারের রাখাইনরা একে-অপরকে পানি ছোড়ার খেলায় মেতে উঠেছে। তার পরও নতুন বছর যেন ভালো কাটে, এজন্য আয়োজন করা হয় নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের।
কক্সবাজার বৌদ্ধ মন্দির সড়কে রাখাইন তরুণী মং হ্লা জানান, সাংগ্রেং পোয়ের তিন দিনের এই উৎসবকে তাদের ভাষায় বলা হয় ‘মাহা সাংগ্রেং পোয়ে’।
কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক মং ছেন লা রাখাইন জানান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে রাখাইন ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন কক্সবাজার শহর শাখার সহযোগিতায় কক্সবাজার কেন্দ্রীয় জলকেলি উৎসব পেন্ডেলটি সবচেয়ে নানার রঙিন সাজে আকর্ষণীয় করে তোলা হয়েছে। জলকেলির মূল প্রাণকেন্দ্র। এখানে সকল নারী পুরস্কার জমায়েত হয়ে নাচে গানে আনন্দে মেপে উঠে।
শহরের বৌদ্ধ মন্দির সড়ক, পেশকার পাড়া, টেকপাড়া হাঙরপাড়া, বড় বাজার ও চালবাজারে অন্তত ১৮টি প্যান্ডেল রয়েছে। তাছাড়া জেলার রাখাইন অধ্যুষিত এলাকা, যেমন মহেশখালী, টেকনাফ, রামু ও হারবাং শতাধিক জলকেলি উৎসবের আয়োজন ছিল।
শু/সবা




















