০৮:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাজশাহী চিনিকলে অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার, পরিবহণ মেরামতে ব্যায় মোটা টাকা

এক সময়ের সুনামে থাকা রাজশাহী চিনিকল গত কয়েক বছর থেকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে চলছে। এরমধ্যে আখ
পরিবহনে ব্যবহৃত ৬০০ ট্রলি ও ২০টি ট্রাক্টর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। বছরে মাত্র ১৫-২০ দিনের ব্যবহারের পর
এগুলোর আর যত্ন না নিয়েই অযত্নে ও অবহেলায় ফেলে রাখা হয়। এতে প্রতি বছর মেরামতে ব্যয় হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব পরিবহন রাখাতে যে ধরনের শেড দরকার সেটি তৈরির সক্ষমতা তাদের নেই।
সম্প্রতি রাজশাহীর হরিয়ান এলাকায় অবস্থিত চিনিকল ঘুরে দেখা গেছে, আখ পরিবহনের জন্য যেসব ট্রলি ও ট্রক্টর আছে সেগুলো খোলা আকাশের
নিচে পড়ে আছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অকেজো হয়ে গেছে অন্তত অর্ধেক পরিবহন। ট্রলিগুলোতে মরিচা ধরেছে। কোনোটির চাকা ফুটো হয়ে গেছে।
কোনোটির আবার চাকা খুলে পড়েছে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকলে এসব মূল্যবান যানবাহন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মিলের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রতিবছরই গড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার মতো খরচ হচ্ছে এসব গাড়ির পেছনে। দীর্ঘদিন খোলা
আকাশের নিচে পড়ে থাকায় চাকা, বিয়ারিং নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে রাজশাহী সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল বাশার বলেন, আমাদের আখ পরিবহনের জন্য যত গাড়ি আছে সেই তুলনায় রাখার জায়গা
নেই। এগুলো রাখতে হলে শেড বানাতে হবে। এতে ব্যয় হবে অন্তত দেড়কোটি টাকা। কিন্তু সে সক্ষমতা আমাদের নেই। তাই বাধ্য হয়েই এগুলো খোলা
আকাশের নিচে রাখতে হচ্ছে। রাজশাহী চিনিকল সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী চিনিকলের আখ পরিবহনের জন্য ৬০০ ট্রলি ও ২০টি ট্রাক্টর আছে। ২০২২-২০২৩ মাড়াই মৌসুমে রাজশাহী সুগার মিল ৩৫ দিন চালু রাখার কথা থাকলেও ২১ দিনেই শেষ হয়েছে আখ মাড়াই কার্যক্রম। চলতি ২০২২-২৩ মৌসুমে ২৬ হাজার ৪৫ মেট্রিক টন আখ মাড়াই থেকে চিনি উৎপাদন হয়েছে মাত্র এক হাজার ৩৫৬ মেট্রিক টন। এ ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচ ৮৩ কোটি ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা। ফলে মাত্র ২১ দিনই ব্যবহার হয়েছে এসব পরিবহন। ব্যবহারের পর এসব পরিবহন আবার রাখা হয়েছে খোলা আকাশের নিচে।

রাজশাহী চিনিকলে অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার, পরিবহণ মেরামতে ব্যায় মোটা টাকা

আপডেট সময় : ০৩:৫৩:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ নভেম্বর ২০২৩

এক সময়ের সুনামে থাকা রাজশাহী চিনিকল গত কয়েক বছর থেকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে চলছে। এরমধ্যে আখ
পরিবহনে ব্যবহৃত ৬০০ ট্রলি ও ২০টি ট্রাক্টর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। বছরে মাত্র ১৫-২০ দিনের ব্যবহারের পর
এগুলোর আর যত্ন না নিয়েই অযত্নে ও অবহেলায় ফেলে রাখা হয়। এতে প্রতি বছর মেরামতে ব্যয় হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব পরিবহন রাখাতে যে ধরনের শেড দরকার সেটি তৈরির সক্ষমতা তাদের নেই।
সম্প্রতি রাজশাহীর হরিয়ান এলাকায় অবস্থিত চিনিকল ঘুরে দেখা গেছে, আখ পরিবহনের জন্য যেসব ট্রলি ও ট্রক্টর আছে সেগুলো খোলা আকাশের
নিচে পড়ে আছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অকেজো হয়ে গেছে অন্তত অর্ধেক পরিবহন। ট্রলিগুলোতে মরিচা ধরেছে। কোনোটির চাকা ফুটো হয়ে গেছে।
কোনোটির আবার চাকা খুলে পড়েছে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকলে এসব মূল্যবান যানবাহন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মিলের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রতিবছরই গড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার মতো খরচ হচ্ছে এসব গাড়ির পেছনে। দীর্ঘদিন খোলা
আকাশের নিচে পড়ে থাকায় চাকা, বিয়ারিং নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে রাজশাহী সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল বাশার বলেন, আমাদের আখ পরিবহনের জন্য যত গাড়ি আছে সেই তুলনায় রাখার জায়গা
নেই। এগুলো রাখতে হলে শেড বানাতে হবে। এতে ব্যয় হবে অন্তত দেড়কোটি টাকা। কিন্তু সে সক্ষমতা আমাদের নেই। তাই বাধ্য হয়েই এগুলো খোলা
আকাশের নিচে রাখতে হচ্ছে। রাজশাহী চিনিকল সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী চিনিকলের আখ পরিবহনের জন্য ৬০০ ট্রলি ও ২০টি ট্রাক্টর আছে। ২০২২-২০২৩ মাড়াই মৌসুমে রাজশাহী সুগার মিল ৩৫ দিন চালু রাখার কথা থাকলেও ২১ দিনেই শেষ হয়েছে আখ মাড়াই কার্যক্রম। চলতি ২০২২-২৩ মৌসুমে ২৬ হাজার ৪৫ মেট্রিক টন আখ মাড়াই থেকে চিনি উৎপাদন হয়েছে মাত্র এক হাজার ৩৫৬ মেট্রিক টন। এ ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচ ৮৩ কোটি ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা। ফলে মাত্র ২১ দিনই ব্যবহার হয়েছে এসব পরিবহন। ব্যবহারের পর এসব পরিবহন আবার রাখা হয়েছে খোলা আকাশের নিচে।