১২:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথ ডুবোচর জেগে ওঠায় ৬ কি.মি অতিরিক্ত পথ ঘুরে চলাচল করছে ফেরি

ফিরোজ আহম্মেদ, রাজবাড়ী

বর্ষা মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি ও গভীরতা থাকায় রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া এবং মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথে সরাসরি ফেরি চলাচল করতো। এই শুষ্ক মৌসুমে পানির গভীরতা কমে যাওয়ায় দুই সপ্তাহ ধরে সরাসরি যেতে না পেরে ৬ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে ফেরি চলাচল করছে। এতে করে আগের থেকে অতিরিক্ত প্রায় ৩০ মিনিট সময় বেশি লাগছে। পাশাপাশি জ্বালানি খরচও অনেক বেড়েছে। দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে যানবাহনের চালক ও যাত্রী।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয় জানায়, দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে বর্তমানে ছোট-বড় ১৮টি ফেরি রয়েছে। অবরোধে যানবাহন তেমন না থাকায় দিনে রো রো (বড়) ফেরি চলাচল বন্ধ থাকছে। স্থানীয় এবং ব্যক্তিগত গাড়ি পারাপার হওয়ায় ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি চালু রয়েছে। পানির গভীরতা কমে যাওয়ায় প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সরাসরি ফেরি চলাচল করতে পারছেনা। মাত্র ৩ কিলোমিটার নৌপথ পাড়ি দিতে ঘুরতে হচ্ছে অতিরিক্ত ৬ কিলোমিটার পথ। এতে অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের মতো সময় বেশি লাগার পাশাপাশি জ্বালানি খরচ বেড়েছে।

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে চলাচলরত রো রো (বড়) ফেরি কেরামত আলীর মাষ্টার আশরাফুল ইসলাম বলেন, যানবাহন তেমন একটা না থাকায় আমাদের মতো সকল বড় ফেরিগুলো ঘাটে নোঙর করে বসে থাকতে হচ্ছে। রাতের বেলায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে কিছু সবজি ও জরুরি পন্যবাহী গাড়ি নদী পাড়ি দিতে আসায় তখন বড় ফেরিগুলো চালানো হয়। এছাড়া দিনের বেশিরভাগ সময় ছোট ফেরিগুলো চালু রাখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দৌলতদিয়া থেকে পাটুরিয়া নৌপথের দূরত্ব মাত্র ৩ কিলোমিটার। পানির গভীরতা কমে ডুবোচর জেগে ওঠায় সরাসরি ফেরি চলাচলে নিষেধ রয়েছে। বাধ্য হয়ে প্রায় দ্বিগুন পথ ঘুরে আমাদেরকে প্রাকৃতিক চ্যানেল দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। আগে পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়া পৌছতে লাগতো ৩৫ থেকে ৪০ মিনিট এবং দৌলতদিয়া থেকে পাটুরিয়ায় লাগতো ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট। বর্তমানে উভয় ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় বেশি লাগছে। এতে সময় বেশি লাগার সাথে জ্বালানি খরচও অনেক বেড়েছে। অতিরিক্ত কি পরিমান জ্বালানি খরচ হচ্ছে সে সর্ম্পকে তিনি বলতে পারনেনি।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, বর্ষাকালে নদী ভরাট থাকায় পর্যাপ্ত পানি থাকে। ফেরি চলাচলে তেমন কোন সমস্যা হয়না। স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করতে পারে। এই শুষ্ক মৌসুমে প্রতিদিন পানি কমছে। এছাড়া এই নৌপথে ডুবোচর জেগে ওঠায় উপায় না পেয়ে দুই সপ্তাহ ধরে দীর্ঘপথ ঘুরে ফেরি চলাচল করতে হচ্ছে। এই নৌপথে ছোট-বড় মিলে ১৮টি ফেরি থাকলেও প্রয়োজন অনুসারে ফেরি চালানো হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (মেরিন) আহমেদ আলী বলেন, সাধারণত শীত মৌসুমে পানি দ্রুত কমতে থাকে। দ্রুত পানি কমে যাওয়ায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের পাটুরিয়া ঘাটের কাছাকাছি ডুবোচর জেগে উঠেছে। ফলে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার পথ ঘুরে ফেরি চলাচল করছে।

অব্যাহত অভিযানেও চলছে অবৈধ ক্লিনিক হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টার

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথ ডুবোচর জেগে ওঠায় ৬ কি.মি অতিরিক্ত পথ ঘুরে চলাচল করছে ফেরি

আপডেট সময় : ০৫:১৬:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৩
ফিরোজ আহম্মেদ, রাজবাড়ী

বর্ষা মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি ও গভীরতা থাকায় রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া এবং মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথে সরাসরি ফেরি চলাচল করতো। এই শুষ্ক মৌসুমে পানির গভীরতা কমে যাওয়ায় দুই সপ্তাহ ধরে সরাসরি যেতে না পেরে ৬ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে ফেরি চলাচল করছে। এতে করে আগের থেকে অতিরিক্ত প্রায় ৩০ মিনিট সময় বেশি লাগছে। পাশাপাশি জ্বালানি খরচও অনেক বেড়েছে। দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে যানবাহনের চালক ও যাত্রী।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয় জানায়, দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে বর্তমানে ছোট-বড় ১৮টি ফেরি রয়েছে। অবরোধে যানবাহন তেমন না থাকায় দিনে রো রো (বড়) ফেরি চলাচল বন্ধ থাকছে। স্থানীয় এবং ব্যক্তিগত গাড়ি পারাপার হওয়ায় ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি চালু রয়েছে। পানির গভীরতা কমে যাওয়ায় প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সরাসরি ফেরি চলাচল করতে পারছেনা। মাত্র ৩ কিলোমিটার নৌপথ পাড়ি দিতে ঘুরতে হচ্ছে অতিরিক্ত ৬ কিলোমিটার পথ। এতে অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের মতো সময় বেশি লাগার পাশাপাশি জ্বালানি খরচ বেড়েছে।

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে চলাচলরত রো রো (বড়) ফেরি কেরামত আলীর মাষ্টার আশরাফুল ইসলাম বলেন, যানবাহন তেমন একটা না থাকায় আমাদের মতো সকল বড় ফেরিগুলো ঘাটে নোঙর করে বসে থাকতে হচ্ছে। রাতের বেলায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে কিছু সবজি ও জরুরি পন্যবাহী গাড়ি নদী পাড়ি দিতে আসায় তখন বড় ফেরিগুলো চালানো হয়। এছাড়া দিনের বেশিরভাগ সময় ছোট ফেরিগুলো চালু রাখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দৌলতদিয়া থেকে পাটুরিয়া নৌপথের দূরত্ব মাত্র ৩ কিলোমিটার। পানির গভীরতা কমে ডুবোচর জেগে ওঠায় সরাসরি ফেরি চলাচলে নিষেধ রয়েছে। বাধ্য হয়ে প্রায় দ্বিগুন পথ ঘুরে আমাদেরকে প্রাকৃতিক চ্যানেল দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। আগে পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়া পৌছতে লাগতো ৩৫ থেকে ৪০ মিনিট এবং দৌলতদিয়া থেকে পাটুরিয়ায় লাগতো ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট। বর্তমানে উভয় ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় বেশি লাগছে। এতে সময় বেশি লাগার সাথে জ্বালানি খরচও অনেক বেড়েছে। অতিরিক্ত কি পরিমান জ্বালানি খরচ হচ্ছে সে সর্ম্পকে তিনি বলতে পারনেনি।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, বর্ষাকালে নদী ভরাট থাকায় পর্যাপ্ত পানি থাকে। ফেরি চলাচলে তেমন কোন সমস্যা হয়না। স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করতে পারে। এই শুষ্ক মৌসুমে প্রতিদিন পানি কমছে। এছাড়া এই নৌপথে ডুবোচর জেগে ওঠায় উপায় না পেয়ে দুই সপ্তাহ ধরে দীর্ঘপথ ঘুরে ফেরি চলাচল করতে হচ্ছে। এই নৌপথে ছোট-বড় মিলে ১৮টি ফেরি থাকলেও প্রয়োজন অনুসারে ফেরি চালানো হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (মেরিন) আহমেদ আলী বলেন, সাধারণত শীত মৌসুমে পানি দ্রুত কমতে থাকে। দ্রুত পানি কমে যাওয়ায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের পাটুরিয়া ঘাটের কাছাকাছি ডুবোচর জেগে উঠেছে। ফলে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার পথ ঘুরে ফেরি চলাচল করছে।