নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে শতবর্ষী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সোনারগাঁ গঙ্গাবাসী ও রামচন্দ্র পোদ্দার ইনস্টিটিউশন মডেল স্কুল এন্ড কলেজের দশম শ্রেণীর ছাত্র মিরাজুল ইসলাম রিফাত গত বুধবার সকালে সকাল ৯টার দিকে কোচিংয়ে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে আর ফিরে আসেনি।
রিফাতের মা নাছিমা আক্তার বৃহস্পতিবার সোনারগাঁ থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছেন। তিনি জানান, ছেলের আকস্মিক নিখোঁজ হওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরিবার ও আত্মীয় স্বজন ছেলের খোঁজে আশেপাশের এলাকায়, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়স্বজনদের বাড়ি ঘুরেও তাকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছেন না।
রিফাতের বাবা আবুল কালাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমাদের ছোট্ট ছেলে রিফাত, সে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল, আমার সন্তান রিফাত এখন নিখোঁজ। সে স্কুল ব্যাগ নিয়ে বের হয়েছিল কিন্তু আর ফিরে আসেনি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বাড়িতে রেখে গেছে। আমরা আতঙ্কিত ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত।” এ ঘটনায় বাবা-মা আত্মীয়-স্বজন ভেঙে পড়েছেন। ছেলের চিন্তায় বাবা-মা বাকরুদ্ধ। রিফাত নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার পর থেকে মায়ের নাওয়া-খাওয়া ঘুম একেবারে নেই বললেই চলে।
রিফাতের নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষক, বন্ধুবান্ধব ও স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে রিফাতকে খুঁজে বের করার জন্য মাঠে নামেছেন। গ্রামের সম্ভাব্য প্রত্যেক স্থান, আশেপাশের রাস্তা, বাজার, নদীর পাড়, অদূরের গলিপথ—সব জায়গায় খোঁজাখুজি চলছে।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিবুল্লাহ বলেন, “স্কুলছাত্রের নিখোঁজ হওয়ায় আমরা সাধারণ ডায়েরী গ্রহণ করেছি। রিফাতের সব বিবরণ বিভিন্ন থানায় পাঠানো হয়েছে এবং তাকে উদ্ধারের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আমরা আশাবাদী, খুব দ্রুত রিফাতকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া যাবে।”
রিফাতের নিখোঁজ হওয়ার এই ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়রা মানসিকভাবে স্তব্ধ ও উদ্বিগ্ন। স্কুল সহপাঠী, শিক্ষক ও বন্ধুরা এই নিখোঁজের খবরে অশ্রুপাত করেছেন। পুরো এলাকার মানুষ ছোট্ট রিফাতের সুস্থ ফিরে আসার জন্য দোয়া করছেন।
এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক শোকের ছায়া পড়েছে। অনেকেই পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন এবং স্থানীয় প্রশাসনকে রিফাতকে দ্রুত উদ্ধার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
রিফাতের পরিবারের কান্না আর উদ্বেগের মাঝেই সোনারগাঁয়ের মানুষরা প্রার্থনা করছেন, “রিফাত, তুমি যেন আবার নিরাপদে ফিরে আসো।”
এমআর/সবা


























