১০:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভূরুঙ্গামারীতে বিএস কোয়ার্টারগুলোর বেহাল দশা

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে কৃষিখাতে উন্নয়নের জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি
কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও তাদের কর্মস্ধসঢ়;হলে থাকার জন্য নির্মিত (তৎকালীন বিএস
কোয়ার্টার ) কোয়ার্টারগুলো সংস্কারের অভাবে বেহাল অবস্থা হয়ে পড়েছে। এমনকি
কোয়ার্টারগুলোর খালি জায়গায় স্ধসঢ়;হানীয় লোকজন দখল করে ঘর তুলে ব‍্যাবসা করছেন। ওই পূরানা
কোয়ার্টারগুলোতে পরিবার পরিজন নিয়ে থাকার অনুপযোগী হওয়ায় উপসহকারি কৃষি
কর্মকর্তারা তাদের নিজ কর্মস্ধসঢ়;হলে থাকতে পারছেন না। ফলে কৃষকরা তাদের কাঙ্খিত সেবা থেকে
বঞ্চিত হচ্ছেন। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬২ সনের দিকে তৎকালিন সরকার এই ভবনগুলো
প্রথমে সিড গোডাউন (বীজাগার) হিসেবে নির্মান করে। পরবর্তীতে এই কর্মসুচি বাতিল
করা হলে সরকার সিড গোডাউনগুলো ১৯৮০ সালের দিকে ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মরত কৃষি বিভাগের
মাঠ পর্যায়ের কর্মী-ব্লক সুপার ভাইজারদের (বর্তমানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা) বসবাসের
জন্য উপজেলার ১০ ইউনিয়নে ১৩ টি কোয়ার্টার নির্মাণ করা হয়। উপ-সহকারী কৃষি
কর্মকর্তারা এসব কোয়ার্টারে থাকতেন। এই ব্যয়বহুল কোয়ার্টারগুলো মাঠ পর্যায়ে কর্মরত
তৎকালীন কৃষি বিভাগের ব্লক সুপার ভাইজারদের (বিএস) আবাসিক এবং অফিস হিসেবে
ব্যবহারের কথা থাকলেও বর্তমানে বেশির ভাগ কোয়ার্টারই থাকার অনুপযোগী হওয়ায় উপসহকারী
কৃষি কর্মকর্তাগণ সেখানে বসবাস করছেন না। কোয়ার্টারগুলোতে বসবাস না করা, সংরক্ষণ ও
সংস্কারের অভাবে এগুলো এখন অনেকটাই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে তাদের নিকট থেকে
দ্রুত কৃষি বিষয়ে পরামর্শ গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষকরা। বর্তমানে
ভবনগুলো অনেকটাই ফাঁকা ও নির্জন হওয়ায় সেখানে বিভিন্ন জীবজন্তুর আশ্রয়স্থল, মাদক ও
অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের ওইসব কোয়ার্টারগুলোতে
তদারকী না থাকায় চুরি হয়ে গেছে এগুলোর দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র। কিছু ভবন হেলে
ভেঙ্গে পড়েছে। তাই এসব ভবন থেকে ইট খুলে নেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে
উপজেলার চরভূরুঙ্গামারী বিএস কোয়ার্টারটি ভেঙ্গে হেলে পড়েছে। কোয়ার্টারটির ১২ শতক
জায়গার মধ‍্যে তিন থেকে চার শতক জায়গায় সেই সময়ে নির্মিত ভবনটি পরিত‍্যাক্ত অবস্ধসঢ়;হায় পড়ে
থাকলেও বাকী থাকা ফাঁকা জায়গা দখলে নিয়ে ঘর উঠিয়ে ব‍্যাবসা করছেন স্ধসঢ়;হানীয়রা। বর্তমান
সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দৃশ্যমান হলেও বিএস কোয়ার্টারগুলোর কোন সংস্কার বা মেরামত
না হওয়ায় উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের নিকট থেকে কৃষি বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ ও অন‍্যান‍্য
সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা। দীর্ঘদিনেও এগুলোর সংস্কার না হওয়ায় রাতের আধারে ভবনের ইট ও
অন‍্যান‍্য জিনিসপত্র চুরি হয়ে গেছে। এমনকি পরিত‍্যাক্ত কোন কোন কোয়ার্টার নেশাখোরদের
আস্তানা বানানো হয়েছে। ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের বিএস কোয়ার্টারের পরিত‍্যাক্ত খালি জায়গায়
ঘর উঠিয়ে ব‍্যাবসা করছেন আবুল হোসেন নামের জনৈক ব‍্যাক্তি তার সাথে এবিষয়ে কথা হলে
তিনি বলেন,জায়গা ফাঁকা আছে তাই ঘর উঠিয়ে ব‍্যাবসা করছি।সরকারের যখন প্রয়োজন হবে
তখন জায়গা ফাকা করে দিব। চরভূরুঙ্গামারী ও পাইকেরছড়া ইউনিয়নের কৃষক শফি উদ্দিন ও দুলাল
বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও ভালো বীজ সরবরাহের লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের থাকার কথা
থাকলেও এসব কোয়ার্টারগুলোতে বিএস (উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা) না থাকায় আমাদের
কৃষি বিষয়ে পরামর্শ নিতে কষ্ট করে উপজেলা সদরে যেতে হয়। না হয় ফোন করতে হয়।অনেক সময়
তাদেরকে ফোন করলেও পাওয়া যায়না। তাই আমরা বিএস কোয়ার্টারগুলোর দ্রুত সংস্কার চাই। এ
ব্যাপারে চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নে দায়িত্বে থাকা উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল আকন্দ ও
আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, বর্তমানে কোয়ার্টার
গুলোতে বসবাসের অনুপযোগী হওয়ায় সেখানে পরিবার পরিজন নিয়ে থাকা সম্ভব হচ্ছেনা। উপজেলা
কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, এসব ভবন সংস্কার ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই এর সমাধান পাওয়া
যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূরুঙ্গামারীতে বিএস কোয়ার্টারগুলোর বেহাল দশা

আপডেট সময় : ০৩:৪৫:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে কৃষিখাতে উন্নয়নের জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি
কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও তাদের কর্মস্ধসঢ়;হলে থাকার জন্য নির্মিত (তৎকালীন বিএস
কোয়ার্টার ) কোয়ার্টারগুলো সংস্কারের অভাবে বেহাল অবস্থা হয়ে পড়েছে। এমনকি
কোয়ার্টারগুলোর খালি জায়গায় স্ধসঢ়;হানীয় লোকজন দখল করে ঘর তুলে ব‍্যাবসা করছেন। ওই পূরানা
কোয়ার্টারগুলোতে পরিবার পরিজন নিয়ে থাকার অনুপযোগী হওয়ায় উপসহকারি কৃষি
কর্মকর্তারা তাদের নিজ কর্মস্ধসঢ়;হলে থাকতে পারছেন না। ফলে কৃষকরা তাদের কাঙ্খিত সেবা থেকে
বঞ্চিত হচ্ছেন। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬২ সনের দিকে তৎকালিন সরকার এই ভবনগুলো
প্রথমে সিড গোডাউন (বীজাগার) হিসেবে নির্মান করে। পরবর্তীতে এই কর্মসুচি বাতিল
করা হলে সরকার সিড গোডাউনগুলো ১৯৮০ সালের দিকে ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মরত কৃষি বিভাগের
মাঠ পর্যায়ের কর্মী-ব্লক সুপার ভাইজারদের (বর্তমানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা) বসবাসের
জন্য উপজেলার ১০ ইউনিয়নে ১৩ টি কোয়ার্টার নির্মাণ করা হয়। উপ-সহকারী কৃষি
কর্মকর্তারা এসব কোয়ার্টারে থাকতেন। এই ব্যয়বহুল কোয়ার্টারগুলো মাঠ পর্যায়ে কর্মরত
তৎকালীন কৃষি বিভাগের ব্লক সুপার ভাইজারদের (বিএস) আবাসিক এবং অফিস হিসেবে
ব্যবহারের কথা থাকলেও বর্তমানে বেশির ভাগ কোয়ার্টারই থাকার অনুপযোগী হওয়ায় উপসহকারী
কৃষি কর্মকর্তাগণ সেখানে বসবাস করছেন না। কোয়ার্টারগুলোতে বসবাস না করা, সংরক্ষণ ও
সংস্কারের অভাবে এগুলো এখন অনেকটাই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে তাদের নিকট থেকে
দ্রুত কৃষি বিষয়ে পরামর্শ গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষকরা। বর্তমানে
ভবনগুলো অনেকটাই ফাঁকা ও নির্জন হওয়ায় সেখানে বিভিন্ন জীবজন্তুর আশ্রয়স্থল, মাদক ও
অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের ওইসব কোয়ার্টারগুলোতে
তদারকী না থাকায় চুরি হয়ে গেছে এগুলোর দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র। কিছু ভবন হেলে
ভেঙ্গে পড়েছে। তাই এসব ভবন থেকে ইট খুলে নেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে
উপজেলার চরভূরুঙ্গামারী বিএস কোয়ার্টারটি ভেঙ্গে হেলে পড়েছে। কোয়ার্টারটির ১২ শতক
জায়গার মধ‍্যে তিন থেকে চার শতক জায়গায় সেই সময়ে নির্মিত ভবনটি পরিত‍্যাক্ত অবস্ধসঢ়;হায় পড়ে
থাকলেও বাকী থাকা ফাঁকা জায়গা দখলে নিয়ে ঘর উঠিয়ে ব‍্যাবসা করছেন স্ধসঢ়;হানীয়রা। বর্তমান
সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দৃশ্যমান হলেও বিএস কোয়ার্টারগুলোর কোন সংস্কার বা মেরামত
না হওয়ায় উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের নিকট থেকে কৃষি বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ ও অন‍্যান‍্য
সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা। দীর্ঘদিনেও এগুলোর সংস্কার না হওয়ায় রাতের আধারে ভবনের ইট ও
অন‍্যান‍্য জিনিসপত্র চুরি হয়ে গেছে। এমনকি পরিত‍্যাক্ত কোন কোন কোয়ার্টার নেশাখোরদের
আস্তানা বানানো হয়েছে। ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের বিএস কোয়ার্টারের পরিত‍্যাক্ত খালি জায়গায়
ঘর উঠিয়ে ব‍্যাবসা করছেন আবুল হোসেন নামের জনৈক ব‍্যাক্তি তার সাথে এবিষয়ে কথা হলে
তিনি বলেন,জায়গা ফাঁকা আছে তাই ঘর উঠিয়ে ব‍্যাবসা করছি।সরকারের যখন প্রয়োজন হবে
তখন জায়গা ফাকা করে দিব। চরভূরুঙ্গামারী ও পাইকেরছড়া ইউনিয়নের কৃষক শফি উদ্দিন ও দুলাল
বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও ভালো বীজ সরবরাহের লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের থাকার কথা
থাকলেও এসব কোয়ার্টারগুলোতে বিএস (উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা) না থাকায় আমাদের
কৃষি বিষয়ে পরামর্শ নিতে কষ্ট করে উপজেলা সদরে যেতে হয়। না হয় ফোন করতে হয়।অনেক সময়
তাদেরকে ফোন করলেও পাওয়া যায়না। তাই আমরা বিএস কোয়ার্টারগুলোর দ্রুত সংস্কার চাই। এ
ব্যাপারে চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নে দায়িত্বে থাকা উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল আকন্দ ও
আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, বর্তমানে কোয়ার্টার
গুলোতে বসবাসের অনুপযোগী হওয়ায় সেখানে পরিবার পরিজন নিয়ে থাকা সম্ভব হচ্ছেনা। উপজেলা
কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, এসব ভবন সংস্কার ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই এর সমাধান পাওয়া
যাবে।