০২:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তরল অক্সিজেন ট্যাংকের পাশেই জ্বলছে চুলো, চলছে ধুমপান!

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটের সামনে স্থাপন করা হয়েছে ৬ হাজার লিটারের হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলার তরল অক্সিজেন ট্যাংক। জণগনকে সচেতন করতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের চারপাশে সতর্কতামূলক বিলবোর্ড লাগিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বিলবোর্ডে লেখা আছে ‘সাবধান তীব্র দাহ্য পদার্থ। আশেপাশে চলাচল ও ধুমপান সম্পূর্ণ নিষেধ’। এছাড়াও আশেপাশে ইজিবাইক রিকসা না রাখার জন্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষে নির্দেশনার বিলবোর্ড রয়েছে। কিন্তু কে শোনে কার কথা। সেখানে যে যার মতো চলাচল করছে। ট্যাংক স্থাপনের জায়গার প্রাচীরের গাঁয়ে গড়ে ওঠা টোং দোকানে দাঁড়িয়ে যে যার মতো সিগারেট জালাচ্ছেন। আবার পাশেই হাসপাতালের গেট দখল করে খাবারের হোটেল বসানো হয়েছে।  সেখানে হরহামেশা চুলো জ্বালানো হচ্ছে৷ যা ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠছে। কেননা যে কোন সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, ২০২১ সালের মে মাসে হাসপাতালে করোনা রোগীর চাপের কারণে অক্সিজেনের চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ বেশি। রোগীদের নিরবিচ্ছিন্নভাবে অক্সিজেন সুবিধা দিতে ২৯ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়  হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলার অক্সিজেন ট্যাংক। এই ট্যাংকে ৬ হাজার লিটার তরল অক্সিজেন রিপিল (ভরা)  করা যায়। হাসপাতালের দায়িত্বরত মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও অবেদন (অ্যানেস্থেসিয়া) বিভাগের অধ্যাপক ডা. আহসান হাবিব জানান, তরল অক্সিজেন হলো  দাহ্যপদার্থ। এরপাশে আশেপাশে সিগারেট সেবন করা অত্যন্ত ঝুঁকি। কারণ দাহ্য পদার্থে খুব সহজে আগুন ধরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যে কারণে ট্যাংকের চারপাশে সতর্কতামূলক বিলবোর্ড লাগানো হয়েছে। এরপরেও মানুষ সচেতন না হওয়ার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ট্যাংকের পাশে রয়েছে হাসপাতালে প্রবেশের প্রথম গেট। তরল অক্সিজেন ট্যাংক স্থাপনের পর গেটটি বন্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। বন্ধ গেটের সামনের এলাকায় মোটরসাইকেল রাখে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা। সেখানে দাঁড়িয়ে অনেকেই ধুমপান করে। রাতের বেলার চিত্র আরও ভয়াবহ। ট্যাংক প্রাচীরের গাঁ ঘেষে বসানো হয় চা পান সিগারেটের একাধিক অস্থায়ী টোং দোকান। সতর্কতামূলক বিলবোর্ডকে তোয়াক্কা না করে অনেকে চা খাওয়ার পর সিগারেট জালায়। কঠোর লকডাউনের মধ্যে ভোর রাত পর্যন্ত ওই সব দোকান খোলা রাখা হয়। হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, দাহ্যপদার্থ বিপদজনক হওয়ায়  তরল অক্সিজেন ট্যাংকের চারপাশে প্রাচীর দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিগত দিনে চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো কোন সাড়া মেলেনি।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হারুন অর রশিদ বলেন,তরল অক্সিজেন সিলিন্ডারের পাশে ধুমপান করার বিষয়ে তিনি শুনেছেন। সতর্কতামূলক বিলবোর্ড থাকার পরও ধুমপান করা হলো মানুষের এক প্রকার অসচেতনতা। এই বিষয়ে তিনি সকলকে সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়েছেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

তরল অক্সিজেন ট্যাংকের পাশেই জ্বলছে চুলো, চলছে ধুমপান!

আপডেট সময় : ০১:০৪:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৪
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটের সামনে স্থাপন করা হয়েছে ৬ হাজার লিটারের হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলার তরল অক্সিজেন ট্যাংক। জণগনকে সচেতন করতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের চারপাশে সতর্কতামূলক বিলবোর্ড লাগিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বিলবোর্ডে লেখা আছে ‘সাবধান তীব্র দাহ্য পদার্থ। আশেপাশে চলাচল ও ধুমপান সম্পূর্ণ নিষেধ’। এছাড়াও আশেপাশে ইজিবাইক রিকসা না রাখার জন্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষে নির্দেশনার বিলবোর্ড রয়েছে। কিন্তু কে শোনে কার কথা। সেখানে যে যার মতো চলাচল করছে। ট্যাংক স্থাপনের জায়গার প্রাচীরের গাঁয়ে গড়ে ওঠা টোং দোকানে দাঁড়িয়ে যে যার মতো সিগারেট জালাচ্ছেন। আবার পাশেই হাসপাতালের গেট দখল করে খাবারের হোটেল বসানো হয়েছে।  সেখানে হরহামেশা চুলো জ্বালানো হচ্ছে৷ যা ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠছে। কেননা যে কোন সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, ২০২১ সালের মে মাসে হাসপাতালে করোনা রোগীর চাপের কারণে অক্সিজেনের চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ বেশি। রোগীদের নিরবিচ্ছিন্নভাবে অক্সিজেন সুবিধা দিতে ২৯ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়  হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলার অক্সিজেন ট্যাংক। এই ট্যাংকে ৬ হাজার লিটার তরল অক্সিজেন রিপিল (ভরা)  করা যায়। হাসপাতালের দায়িত্বরত মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও অবেদন (অ্যানেস্থেসিয়া) বিভাগের অধ্যাপক ডা. আহসান হাবিব জানান, তরল অক্সিজেন হলো  দাহ্যপদার্থ। এরপাশে আশেপাশে সিগারেট সেবন করা অত্যন্ত ঝুঁকি। কারণ দাহ্য পদার্থে খুব সহজে আগুন ধরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যে কারণে ট্যাংকের চারপাশে সতর্কতামূলক বিলবোর্ড লাগানো হয়েছে। এরপরেও মানুষ সচেতন না হওয়ার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ট্যাংকের পাশে রয়েছে হাসপাতালে প্রবেশের প্রথম গেট। তরল অক্সিজেন ট্যাংক স্থাপনের পর গেটটি বন্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। বন্ধ গেটের সামনের এলাকায় মোটরসাইকেল রাখে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা। সেখানে দাঁড়িয়ে অনেকেই ধুমপান করে। রাতের বেলার চিত্র আরও ভয়াবহ। ট্যাংক প্রাচীরের গাঁ ঘেষে বসানো হয় চা পান সিগারেটের একাধিক অস্থায়ী টোং দোকান। সতর্কতামূলক বিলবোর্ডকে তোয়াক্কা না করে অনেকে চা খাওয়ার পর সিগারেট জালায়। কঠোর লকডাউনের মধ্যে ভোর রাত পর্যন্ত ওই সব দোকান খোলা রাখা হয়। হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, দাহ্যপদার্থ বিপদজনক হওয়ায়  তরল অক্সিজেন ট্যাংকের চারপাশে প্রাচীর দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিগত দিনে চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো কোন সাড়া মেলেনি।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হারুন অর রশিদ বলেন,তরল অক্সিজেন সিলিন্ডারের পাশে ধুমপান করার বিষয়ে তিনি শুনেছেন। সতর্কতামূলক বিলবোর্ড থাকার পরও ধুমপান করা হলো মানুষের এক প্রকার অসচেতনতা। এই বিষয়ে তিনি সকলকে সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়েছেন।