১০:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

নানা জটিলতায় কমছে জনশক্তি রপ্তানি

সংগৃহীত

  • আগ্রহ হারাচ্ছে নিয়োগকর্তারা, সুযোগ নিচ্ছে অন্য দেশ
  • অভিবাসন খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার অঙ্গীকার নতুন প্রতিমন্ত্রীর

স্বাধীনতা পরবর্তী জনশক্তি রপ্তানির রেকর্ড হয়েছিল গত ২০২৩ সালে। এ সময়ে ১৩ লাখ ৫ হাজার ৪৫৩ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয় বিভিন্ন দেশে। কিন্তু শ্রমিক রপ্তানির সেই গতি হঠাৎই কমে গেছে। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ধারাবাহিকভাবে এই সংখ্যা কমেছে বলে জানা গেছে। এজন্য নিয়োগ অর্ডার অনুমোদনে বিলম্বসহ বাংলাদেশি দূতাবাস ও মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের নানা জটিলতাকে দায়ী করছেন রিক্রুটিং এজেন্সি মালিকরা। আর এই সুযোগে নিয়োগকর্তারা বাংলাদেশি কর্মীতে নিরুৎসাহিত হওয়ায় অন্যদেশ সেই সুযোগ নিচ্ছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানির গতি বাড়াতে সব জটিলতা কাটাতে মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশি কর্মসংস্থান সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী গত বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ৪ হাজার ৫১৩ জনের বৈদেশিক কর্মসংস্থান হয়েছিল। অথচ চলতি বছরের জানুয়ারির ৩০ তারিখ পর্যন্ত মাত্র ৮৩ হাজার ৬৫৫ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। মাসটির বাকি একদিনসহ বিস্তারিত তথ্য দুই-একদিনের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে বলে গতকাল বিএমইটির ঊর্ধ্বতন পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. নাসিরুজ্জামান সবুজ বাংলাকে জানিয়েছেন।
এর আগে গত বছরের নভেম্বরে যেখানে ১ লাখ ১০ হাজার ৪১৩ জন কর্মী বিদেশে গিয়েছিলেন, সেখানে ডিসেম্বরে তা কমে আসে ৯৫ হাজার ১৯৭ জনে। পরপর দুই মাসে শ্রমিক রপ্তানির এই চিত্রকে উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন রপ্তানিকারক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রিক্রুটিং এজেন্সি মালিকদের সংগঠন-বায়রার জয়েন্ট সেক্রেটারি এম টিপু সুলতান গতকাল সবুজ বাংলাকে জানান, বিদেশি নিয়োগ কর্তাদের কাছ থেকে আনা নিয়োগ অনুমোদনে ধীরগতির কারণে কর্মী পাঠাতে বিলম্ব হচ্ছে। অন্যান্য দেশ যেখানে দূতাবাসের সত্যায়ন ছাড়াই কর্মী পাঠাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশের দূতাবাস থেকে সত্যায়নের নিয়ম সম্প্রতি কার্যকর করেছে। এতে নিয়োগ কর্তারা ঝামেলার কারণে অন্যদেশ থেকে কর্মী নিতে আগ্রহী হচ্ছে। আর এই সুযোগ নিচ্ছে ভারত, ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশ। এসব দেশ থেকে তিন চার সপ্তাহেই লোক নিতে পারছে তারা।

এছাড়া বাংলাদেশের এজেন্সিগুলোকে কর্মী পাঠাতে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায়ও বিলম্ব হয়। যে কারণে কর্মী পাঠানোর গতি কমে গেছে বলে মনে করেন তিনি। টিপু সুলতান বলেন, দেশে বর্তমানে বেকার ও বিদেশে যেতে আগ্রহী কর্মীর সংখ্যা বাড়ছে। তাই কোনো জটিলতা না থাকলে এ বছর ১৫ লাখের বেশি কর্মী বিদেশে পাঠানো সম্ভব। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বাস্তবমুখী পদক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
জানা গেছে, গ্রীস, রোমানিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কর্মীর চাহিদা পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু অধিকাংশ দেশের দূতাবাস বাংলাদেশে না থাকায় দিল্লি থেকে প্রক্রিয়া করতে হয়। এ ক্ষেত্রে ভারতের ভিসা সহজে না পাওয়া যাওয়ায় সেখানেও বিড়ম্বনায় পড়তে হয় রপ্তানিকারকদের। পাশাপাশি আগের এক মাসের স্থলে দুই মাসের ট্রেনিং সিস্টেম চালু করায় সৌদিতে নারী শ্রমিক যাওয়ার সংখ্যাও অনেক কমছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে অধিক সংখ্যক কর্মী প্রেরণ করে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির চেষ্টা করার ঘোষণা দিয়েছেন নব নিযুক্ত প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী, এমপি। নিজ মন্ত্রণালয়ে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, প্রবাসীদের সেবা প্রদানে সবাইকে আন্তরিক হতে হবে। দেশাত্মবোধ ও সেবকের মনোভাব নিয়ে প্রবাসীদের সেবা দিতে হবে।
সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করে অভিবাসন খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, সবার সহযোগিতায় প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। অভিবাসন খাতের বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু) জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে গত বছর বিভিন্ন দেশে গেছেন ১৩ লাখের বেশি কর্মী। দেশের ইতিহাসে এক বছরে এটি সর্বোচ্চ। আগের বছরের তুলনায় বিদেশে কর্মসংস্থান বেড়েছে ১৩ শতাংশ।
তবে প্রবাসী আয় বেড়েছে মাত্র ২ দশমিক ৮৮ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির দাবি- দেশের মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিলে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়নি। আবার পুরুষ কর্মী বাড়লেও আগের বছরের তুলনায় নারী কর্মী কমেছে ২৭ শতাংশ।

সূত্রমতে, আগের মতো গত বছরও সবচেয়ে বেশি কর্মী গেছেন সৌদি আরব। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে মালয়েশিয়া। তবে প্রতি বছর সৌদি আরব থেকে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এলেও গত বছর সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে।

নানা জটিলতায় কমছে জনশক্তি রপ্তানি

আপডেট সময় : ০৫:৫১:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • আগ্রহ হারাচ্ছে নিয়োগকর্তারা, সুযোগ নিচ্ছে অন্য দেশ
  • অভিবাসন খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার অঙ্গীকার নতুন প্রতিমন্ত্রীর

স্বাধীনতা পরবর্তী জনশক্তি রপ্তানির রেকর্ড হয়েছিল গত ২০২৩ সালে। এ সময়ে ১৩ লাখ ৫ হাজার ৪৫৩ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয় বিভিন্ন দেশে। কিন্তু শ্রমিক রপ্তানির সেই গতি হঠাৎই কমে গেছে। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ধারাবাহিকভাবে এই সংখ্যা কমেছে বলে জানা গেছে। এজন্য নিয়োগ অর্ডার অনুমোদনে বিলম্বসহ বাংলাদেশি দূতাবাস ও মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের নানা জটিলতাকে দায়ী করছেন রিক্রুটিং এজেন্সি মালিকরা। আর এই সুযোগে নিয়োগকর্তারা বাংলাদেশি কর্মীতে নিরুৎসাহিত হওয়ায় অন্যদেশ সেই সুযোগ নিচ্ছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানির গতি বাড়াতে সব জটিলতা কাটাতে মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশি কর্মসংস্থান সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী গত বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ৪ হাজার ৫১৩ জনের বৈদেশিক কর্মসংস্থান হয়েছিল। অথচ চলতি বছরের জানুয়ারির ৩০ তারিখ পর্যন্ত মাত্র ৮৩ হাজার ৬৫৫ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। মাসটির বাকি একদিনসহ বিস্তারিত তথ্য দুই-একদিনের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে বলে গতকাল বিএমইটির ঊর্ধ্বতন পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. নাসিরুজ্জামান সবুজ বাংলাকে জানিয়েছেন।
এর আগে গত বছরের নভেম্বরে যেখানে ১ লাখ ১০ হাজার ৪১৩ জন কর্মী বিদেশে গিয়েছিলেন, সেখানে ডিসেম্বরে তা কমে আসে ৯৫ হাজার ১৯৭ জনে। পরপর দুই মাসে শ্রমিক রপ্তানির এই চিত্রকে উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন রপ্তানিকারক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রিক্রুটিং এজেন্সি মালিকদের সংগঠন-বায়রার জয়েন্ট সেক্রেটারি এম টিপু সুলতান গতকাল সবুজ বাংলাকে জানান, বিদেশি নিয়োগ কর্তাদের কাছ থেকে আনা নিয়োগ অনুমোদনে ধীরগতির কারণে কর্মী পাঠাতে বিলম্ব হচ্ছে। অন্যান্য দেশ যেখানে দূতাবাসের সত্যায়ন ছাড়াই কর্মী পাঠাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশের দূতাবাস থেকে সত্যায়নের নিয়ম সম্প্রতি কার্যকর করেছে। এতে নিয়োগ কর্তারা ঝামেলার কারণে অন্যদেশ থেকে কর্মী নিতে আগ্রহী হচ্ছে। আর এই সুযোগ নিচ্ছে ভারত, ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশ। এসব দেশ থেকে তিন চার সপ্তাহেই লোক নিতে পারছে তারা।

এছাড়া বাংলাদেশের এজেন্সিগুলোকে কর্মী পাঠাতে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায়ও বিলম্ব হয়। যে কারণে কর্মী পাঠানোর গতি কমে গেছে বলে মনে করেন তিনি। টিপু সুলতান বলেন, দেশে বর্তমানে বেকার ও বিদেশে যেতে আগ্রহী কর্মীর সংখ্যা বাড়ছে। তাই কোনো জটিলতা না থাকলে এ বছর ১৫ লাখের বেশি কর্মী বিদেশে পাঠানো সম্ভব। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বাস্তবমুখী পদক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
জানা গেছে, গ্রীস, রোমানিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কর্মীর চাহিদা পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু অধিকাংশ দেশের দূতাবাস বাংলাদেশে না থাকায় দিল্লি থেকে প্রক্রিয়া করতে হয়। এ ক্ষেত্রে ভারতের ভিসা সহজে না পাওয়া যাওয়ায় সেখানেও বিড়ম্বনায় পড়তে হয় রপ্তানিকারকদের। পাশাপাশি আগের এক মাসের স্থলে দুই মাসের ট্রেনিং সিস্টেম চালু করায় সৌদিতে নারী শ্রমিক যাওয়ার সংখ্যাও অনেক কমছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে অধিক সংখ্যক কর্মী প্রেরণ করে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির চেষ্টা করার ঘোষণা দিয়েছেন নব নিযুক্ত প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী, এমপি। নিজ মন্ত্রণালয়ে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, প্রবাসীদের সেবা প্রদানে সবাইকে আন্তরিক হতে হবে। দেশাত্মবোধ ও সেবকের মনোভাব নিয়ে প্রবাসীদের সেবা দিতে হবে।
সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করে অভিবাসন খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, সবার সহযোগিতায় প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। অভিবাসন খাতের বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু) জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে গত বছর বিভিন্ন দেশে গেছেন ১৩ লাখের বেশি কর্মী। দেশের ইতিহাসে এক বছরে এটি সর্বোচ্চ। আগের বছরের তুলনায় বিদেশে কর্মসংস্থান বেড়েছে ১৩ শতাংশ।
তবে প্রবাসী আয় বেড়েছে মাত্র ২ দশমিক ৮৮ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির দাবি- দেশের মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিলে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়নি। আবার পুরুষ কর্মী বাড়লেও আগের বছরের তুলনায় নারী কর্মী কমেছে ২৭ শতাংশ।

সূত্রমতে, আগের মতো গত বছরও সবচেয়ে বেশি কর্মী গেছেন সৌদি আরব। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে মালয়েশিয়া। তবে প্রতি বছর সৌদি আরব থেকে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এলেও গত বছর সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে।