১১:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কাঁঠালিয়াবাসির প্রাণের দাবি টেকসই বেড়িবাঁধ ও হাসপাতাল

স্বাধীনতার পর দেশে যত নির্বাচন হয়েছে জনপ্রতিনিধিরা কেবল প্রতিশ্রুতির ফুুলঝুড়ি নিয়ে হাজির হন। প্রতিবারই প্রতিশ্রুতি দেয় পরে আর তা মনে রাখেন না। এ কারনে উপকূলীয় জেলা ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া জনপদ অবহেলিত রয়ে গেছে। আমরা এবার জনপ্রতিনিধির প্রতিশ্রুতির বাস্তায়ন চাই। বর্তমান এমপির কাছে এমটাই প্রত্যাশা করলেন, কাঁঠালিয়া উপজেলার কচুয়া গ্রামের প্রান্তিক কৃষক মো. আব্দুল মজিদ।
এলাকাবাসি জানান, বিষখালী নদীতে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, উপজেলা সদরে একটি হাসপাতাল স্থাপনের দাবী দীর্ঘদিনের। নির্বাচিত হওয়ার পর আর কথা রাখেনি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর শ্রতিশ্রুতি ছিল বিষখালী নদীতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে কাঁঠালিয়ার জনপদকে বন্যা ও জলোচ্ছাসের হাত থেকে সুরক্ষা করা হবে। সেই সাথে উপজেলা সদরে একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা । ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবং ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছিল একই প্রতিশ্রুতি।
অথচ তিনবারই এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু সেইসব জনগুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির আর কোনও বাস্তায়ন করেননি কেউ। ফলে কাঁঠালিয়াবাসি উন্নয়নের কোনও সুফল পায়নি।
এবার দ্ধাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সেইসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আশায় নৌকার প্রার্থীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছেন কাঁঠালিয়াবাসি। এ নিয়ে টানা চারবার এ আসনে নৌকার প্রার্থী বিজয়ী হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষের আশা আকাঙ্খাও বেশি। এর আগের সরকারেরও কোন প্রতিনিধিরা উপজেলাবাসীর জনগুরুত্বপুর্ন দাবিগুলো পুরণ করেননি। ফলে প্রতিবারই জনগণের আশা ও সম্ভাবনা ফিকে হয়ে যায়। জেলা শহর থেকে সবচেয়ে দুরত্ব ও দরিদ্রতম উপজেলা এটি। নদী ও কৃষি জীবন জীবিকার উৎস মানুষেরা দুর্যোগে লড়াই করে টিকে আছে।
বর্তমান নির্বাচিত এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্যারিস্টার এম শাহজাহান ওমর বীরউত্তমের কাছে উপজেলাবাসীর প্রাণের দাবী, বিষখালী নদীতে নদী শাসন করে জলবায়ু সহিষ্ণু টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং উপজেলা সদরে একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা ।
উপজেলা পরিসংখ্যান দপ্তর সূত্রে জানাগেছে, কাঁঠালিয়া ১৫২দশমিক ২ বর্গকিলোমিটারের নদীতীরবর্তী জনপদ। এখানে ১লক্ষ ২৪ হাজার ৪৭২ জন মানুষের বাস। এ উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ৯৪ হাজার ৯৪জন। ইউনিয়নের সংখ্যা ৬টি। উপজেলার উত্তরে রাজাপুর, দক্ষিণে বগুনার বামনা, পশ্চিমে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া ও ভান্ডারিয়া উপজেলা এবং পুর্বে বিষখালী নদী বেষ্টিত।
উপজেলার পরিষদ বিষখালী নদী তীরঘেঁষা। নদীতীরে ভাঙন তীব্র। কিন্তু চার যুগেরও বেশি সময় বিষখালী নদীতে টেক সই বেড়িবাঁধ নির্মাণ হয়নি। ফলে নদী তীরবর্তী গ্রামের জনগনের দুর্ভোগের শেষ নেই। বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় এলাকার মানুষের ক্ষোভেরও অন্ত নেই। ঘূর্ণিঝড় সিডর, আইলা, ইয়াস ও আম্ফানে জেলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ উপজেলা কাঁঠালিয়া। বাঁধ না থাকায় প্রতি বছর জলোচ্ছাসে ফসল ও মৎস্য সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বেড়িবাঁধ না থাকায় সিডরে এ উপজেলায় ২১ জনের প্রানহানি ঘটেছিল। এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ঘূর্ণিঝড় আইলা ও সর্বশেষ আম্ফান আঘাতহানে এখানে। কোন প্রানহানির ঘটনা না ঘটলেও বিষখালী নদীতে অতিরিক্ত পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভেসে গেছে জেলেদের জাল, নৌকা। তলিয়ে গেছে মাছের ঘের ও ছোট-বড় পুকুর। নষ্ট হয়ে গেছে কাঁচা আধা কাঁচা ঘর-বাড়ি ও ফসলের ক্ষেত। নিয়মিত জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি। বিষখালী নদীর নোনা পানিতে আমুয়া, হেতালবুনিয়া, মশাবুনিয়া, চিংড়াখালী, জয়খালী, কাঁঠালিয়া সদর, বড় কাঠালিয়া, কচুয়া, রঘুয়ারচর, রঘুয়ারদড়ি চর, তালগাছিয়া, আওরাবুনিয়া ও জাঙ্গালিয়াসহ প্রায় ১০টি গ্রাম প্রতিদিন স্বাভাবিক জোয়ারে ফসলি মাঠ প্লাবিত হচ্ছে।  সিডরের সময় পানিতে  ঘর বাড়ী, গবাধি পশু গরু-বাছুর ভেসে যায়। এবং কৃষির ব্যাপক ক্ষতি হয়। প্রতি বছর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যায়। এতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।
উপজেলাবাসির দীর্ঘ দিনের দাবি টেকসই বাঁধটি নির্মাণ
অপর দিকে উপজেলা সদরে একটি হাসপাতাল স্থাপন করে জনসাধারণকে নিরাপদে রাখার কথা জনপ্রতিনিধিদের। কিন্তু আজও অবহেলিত এ জনপদের উপজেলা সদরে কোন হাসপাতাল নেই। উপজেলা সদরসহ ৫ ইউনিয়নের দের লক্ষাধিক মানুষ মৌলিক অধিকার চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত । উপজেলার একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দুরত্বে আমুয়া ইউনিয়নের শেষ প্রান্তে হলতা নদীর পাড়ে অবস্থিত। আওরাবুনিয়া ও চেঁচরী রামপুর ইউনিয়ন থেকে এ হাসপাতালের দুরত্ব ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটারেরও বেশি। ফলে একটি মাত্র ইউনিয়ন ছাড়া বাকি পাঁচটি ইউনিয়নের মানুষ এ হাসপাতালের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উপজেলা সদরে শুধুমাত্র বহিঃ বিভাগের চিকিৎসা পদ্ধতির একটি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। দরিদ্র এলাকা হওয়ায় এখানে ব্যক্তি মালিকানায় কোন বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক গড়ে ওঠেনি। সদরে দিলিপ চন্দ্র হাওলাদার নামের একজন এমবিবিএস ডাক্তার প্রাইভেট প্রাকটিস করেন। তিনি অনেক সময় ব্যক্তিগত কাজে উপজেলার বাহিরে গেলে উপজেলা সদর ডাক্তার শুন্য থাকে।
উপজেলার মহিষকান্দি গ্রামের মানসুরা বেগম জানান, হাসপাতাল দুরে থাকায় যেদিন ডাক্তার দেখাইতে যাই, সেদিন আর রান্না বা কোন কাজ করা সম্ভব হয়না। ডাক্তার দেখাইয়া বাড়ী ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে যায়।
উপজেলার সুজন সভাপতি প্রবীন সাংবাদিক অধ্যাপক মো.আবদুল হালিম জানান, উপজেলা সীমানায় জালের মত অসংখ্য খাল থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশ দূর্গম। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দুরে হওয়ায় স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তির সাধারন মানুষ সেবা পেতে কষ্টসাধ্য ও ব্যয় বহুল। এছাড়া এলাকার গর্ভবতী মা, জখমী ও হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীরা এ্যাম্বুলেন্স সেবা থেকে বঞ্চিত।
উপজেলা সদরের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি ১ একর ১৫ শতাংশ জমির ওপর অবস্থিত। এখানে এখনও এক একর জমি খালি রয়েছে। এখানেই একটি প্রশ্বস্ত আধুনিক মানের হাসপাতাল গড়ে তোলা সম্ভব।
কচুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম অমিরুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় দের লক্ষাধিক মানুষের বাস। যেখানে চিকিৎসা সেবা মানুষের দোড়গোরায় সেখানে চিকিৎসা সেবায় ভোগান্তিতে এ এলাকার মানুষ। এ এলাকার মানুষ বাধ্য হয়ে পাশের উপজেলায় গিয়ে চিকিৎসাসেবা করাতে হয় এর চেয়ে দুরাবস্থা আর কি হতে পারে।
উপজেলা সদরের উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা ডাঃ জুবায়দা আফসানা জানান, আমরাও চাই সদরে একটি হাসপাতাল হোক। এ ব্যাপারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে নবনির্বাচাতি এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্যারিস্টার এম শাহজাহান ওমর বীর উত্তম বলেন, চিকিৎসা সেবা পাওয়া মানুষের মৌলিক অধিকার। উপজেলা সদরে একটি আধুনিক হাসপাতাল ও বিষখালী নদীতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের চেষ্টা করবো।

কাঁঠালিয়াবাসির প্রাণের দাবি টেকসই বেড়িবাঁধ ও হাসপাতাল

আপডেট সময় : ০৫:৫৪:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
স্বাধীনতার পর দেশে যত নির্বাচন হয়েছে জনপ্রতিনিধিরা কেবল প্রতিশ্রুতির ফুুলঝুড়ি নিয়ে হাজির হন। প্রতিবারই প্রতিশ্রুতি দেয় পরে আর তা মনে রাখেন না। এ কারনে উপকূলীয় জেলা ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া জনপদ অবহেলিত রয়ে গেছে। আমরা এবার জনপ্রতিনিধির প্রতিশ্রুতির বাস্তায়ন চাই। বর্তমান এমপির কাছে এমটাই প্রত্যাশা করলেন, কাঁঠালিয়া উপজেলার কচুয়া গ্রামের প্রান্তিক কৃষক মো. আব্দুল মজিদ।
এলাকাবাসি জানান, বিষখালী নদীতে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, উপজেলা সদরে একটি হাসপাতাল স্থাপনের দাবী দীর্ঘদিনের। নির্বাচিত হওয়ার পর আর কথা রাখেনি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর শ্রতিশ্রুতি ছিল বিষখালী নদীতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে কাঁঠালিয়ার জনপদকে বন্যা ও জলোচ্ছাসের হাত থেকে সুরক্ষা করা হবে। সেই সাথে উপজেলা সদরে একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা । ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবং ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছিল একই প্রতিশ্রুতি।
অথচ তিনবারই এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু সেইসব জনগুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির আর কোনও বাস্তায়ন করেননি কেউ। ফলে কাঁঠালিয়াবাসি উন্নয়নের কোনও সুফল পায়নি।
এবার দ্ধাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সেইসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আশায় নৌকার প্রার্থীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছেন কাঁঠালিয়াবাসি। এ নিয়ে টানা চারবার এ আসনে নৌকার প্রার্থী বিজয়ী হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষের আশা আকাঙ্খাও বেশি। এর আগের সরকারেরও কোন প্রতিনিধিরা উপজেলাবাসীর জনগুরুত্বপুর্ন দাবিগুলো পুরণ করেননি। ফলে প্রতিবারই জনগণের আশা ও সম্ভাবনা ফিকে হয়ে যায়। জেলা শহর থেকে সবচেয়ে দুরত্ব ও দরিদ্রতম উপজেলা এটি। নদী ও কৃষি জীবন জীবিকার উৎস মানুষেরা দুর্যোগে লড়াই করে টিকে আছে।
বর্তমান নির্বাচিত এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্যারিস্টার এম শাহজাহান ওমর বীরউত্তমের কাছে উপজেলাবাসীর প্রাণের দাবী, বিষখালী নদীতে নদী শাসন করে জলবায়ু সহিষ্ণু টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং উপজেলা সদরে একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা ।
উপজেলা পরিসংখ্যান দপ্তর সূত্রে জানাগেছে, কাঁঠালিয়া ১৫২দশমিক ২ বর্গকিলোমিটারের নদীতীরবর্তী জনপদ। এখানে ১লক্ষ ২৪ হাজার ৪৭২ জন মানুষের বাস। এ উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ৯৪ হাজার ৯৪জন। ইউনিয়নের সংখ্যা ৬টি। উপজেলার উত্তরে রাজাপুর, দক্ষিণে বগুনার বামনা, পশ্চিমে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া ও ভান্ডারিয়া উপজেলা এবং পুর্বে বিষখালী নদী বেষ্টিত।
উপজেলার পরিষদ বিষখালী নদী তীরঘেঁষা। নদীতীরে ভাঙন তীব্র। কিন্তু চার যুগেরও বেশি সময় বিষখালী নদীতে টেক সই বেড়িবাঁধ নির্মাণ হয়নি। ফলে নদী তীরবর্তী গ্রামের জনগনের দুর্ভোগের শেষ নেই। বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় এলাকার মানুষের ক্ষোভেরও অন্ত নেই। ঘূর্ণিঝড় সিডর, আইলা, ইয়াস ও আম্ফানে জেলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ উপজেলা কাঁঠালিয়া। বাঁধ না থাকায় প্রতি বছর জলোচ্ছাসে ফসল ও মৎস্য সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বেড়িবাঁধ না থাকায় সিডরে এ উপজেলায় ২১ জনের প্রানহানি ঘটেছিল। এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ঘূর্ণিঝড় আইলা ও সর্বশেষ আম্ফান আঘাতহানে এখানে। কোন প্রানহানির ঘটনা না ঘটলেও বিষখালী নদীতে অতিরিক্ত পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভেসে গেছে জেলেদের জাল, নৌকা। তলিয়ে গেছে মাছের ঘের ও ছোট-বড় পুকুর। নষ্ট হয়ে গেছে কাঁচা আধা কাঁচা ঘর-বাড়ি ও ফসলের ক্ষেত। নিয়মিত জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি। বিষখালী নদীর নোনা পানিতে আমুয়া, হেতালবুনিয়া, মশাবুনিয়া, চিংড়াখালী, জয়খালী, কাঁঠালিয়া সদর, বড় কাঠালিয়া, কচুয়া, রঘুয়ারচর, রঘুয়ারদড়ি চর, তালগাছিয়া, আওরাবুনিয়া ও জাঙ্গালিয়াসহ প্রায় ১০টি গ্রাম প্রতিদিন স্বাভাবিক জোয়ারে ফসলি মাঠ প্লাবিত হচ্ছে।  সিডরের সময় পানিতে  ঘর বাড়ী, গবাধি পশু গরু-বাছুর ভেসে যায়। এবং কৃষির ব্যাপক ক্ষতি হয়। প্রতি বছর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যায়। এতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।
উপজেলাবাসির দীর্ঘ দিনের দাবি টেকসই বাঁধটি নির্মাণ
অপর দিকে উপজেলা সদরে একটি হাসপাতাল স্থাপন করে জনসাধারণকে নিরাপদে রাখার কথা জনপ্রতিনিধিদের। কিন্তু আজও অবহেলিত এ জনপদের উপজেলা সদরে কোন হাসপাতাল নেই। উপজেলা সদরসহ ৫ ইউনিয়নের দের লক্ষাধিক মানুষ মৌলিক অধিকার চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত । উপজেলার একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দুরত্বে আমুয়া ইউনিয়নের শেষ প্রান্তে হলতা নদীর পাড়ে অবস্থিত। আওরাবুনিয়া ও চেঁচরী রামপুর ইউনিয়ন থেকে এ হাসপাতালের দুরত্ব ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটারেরও বেশি। ফলে একটি মাত্র ইউনিয়ন ছাড়া বাকি পাঁচটি ইউনিয়নের মানুষ এ হাসপাতালের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উপজেলা সদরে শুধুমাত্র বহিঃ বিভাগের চিকিৎসা পদ্ধতির একটি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। দরিদ্র এলাকা হওয়ায় এখানে ব্যক্তি মালিকানায় কোন বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক গড়ে ওঠেনি। সদরে দিলিপ চন্দ্র হাওলাদার নামের একজন এমবিবিএস ডাক্তার প্রাইভেট প্রাকটিস করেন। তিনি অনেক সময় ব্যক্তিগত কাজে উপজেলার বাহিরে গেলে উপজেলা সদর ডাক্তার শুন্য থাকে।
উপজেলার মহিষকান্দি গ্রামের মানসুরা বেগম জানান, হাসপাতাল দুরে থাকায় যেদিন ডাক্তার দেখাইতে যাই, সেদিন আর রান্না বা কোন কাজ করা সম্ভব হয়না। ডাক্তার দেখাইয়া বাড়ী ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে যায়।
উপজেলার সুজন সভাপতি প্রবীন সাংবাদিক অধ্যাপক মো.আবদুল হালিম জানান, উপজেলা সীমানায় জালের মত অসংখ্য খাল থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশ দূর্গম। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দুরে হওয়ায় স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তির সাধারন মানুষ সেবা পেতে কষ্টসাধ্য ও ব্যয় বহুল। এছাড়া এলাকার গর্ভবতী মা, জখমী ও হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীরা এ্যাম্বুলেন্স সেবা থেকে বঞ্চিত।
উপজেলা সদরের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি ১ একর ১৫ শতাংশ জমির ওপর অবস্থিত। এখানে এখনও এক একর জমি খালি রয়েছে। এখানেই একটি প্রশ্বস্ত আধুনিক মানের হাসপাতাল গড়ে তোলা সম্ভব।
কচুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম অমিরুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় দের লক্ষাধিক মানুষের বাস। যেখানে চিকিৎসা সেবা মানুষের দোড়গোরায় সেখানে চিকিৎসা সেবায় ভোগান্তিতে এ এলাকার মানুষ। এ এলাকার মানুষ বাধ্য হয়ে পাশের উপজেলায় গিয়ে চিকিৎসাসেবা করাতে হয় এর চেয়ে দুরাবস্থা আর কি হতে পারে।
উপজেলা সদরের উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা ডাঃ জুবায়দা আফসানা জানান, আমরাও চাই সদরে একটি হাসপাতাল হোক। এ ব্যাপারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে নবনির্বাচাতি এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্যারিস্টার এম শাহজাহান ওমর বীর উত্তম বলেন, চিকিৎসা সেবা পাওয়া মানুষের মৌলিক অধিকার। উপজেলা সদরে একটি আধুনিক হাসপাতাল ও বিষখালী নদীতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের চেষ্টা করবো।