১০:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ভালুকায় ঘর হারিয়ে দুই সন্তান নিয়ে খোলা আকাশের নিচে হ্যাপি আক্তার

ময়মনসিংহের ভালুকায় বসতঘর হারিয়ে হ্যাপি আক্তার (৪০) নামে এক অসহায় নারী তার দুই সন্তান নিয়ে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়েছেন। ভাঙা বসতঘরের ওপর দাঁড়িয়ে প্রতিটা মূহুর্ত কাটছে তাদের অনিশ্চয়তা আর আতঙ্কের মধ্য দিয়ে।
জানা যায়, সুনামগঞ্জের মেয়ে হ্যাপী আক্তার। মা মারা যাওয়ার পর ঢাকায় এসে চাকরি নেন গার্মেন্টে। এরই মাঝে করেন বিয়ে এক মেয়ে রেখে হন বিধবা। সেখানে পরিচয় হয় ভালুকা উপজেলার নয়নপুর গ্রামের দুই সন্তানের বাবা আব্দুল বারেকের সঙ্গে। এদিকে বারেকের প্রথম স্ত্রী সুফিয়া খাতুন ছিলেন সৌদি আরবে। পরে বারেক হ্যাপীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। হয় বিয়ে। পরে ঢাকাতেই থেকেছেন বহুদিন তারা। সেখানে আরও দুটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয় হ্যাপীর ঘরে। গত ৬ মাস আগে স্বামী বারেক সন্তানসহ তাকে নিয়ে চলে আসেন নয়নপুর গ্রামে। স্বামীর জায়গা জেনে চাকরি থেকে জমানো টাকা দিয়ে নির্মাণ করেন ঘর। সেই ঘরে ভালই কাটছিল হ্যাপী আক্তারের। ঝড় শুরু হয় তখন, যখন সতীন বিদেশ থেকে বাড়ি আসে। গত এক মাস হয় বারেকের প্রথম স্ত্রী অর্থাৎ হ্যাপির সতীন সুফিয়া খাতুন সৌদি থেকে দেশে আসেন। এসেই হ্যাপি আক্তারকে ওই জায়গা থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র আঁটতে থাকেন। খুঁজতে থাকেন সুযোগ। গত রবিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) হ্যাপি আক্তার মিলে চলে গেলে সেই সুযোগে সতীন সুফিয়া খাতুন হ্যাপির বসতঘর ভেঙে তছনছ করে ফেলে।

ভুক্তভোগী হ্যাপি আক্তার বলেন, ছেলেকে নয়নপুর রেখে ঢাকায় গামেন্টে চাকরি করতাম। পরে আমার শাশুড়ি বলল আমার এক কাঠা জমি আছে সেখানে বাড়ি করে তুমি থাকবা, ঢাকায় থাকার দরকার নেই। পরে সেই ভরসাই এখানে চলে আসি। আমার চাকরির ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে এই ঘরটি তৈরি করি।
তিনি আরও বলেন, আমি ডিউটি থেকে বাড়ি ফিরে দেখি আমার সতীন আমার ঘর ভেঙে ফেলেছে। ঘর ভাঙার পর রাতে মেয়েটাকে পাশের বাড়িতে রাখি। দুই ছেলেকে নিয়ে এই খোলা আকাশের নিচে রাত্রি যাপন করছি। দুই সন্তান নিয়ে এখন অনিশ্চয়তার মাঝে কাটছে তার দিনরাত্রি।
অভিযুক্ত সুফিয়া খাতুন বলেন, এই জমি আমার শাশুড়ির কাছ থেকে আমি কিনে রেখেছি। আমার হ্যাপীকে ঘর উঠিয়ে নিতে বললে, সে নেয়নি। পরে আমি ভেঙে
দিয়েছি।
ঘর ভেঙে দিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে সুফিয়া খাতুন বলেন, আমার জমি আমি দখল নিয়েছি। স্বামী আব্দুল বারেক বলেন, বড় বউ ছোট বউয়ের ঘরটি ভেঙে দিয়ে ঠিক করেনি। আব্দুল বারেকের ছোট ভাই আব্দুল বাছেদ বলেন, ঘর ভেঙে দিয়ে ঘটনাটি মানবিক দৃষ্টিতে খুব খারাপই হয়েছে।
হ্যাপী আক্তার বলেন, চক্রান্ত করে আমার শাশুড়ির কাছ থেকে সুফিয়া খাতুন জমি নিয়ে গেছে। কিন্তু আমার ঘরটি ভেঙে দিয়ে দারুন ক্ষতি করেছে। এই সন্তানদের

নিয়ে থাকতে খুব কষ্ট হচ্ছে। সন্তানদের নিয়ে আমি যাতে থাকতে পারি, সবাই মিলে তার একটা ব্যবস্থা করে দিলেই আমি খুশি।

ভালুকায় ঘর হারিয়ে দুই সন্তান নিয়ে খোলা আকাশের নিচে হ্যাপি আক্তার

আপডেট সময় : ০৫:৪৮:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

ময়মনসিংহের ভালুকায় বসতঘর হারিয়ে হ্যাপি আক্তার (৪০) নামে এক অসহায় নারী তার দুই সন্তান নিয়ে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়েছেন। ভাঙা বসতঘরের ওপর দাঁড়িয়ে প্রতিটা মূহুর্ত কাটছে তাদের অনিশ্চয়তা আর আতঙ্কের মধ্য দিয়ে।
জানা যায়, সুনামগঞ্জের মেয়ে হ্যাপী আক্তার। মা মারা যাওয়ার পর ঢাকায় এসে চাকরি নেন গার্মেন্টে। এরই মাঝে করেন বিয়ে এক মেয়ে রেখে হন বিধবা। সেখানে পরিচয় হয় ভালুকা উপজেলার নয়নপুর গ্রামের দুই সন্তানের বাবা আব্দুল বারেকের সঙ্গে। এদিকে বারেকের প্রথম স্ত্রী সুফিয়া খাতুন ছিলেন সৌদি আরবে। পরে বারেক হ্যাপীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। হয় বিয়ে। পরে ঢাকাতেই থেকেছেন বহুদিন তারা। সেখানে আরও দুটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয় হ্যাপীর ঘরে। গত ৬ মাস আগে স্বামী বারেক সন্তানসহ তাকে নিয়ে চলে আসেন নয়নপুর গ্রামে। স্বামীর জায়গা জেনে চাকরি থেকে জমানো টাকা দিয়ে নির্মাণ করেন ঘর। সেই ঘরে ভালই কাটছিল হ্যাপী আক্তারের। ঝড় শুরু হয় তখন, যখন সতীন বিদেশ থেকে বাড়ি আসে। গত এক মাস হয় বারেকের প্রথম স্ত্রী অর্থাৎ হ্যাপির সতীন সুফিয়া খাতুন সৌদি থেকে দেশে আসেন। এসেই হ্যাপি আক্তারকে ওই জায়গা থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র আঁটতে থাকেন। খুঁজতে থাকেন সুযোগ। গত রবিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) হ্যাপি আক্তার মিলে চলে গেলে সেই সুযোগে সতীন সুফিয়া খাতুন হ্যাপির বসতঘর ভেঙে তছনছ করে ফেলে।

ভুক্তভোগী হ্যাপি আক্তার বলেন, ছেলেকে নয়নপুর রেখে ঢাকায় গামেন্টে চাকরি করতাম। পরে আমার শাশুড়ি বলল আমার এক কাঠা জমি আছে সেখানে বাড়ি করে তুমি থাকবা, ঢাকায় থাকার দরকার নেই। পরে সেই ভরসাই এখানে চলে আসি। আমার চাকরির ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে এই ঘরটি তৈরি করি।
তিনি আরও বলেন, আমি ডিউটি থেকে বাড়ি ফিরে দেখি আমার সতীন আমার ঘর ভেঙে ফেলেছে। ঘর ভাঙার পর রাতে মেয়েটাকে পাশের বাড়িতে রাখি। দুই ছেলেকে নিয়ে এই খোলা আকাশের নিচে রাত্রি যাপন করছি। দুই সন্তান নিয়ে এখন অনিশ্চয়তার মাঝে কাটছে তার দিনরাত্রি।
অভিযুক্ত সুফিয়া খাতুন বলেন, এই জমি আমার শাশুড়ির কাছ থেকে আমি কিনে রেখেছি। আমার হ্যাপীকে ঘর উঠিয়ে নিতে বললে, সে নেয়নি। পরে আমি ভেঙে
দিয়েছি।
ঘর ভেঙে দিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে সুফিয়া খাতুন বলেন, আমার জমি আমি দখল নিয়েছি। স্বামী আব্দুল বারেক বলেন, বড় বউ ছোট বউয়ের ঘরটি ভেঙে দিয়ে ঠিক করেনি। আব্দুল বারেকের ছোট ভাই আব্দুল বাছেদ বলেন, ঘর ভেঙে দিয়ে ঘটনাটি মানবিক দৃষ্টিতে খুব খারাপই হয়েছে।
হ্যাপী আক্তার বলেন, চক্রান্ত করে আমার শাশুড়ির কাছ থেকে সুফিয়া খাতুন জমি নিয়ে গেছে। কিন্তু আমার ঘরটি ভেঙে দিয়ে দারুন ক্ষতি করেছে। এই সন্তানদের

নিয়ে থাকতে খুব কষ্ট হচ্ছে। সন্তানদের নিয়ে আমি যাতে থাকতে পারি, সবাই মিলে তার একটা ব্যবস্থা করে দিলেই আমি খুশি।